ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

গত ৩০ আগষ্ট জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের সাড়াজাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস প্রায় দেড় লাখ নতুন কেবলের সঙ্গে একটি বার্তা প্রকাশ করেছে। আর বার্তাটি ছিল ‘জামায়াতে ইসলামী: দ্য টরটয়েজ, নট দ্য হেয়ার’। আর বার্তাটি গত ৩ জানুয়ারী ২০১০ ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নিকোলাস ডিন পাঠিয়েছিলেন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে বিডিনিউজ২৪.কম উইকিলিকসের এই বার্তাটি প্রকাশ করে। কি ছিল ঐ তার বার্তায় ? আপনাদের অবগতির জন্য সূত্র: উইকিলিকস

যেটা গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ বিডিনিউজ২৪.কম প্রকাশ করেছে সেই রিপোর্টটি দেখুন এখানে।

এখন আসি আমার কথায়। এ দলটির জন্ম মুলত ১৯৪১ সালে। যার প্রতিষ্ঠাতা বিতর্কিত মাওলানা মওদুদী। এই মওদুদী যেমন পাকিস্তান জামায়াতের দর্শন ও আদর্শ, তেমনী বাংলাদেশেও জামায়াতের দর্শন ও আদর্শ। তার তাফসির ও লেখা পুস্তিকা হল তাদের নীতিমালার মত। তাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি (যার পূর্ব নাম ছিল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ; যার অর্থ ছিল অনেকটা বাংলাদেশের শাখা, আর আসলেই তাই) মূলত বাংলাদেশে রাজনীতি করলেও ওরা অনুসরন করে মওদুদীকে। যিনি যিনি ছিলেন একজন বিতর্কিত ব্যাক্তি। যাকে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের হত্যায় প্ররোচনা যোগানোয় পাকিস্তান সরকার মৃত্যুদন্ডও দিয়েছিল।

১৯৭১ সালে এ দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। প্রচার করতে থাকে যারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তারা হল দেশদ্রোহী, কাফের। পাকিস্তানকে রক্ষা প্রত্যেকটি নাগরিকের ঈমানী দায়ীত্ব। কিন্তু আজ তারা যে দেশকে অস্বীকার করেছিল, যারা এদেশের স্বাধীনতা কামীদের দেশদ্রোহী ও কাফের বলে সম্মোধন করেছিল। এদেশে যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল তাদের ও স্বাধীনতা কামীদের মা-বোন-স্ত্রীদেরকে যারা ধর্ষণ জায়েজ ঘোষনা করেছিল মওদুদীর ফরমুলা অনুসারে। সেই তারা আবার বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বিশ্বাসঘাতক জিয়ার হাত ধরে এদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশ নেয়। এর পর চলে তাদের শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধির কাজ। ব্যবসা -বানিজ্যে হয়ে উঠে হৃষ্ট-পুষ্ট। আর যা প্রতিষ্ঠা পায় আমাদের দাড়াই। কারন আমরাই ওদের ইসলামী ব্যাংককে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করছি, ওদের হাসপাতাল, রিয়েল স্টেট ব্যবসা সহ বিভিন্ন ব্যবসা, কচিং সেন্টার ব্যবসা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকল প্রতিষ্ঠান আজ প্রতিষ্ঠিত। যা ধীরে ধীরে আমাদের হাত ধরে আজ ম্যাচুউরিটি পেয়েছে। এ জন্য দায়ী কারা ? অবশ্যই আমরা ও আমাদের সরকার সমুহ।

যারা এদেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করেনা, স্বাধীনতা মানেনা তারা কোন অধিকারে এদেশে রাজনীতি করে, রাজনৈতিক দল গঠন করে? যে দল স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধীতা করেছিল, সে দল কেমন করে এই স্বাধীন দেশে রাজনীতি করার সুযোগ পায় ? তাদের মার্কাটা দেখুন বিচার বিভাগের মনোগ্রাম “দাড়িপাল্লা”। কি চমৎকার আমাদের জাতীসত্বা ও আমাদের অহংকার। এ দলটি শুধু জামাতে ইসলামী নামেই রাজনীতিতে নেই। কিছুদিন আগে নিষিদ্ধ হওয়া জেএমবি ছিল এদেরই শাখা। যার প্রমান বাংলা ভাই। তাদের নেতা নিজামী প্রথমে বলেছিল বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি, তার পর আবার বলে যে তিনি নাকি বলেন নই। কিন্তু টিভি মিডিয়া তার দুটো বক্তব্যই পাশাপাশি দেখিয়েছিল। কত বড় মিথ্যাবাদী !

৭১-এ পাকিস্তান ও আমেরিকার সাথে মিশে এ দল গনহত্যা চালিয়েছিল এ দেশে। আমিরিকা তাদের প্রধান বন্ধু। এর পর যখন তারা এদেশে রাজনীতি করতে শুরু করল তখন দেখা গেল তারা আমেরিকার নামও শুনতে পারেনা ! নাম শুনে তওবা পড়ত। এখনও প্রকাশ্যে তাই করে। যা ১০০ ভাগ ভন্ডামী। কারন এ আমেরিকার ফর্মূলাতেই তারা রাজনীতি করছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকা একজন লাদেন তৈরী করে আজ আফগানিস্তানকে ধ্বংস করেছে। ঠিকি এ দেশের লাদেন গ্রুপ হবে এ জামায়াত ও ইসলামের নামে ভন্ডামীর রাজনীতি নিয়ে যারা এগিয়ে চলছে তারা । যেমন: ২০০১ সালের দিকে একদিন আখাউড়াতে আমি দেখলাম আমিনীর সমর্থকরা মিছিল করছে। যার শ্লোগান ছিল, “আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান।” একবার ভাবুন স্বাধীন দেশে এ জাতীয় শ্লোগান, কতটা সাহস নিয়ে করতে পারে ! ঐ সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল এবং আমিনীর ইসলামী ঐক্যজোট সরকারের শরিক ছিল।

তাই এটা ষ্পষ্ট যে, বিএনপির হাত ধরে আমেরিকার বন্ধু এসব তথাকথিত ইসলামী দল গুলো মানুষকে অন্ধকারে রেখে একদিন এ দেশকে তালেবান নামক জঙ্গীদের অভায়রন্য তৈরী করে নতুন এক আফগানের জন্ম দিবে, যা অতীত ও বর্তমান অবস্থা ও ঘনটার প্রবাহ বিশ্লেষন করলেই বুঝা যায়।

এখন প্রশ্ন হল, এর জন্য দায়ী কে ? আমি বলব আওয়ামীলিগ ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে যারা নিজেদেরকে প্রচার করেন, তারাই এর জন্য দায়ী। কারন ঐ গ্রুপ যদি তাদের দায়ীত্ব জাতীর প্রতি সঠিক ভাবে পালন করত, দেশের স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল দেশের জনগনকে দিত। নিজেদের আখের ঘোছাতে ব্যস্ত না থাকত তাহলে অবশ্যই আজ এ অবস্থার সৃষ্টি হতনা।

আওয়ামীলিগের ব্যর্থতা এর জন্য বিরাট অংশে দায়ী। এদেশের জনগন আওয়ামীলিগকেই এদের স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির দল বলে মানে এবং জানে । কারন ঐ দল স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে নেতৃত্ব দিয়েছিল। তারা দেশ স্বাধীন হবার পর এ পর্যন্ত (বর্তমান মেয়াদ নিয়ে) তিন বার ক্ষমতায় গিয়েছে। এর মধ্যে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু ছিলেন এক টার্ম (১৯৭২-৭৫) ও তার কন্যা শেখ হাসিনা দুই টার্ম (১৯৯৬-২০০০এবং ২০০৮-চলমান)। জাতী অনেক কিছুই তাদের কাছে আশা করেছিল। কিন্তু পায়নি। আমি বঙ্গবন্ধুর সময়টাকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছিনা। কারন সে সময় যুদ্ধ-বিধ্বস্ত একটা দেশের অবস্থা কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। নিন্দুকেরা অনেক কিছুই বলেন, ঐ বিষয়ের আমি অন্য কোন লেখায় না হয় লিখব ।

তবে আমি শেখ হাসিনার সরকারকেই বলব জামাতের উত্থানের সূবর্ন সরকার। কারন, শেখ হাসিনার সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের অসততা, অদক্ষতা, ঘাপটি মেরে থাকা সুবিধাবাদীদের দলে ঢুকানো ও তাদের মন্ত্রী ও এমপি হ্ওয়ার সুযোগ করে দেয়া, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে অবহেলা করা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অতি-কথন জাতীকে হতাশ করেছে। বিশেষ করে ১৯৯৬-২০০০ টার্মে মানুষ বিরক্ত হয়ে বিএনপিকে ভোট দেয়। (যদিও সেটা ছিল লতিফুরের প্রহসনের নির্বাচন। কারন আমি ঐ নির্বাচনে একজন পর্যবেক্ষক ছিলাম। নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছিল, নীরপেক্ষ হয়েছিল এটা কোন মতেই মেনে নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে আওয়ামীলিগের ভুল যে ছিল, তাও সত্য।)

আবার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে সেই পুরনো ভুল পথে ও পরাজয়ের কাছ হতে কিছু না শিখেই একই রাস্তায় হাটছে ঐ দলটি ও বর্তমান সরকার। আর এ হতাশার শুন্য স্থান দখল করেছে রাজাকার জামাত ও তাদের প্রধান মিত্র বিএনপি। বিএনপি ক্ষমতায় আসা, বিএনপি কর্তৃক জামাতকে প্রতিষ্ঠিত করা সব কিছুর জন্য পরোক্ষভাবে আওয়ামীলিগই দায়ী।

যেমন: বর্তমান সরকারের সবচেয়ে ব্যর্থ মন্ত্রী হলেন বানিজ্য মন্ত্রী। তিনি দ্রব্য মূল্যকে সহনীয় রাখতেতো পারেনই নাই, উল্টো বেফাস কথা বলে দল ও সরকারকে দেশবাসীর প্রতিপক্ষ হিসাবে দাড় করিয়েছেন। এছাড়া অর্থমন্ত্রীর শেয়ার বাজার সম্পর্কে নেতীবাচক কথা বার্তা এবং সর্বশেষ যোগা-যোগ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও পদত্যাগের দাবী। যা সরাকারের জন্য মোটেই ভাল নয়। কিন্তু সরকারে উচ্চ মহল এ ব্যাপারে খুব চিন্তিত মনে হয়না। যার প্রমাণ স্বয়ং প্রধান মন্ত্রীকে যখন দেখী উল্টো ও বেফাস কথা বলতে। সত্যিই তখন খুব কষ্ট লাগে এবং ভবিষৎ নিয়ে সংকিত হই।

সংকিত হবার কারন আছে বৈকি! কারন এ সরকারের ব্যর্থতাই আগামীতে বিএনপি -জামাত রাজাকার ক্ষমতায় আসতে সহজ করে দিবে। আর তারা ক্ষমতায় আসলে বর্তমানে চলমান “যুদ্ধাপরাধীর বিচার” বাতিল হয়ে যাবে। যেমন হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর হত্যার মামলা। জারি হতে পারে আর একটা অধ্যাদেশ। যে অধ্যাদেশের মাধ্যমে জামাত সম্পূর্ন নির্দোষ ঘোষিত হবে, আর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা হবেন কোনঠাসা। এমনকি তাদের কাউকে কাউকে যুদ্ধাপরাধীও বানানো হতে পারে। এটা বিএনপি করতে পারবে। যার বহু প্রমাণ পূর্বে আছে।