ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

খালেদা জিয়া

অবশেষে খালেদা তার আসল মনোভব ও চেহারা প্রকাশ করলেন। এতদিন তার বক্তব্য ও অবস্থান তিনি ধোয়াসা করে রেখেছিলেন। আর আওয়ামীলিগ বার বার প্রত্যেকটি আন্দোলনের মধ্যে যুদ্ধাপরাধী তথা মানবতা বিরোধীদের বাঁচানো ও তার দুর্নীতির বরপূত্রকে রক্ষার জন্য রক্ষাই তার সকল আন্দোলন ও সব চেষ্টা এটা আজ জাতীর সামনে পরিস্কার হয়েছে।

তিনি গত ২৭/০৯/২০১১ চারদলের জনসভায় তার মুখোশ উম্মোচন করলেন। তিনি সরাসরি মানবতার শত্রু, ১৯৭১ এ দেশের স্বাধীনতা বিরোধীতা কারীদের প্রকাশ্যে মুক্তি চেয়েছেন। এর মাধ্যমে এতদিন তিনি যে ছায়া হয়ে তাদের মানে জামায়াত-রাজাকার দিয়ে দেশে জঙ্গী ও দাঙ্গা, হরতাল করিয়েছেন তাও পরিস্কার হয়ে গেছে। এমন কি গত১৯/০৯/২০১১ তারিখে ফকিরাপুলে যে জামায়াতী তান্ডব ঘটেছিল তাও যে তার ইশারায় হয়েছিল এটাও পরিস্কার। কারন তিনি চান ইস্যু। আর তা যে কোনভাবেই হোক আর যার মাধ্যমেই আসুক সেটা তার কাছে বিবেচ্য নয়। আর এর সূত্র ধরেই ২২/০৯/২০১১ তারিখে তিনি হরতাল ডেকেছেন অনেকটা তার ব্যাক্তিগত মতামতের ভিত্তিতেই। যা আওয়ামীলিগ দাবী করেছিল একজন সম্পাদক এর জন্য তাকে প্ররোচনা দিয়েছিল। তা খালেদা-আওয়ামীলিগ ও ঐ সম্পাদকই ভালো জানেন। তবে আমি বলব এ সবই খালেদার খেলা। আর এটা গতকালই মানে ২৭/০৯/২০১১ তারিখে পুরোপুরি পরিস্কার করেছেন। এজন্য তাকে ধন্যবাদ।

তিনি গতকাল (২৭/০৯/২০১১) জনসভায় বলেছেন,

“খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীর বিচারের নামে গঠিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালকে দলীয় ট্রাইব্যুনাল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে প্রহসন চলছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমিও চাই। কিন্তু এ বিচারের জন্য যে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, সেটি দলীয় ট্রাইব্যুনাল। এই ট্রাইব্যুনালের বিচার দেশে ও বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না।”
তিনি অবিলম্বে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ দলীয় ও জোটের সব নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করেন।

তিনি জামায়াতের জন্যও একটু কাঁদলেন। তিনি বললেন,

“বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে রাস্তায় মিছিল করতে দেয়া হয় না। কিন্তু কেন? জামায়াত কি এদেশে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল? জামায়াত এদেশের একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। তাদের মিছিল-মিটিং করার স্বাধীনতা রয়েছে।”

তিনি মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মুক্তি চেয়েছেন। এবার আসুন দেখি মতিউর রহমান ওরফে মইত্যা রাজাকার সম্পর্কে ইতিহাস কি বলে।

জনৈক খোন্দকার লুৎফর রহমানের একটি সন্তান এই মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। তার জন্মস্খান হলো গ্রাম-মন্মথপুর, সোনাতলা, পো : বেড়া, থানা : সাঁথিয়া, জেলা : পাবনা। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে কীর্তিকলাপের কল্যাণে বাঙালি জাতির সর্বাধিক ও ভীতিকর শত্রু জামায়াতে ইসলামীর আমির, যিনি বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের বিচারে জেলে আছেন।

১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জামায়াতের এই নেতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে তার যাবতীয় কর্মকাণ্ড অত্যন্ত উৎসাহের, উদ্যমের ও নিষ্ঠার সঙ্গেই পরিচালনা করেন পাকিস্তানি শত্রু বাহিনীর সহায়তায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের, বর্তমানে যার নাম (ইসলামী ছাত্রশিবির, বাংলাদেশ) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন তিনি। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মুক্তিযুদ্ধকে প্রতিহত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নিমর্ল করার জন্য আলবদর বাহিনী নামে এক ভয়াল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলেন তৎকালীন পর্ব পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। এই আলবদর বাহিনীরও প্রধান ছিলেন আর কেউ নন নিজামী নামক মাওলানা সাহেবই।

তার এই বদর বাহিনীর ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধরত বাঙালি জনগোষ্ঠীকে পাকিস্তানি তথা জামায়াতি ব্যাখ্যা মোতাবেক ‘ইসলামী’ জীবনাদর্শে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠীতে রূপান্তরিত করা। আলবদর বাহিনীর নেতারা বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা প্রণয়ন করে এবং তাদেরই নির্দেশে মাওলানা নিজামীর প্রত্যক্ষ এবং অপ্রত্যক্ষ পরিচালনাধীনে ১৯৭১ এর ডিসেম্বরে, মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির আনুষ্ঠানিক বিজয় অর্জনের প্রাক মুহর্তে ঢাকাসহ সারাদেশে শত শত বরেণ্য, দেশপ্রেমিক ও প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীকে নির্মমভাবে হত্যা করে। নিজামীর বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের হত্যার লোমহর্ষক কাহিনী আজতক বাংলাদেশের তাবৎ সংবাদপত্রে ছবি-জীবনীসহ বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়ে আসছে।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম দিকে অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে (আলবদর বাহিনীর প্রধান ক্যাম্প) ইসলামী ছাত্র সংঘ আয়োজিত এক চা-চক্রে প্রধান অতিথির ভাষণে মতিউর রহমান নিজামী নির্লজ্জের মতো বলেছিলেন, ‘সশস্ত্র ভারতীয় অনুপ্রবেশকারী ও তাদের এ দেশীয় বিশ্বস্ত দালালরা (?) যে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে একমাত্র পর্ব পাকিস্তানের যুবকরাই তাদের কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম। ‘যারা ইসলামকে ভালবাসে শুধু তারাই পাকিস্তানকে ভালবাসে’ এবারের উদ্ঘাটিত এ সত্যটি যাতে আমাদের রাজনৈতিক বুদ্ধিজীবীরা ভুলে যেতে না পারেন সেজন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এরপর পরই নির্মমভাবে বাঙালি দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে তাদের সে পরিকল্পনাকে অত্যন্ত নিপুণভাবেই সক্ষম হয়েছিল।

জামায়াতে ইসলামীর দৈনিক সংগ্রামের ১৪ নভেম্বরে প্রকাশিত সংখ্যাটিতে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর লেখা একটি নিবে বলা হয়েছিল, ‘আমাদের পরম সৌভাগ্যই বলতে হবে, দেশপ্রেমিক পাক-বাহিনীর সহযোগিতায় এ দেশের ইসলামপ্রিয় অসম সাহসী তরুণ সমাজ বদর যুদ্ধের স্মৃতিকে অবলম্বন করে পাকিস্তানের সশস্ত্র সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় হিন্দু বাহিনীকে পরাভত করে আলবদর বাহিনী গঠন করেছে। সেদিন আর খুব দরে নয় যে যৌথভাবে তারা হিন্দু-বাহিনীকে পর্যুদস্ত করে হিন্দুস্তানের অস্তিত্বকে খতম করে সারা বিশ্বে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন করবে (সাবাস)। নিজামী ছাহেবের এই সুখস্বপ্ন যে নিতান্তই একটি অর্থহীন দিবাস্বপ্ন মাত্র তা তিলে তিলে প্রত্যেক্ষ করলেও এবং দেশ-বিদেশে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি অত্যন্ত সোচ্চার হয়ে উঠলেও নিজামী ছাহেবরা কিন্তু তা মানতে আজও নারাজ। কারণটি হয়তো বা এই যে, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে এবং অতীতের সব নির্বাচিত অনির্বাচিত সরকারকে এবং তাদের অতীত কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করেই তারা তাবৎ সন্দেহমুক্ত হয়েছে যে, আগামীতেও যারাই ক্ষমতায় আসুক, জামায়াতে ইসলামী বা যুদ্ধাপরাধীদের আদৌ কোন ভয়ের কারণ নেই। তাই তারা এখন মরিয়া।

বস্তুত একদিকে, স্বাধীনতাবিরোধী চারদলীয় নিজমী-খালেদা জোট এবং বর্তমানে আসন্ন মহাজোট গঠন করতে আওয়ামী লীগ যেভাবে মরিয়া উঠে পড়েছে বা প্রকাশ্যেই তারা তা ঘোষণাও করেছে তাতে তাদের মনে কোন ধর্মীয় দল বেআইনি ঘোষণার বা যুদ্ধাপরাধী বিচারের কথা বলুক না কেন, তা যে ওরা কেউ করবে না সেটা বুঝবার মতো ক্ষমতা জামায়াতে ইসলামীর আছে।

যাই হোক, শান্তি কমিটি গঠনের বা আলবদর বাহিনী গঠন করার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যারা যুদ্ধ করেছে তাদের সমলে ধ্বংস করার আহµান সংবলিত নিজামীর ভাষণ ও বিবৃতির বহু বিবরণ ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামে সবিস্তারে ছাপা হয়েছে। যশোরে রাজাকার সদর দপ্তরে সমবেত রাজাকারদের উদ্দেশ করে নিজামী বলেছিল, ‘জাতির [পাকিস্তানের] এ সঙ্কটে বা সঙ্কটজনক এক চরম মুহর্তে প্রত্যেক রাজাকারের উচিত ইমামদারির সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও জাতীয় কর্তব্য অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা এবং ওইসব ব্যক্তিকে খতম করতে হবে যারা সশস্ত্র অবস্খায় পাকিস্তান ও ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।’

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে তার নিজ এলাকাবাসীর হত্যা, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, নির্যাতন ইত্যাদির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। পাবনা জেলার বেড়া থানার বৃশালিখা গ্রামের আমিনুল ইসলাম ডাবলু শহীদ জননী জাহান আরা বেগমের প্রতিষ্ঠিত গণতদন্ত কমিশনকে জানিয়েছিলেন যে, তার পিতা মোহাম্মদ সোহরাব আলীকে নিজামীর নির্দেশেই হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিজামীর নির্দেশেই তাদের এলাকার প্রফুল্ল, পিতা নয়না প্রামাণিক, ভাদু, পিতা ক্ষিতীশ প্রামাণিক, মনু পিতা ফেলু প্রামাণিক এবং ষষ্ঠী প্রামাণিক, পিতা প্রফুল্ল প্রামাণিককে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষ সাক্ষীও রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

১৯৭১-এ ৭ নম্বর সেক্টরের অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুসকে (পিতা মৃত ডা. সৈয়দ আলী ক্ষোলাবাড়িয়া, থানা ও জেলা পাবনা (সাং মাধবপুর) আলবদর, বাহিনীর সদস্যরা ধরে নিয়ে গেলে তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ আল বদরদের ক্যাম্পে ক্যাম্পে অবস্খান করেন। ক্যাম্পে অবস্খানের সময় তিনি সেখানে আলবদর কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও নির্যাতন ইত্যাদির গোপন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে প্রত্যক্ষ করেন। এসব পরিকল্পনা প্রণয়নে মতিউর রহমান নিজামী প্রত্যক্ষভাবে নেতৃত্ব দেন বলে তিনি পরিবর্তীতে জানান। ২৬ নভেম্বর জনৈক সাত্তার রাজাকারের সহযোগিতায় ধুলাউড়ি গ্রামে (পাবনা জেলায় সাঁথিয়া থানাধীন) পাকিস্তানি সৈন্যরা ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে এক রাতে হত্যা করে। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর পরিকল্পনা ও নির্দেশ অনুযায়ী সাত্তার রাজাকার তার কার্যক্রম পরিচালনা করত বলে তিনি জানিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা কুদ্দুস আলবদর বাহিনীর একটি সমাবেশ এবং গোপন বৈঠকে তাদেরই বু বলে ভান করে উপস্খিত ছিলেন বলেও জানান।

এই বৈঠকে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীও উপস্খিত ছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধকে প্রতিহত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সমলে ধ্বংস করার নির্দেশ দেন। বৈঠকে কোথায় কোথায় আওয়ামী লীগ ও মস্কোপন্থি ন্যাপ নেতাদের বাড়িঘর আছে, দোকান-পাট আছে তা চিহ্নিত করা হয়। তিনি আরও জানান, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি ধ্বংস এবং আওয়ামী লীগ ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির নেতাদের শেষ করে ফেলার নির্দেশ জারি করেন। বৈঠকের পরদিনই রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতায় বৃশালিখা গ্রামটি পুরোপুরি অতর্কিতে ঘিরে ফেলা হয়, ব্যাপক গোলাগুলি চালানো হয়, নির্যাতন, লুটতরাজ এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ প্রভৃতি করে ভয়াবহ এক ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনা করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধা কুদ্দুস আরও জানান, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী তার নিজ গ্রামের বটেশ্বর সাহা নামক এক তরুণ মুক্তিযোদ্ধাকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। নিজামীর বিরুদ্ধে প্রায় অনুরূপ অভিযোগ এনেছেন সাঁথিয়া থানার মিরপুর গ্রামের মোহাম্মদ শাজাহান আলী, পিতা জামাল উদ্দিন। যুদ্ধের সময় হঠাৎ রাজাকারদের হাতে ধরা পড়লে আরও কয়েকজন আটক মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে তার গলায়ও ছুরি চালানো হয়েছিল। একই সঙ্গে আটক অন্যদের জবাই করে হত্যা করতে সক্ষম হলেও শাজাহান আলী ঘটনাচক্রে বেঁচে যান। কিন্তু তার সহযোদ্ধা দারা, চাঁদ, মুসলেম উদ্দিন, আখতার উদ্দিন, শাজাহান প্রমুখদের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে গরু জবাই করার লম্বা ও ধারালো ছুরির আঘাতে আঘাতে জবাই করে পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়।

সেদিন প্রায় ১০/১২ জন মুক্তিযোদ্ধাকেও ওরা হত্যা করেছিল। মুক্তিযোদ্ধা কবিরের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের নীলনকশটিও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী স্বয়ং করেছিল বলে শাজাহান আলী জানিয়েছেন। মাওলানা মতিউর রহমান ও তার সহযোগী আলবদরদের নৃশংস বর্বরতার অজস্র কাহিনী পাবনা, ঢাকাসহ বাংলাদেশের সর্বত্র আজও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।

তাই সরকারের কাছে আকুল আবেদনএই রাজাকারদের দ্রুত ফাঁসি দিয়ে,

মহান মুক্তিযুদ্ধাদের আত্মার শান্তি কামনা করি এব জাতিকে কলংক মুক্ত করি। সূত্র: সোনার বাংলাদেশে ব্লগ এবং আরোও বিস্তারিত দেখুন

খালেদা কী বলেন এগুলো মিথ্যা ?

এবার আসি গোলাম আজম সম্পর্কে:
গোলাম আজমের ৭১ এর ভুমিকা মনে হয় জাতী জানেনা এমন কোন ব্যাক্তি নাই। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয় যে আজ একশ্রেনীর নব্য ও তথাকথিত দেশপ্রেমিক ভন্ডরা তাকে মহান নেতা বানানোর পায়তারা করছে। দেখুন তার ভুমিকা:

তৎকালীন বৃটিশ ভারতে ১৯৪১ সালের ২৬ আগষ্ট ‘সাঈদ আবুল আলা মওদুদী (১৯০৩-১৯৭৯)’ প্রতিষ্ঠা করেন ইসলাম ধর্মীয় শরীয়া মৌলবাদী রাজনৈতিক সংগঠন ‘জামায়াতে ইসলামী হিন্দ।’ ওই সময় তিনি সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িত ছিলেন। তার ৩৫ বছর আগে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আরেক ইসলাম ধর্মীয় রাজনৈতিক দল ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ’(প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি “নওয়াব ভিকার-উল-মুলক্”। এটি ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হলেও এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল ভারতের উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখ্নৌ। বৃটিশ ভারত হিন্দুস্তান ও পাকিস্তান নামে দ্বিখন্ডিত হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীও দু’ভাগে বিভক্ত হয়। নতুন অংশের নাম হয় ‘জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান।’

গোলাম আজম পূর্বপাকিস্তানে জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন যথাক্রমে মওলানা আব্দুর রহিম এবং গোলাম আজম। ১৯৬৯ সালে গোলাম আজম জামায়াতে ইসলামী পূর্বপাকিস্তানের ‘আমির’ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী হানাদার সেনাদের বামহাতে পরিণত হন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ ও নির্মূল করার উদ্দেশ্যে শান্তিকমিটি, রাজাকার ও আল-বদর বাহিনী গঠন করেন এবং অন্যতম ‘যুদ্ধাপরাধী(war criminal)’ হিসাবে পরিগণিত হন। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তিনি পালিয়ে পাকিস্তানে গিয়ে আশ্রয় নেন। ১৯৭২ সালে জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগ নিষিদ্ধ হয় এবং গোলাম আজম পাকিস্তানে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্র চালিয়ে যেতে থাকেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানে বাধা দিতে প্ররোচনা দেন। তারই অংশ হিসেবে গঠন করেন
‘পূর্বপাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি (East Pakistan Revival Committee, লন্ডন-১৯৭২) এবং ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের নাগরিকত্বই বজায় থাকে।

জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ১৯৭৮ সালে গোলাম আজমকে বাংলাদশে নিয়ে আসেন তখন তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন ইংল্যান্ডে। পূর্বপাকিস্তান পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বাতিল করে তিনি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তান-বাংলাদেশ কনফেডারেশন পদ্ধতিতে আবার ঐক্যব্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ার প্রস্তাব দেন এবং শেষপর্যন্ত ব্যর্থ হন। হাইকোর্টের নির্দেশে জন্মসূত্রে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ফিরে পান এবং ২০০০ সালে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন। গোলাম আজমের উত্তরসুরি হলেন মতিউর রহমান নিজামী। গোলাম আজম বর্তমানে ঢাকার বড় মগবাজার, ১২৯/২ কাজি অফিস লেন (টেলিফোন: +৮৮০২৯৩৩১০৭৪)-এ বসবাস করছেন।

সূত্র: সামহোয়ারইন ব্লগ
এবং বিস্তারিত দেখুন উইকিপিডিয়া

এবার আসি ঘাতক ও নরপশু ভন্ড সাঈদী ওরফে দেউল্লা রাজাকার তথা ভন্ড কবিরাজের বিষয়ে। আজকাল তার সু-ললিত কন্ঠে কোরআনের অপ-ব্যাখ্যা ও সুবিধাবাদী ওয়াজ শুনে আমাদের দেশের শিক্ষিত, অশিক্ষিত, মুর্খ জাতীয় কিছু লোক অতি প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। আমি একদিন সিংগাপুরের আঙ্গুলিয়া মসজিদে নামাজ শেষে বেড় হবার পর ক্রসিং পার হব বলে দাড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ একজন সাঈদী প্রেমিক (এখানে তবলীগের অন্তরালে আছে) বলে উঠল “আহারে সাঈদী সাহেবকে কি অত্যাচারটাই করতেছে এ জালেম সরকার “। এবার বুঝন ওরা সাঈদীকে কোন স্থানে নিয়েছে। তাদের কানের মধ্যে যদি সারাদিন হেডফোন লাগিয়েও যদি সাঈদীর অপকীর্তির কথা বলি ওরা তা শুনেও না শোনার ভান করবে। কারন ওদের কলবে সাঈদীর মোহর এটে দেয়া হয়েছে। এর কীর্তির কিছু নমুনা দেখুন নিম্নে তুলে ধরা হলো:

বিশিষ্ট আলেম, আলেমকুল শিরোমনি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাইদী একজন রাজাকার তথা ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষদের খুন, পাক বাহিনীর নিকট ধরিয়ে দেয়া, নারী ধর্ষন, পাক বাহিনীর নিকট বাঙ্গালি নারীদের যৌনদাসী হিসাবে সরবরাহ,ধর্মের দোহাই দিয়ে পাড়ের হাট বন্দরের হিন্দু সমপ্রদায়ের ঘরবাড়ি লুট করেছেন ও নিজে মাথায় বহন করেছেন, দোকান লোটপাট, লুটের মাল বিক্রি সহ নানা পূণ্য কর্মে লিপ্ত ছিলেন। আসুন দেখি তার কি কি মহান কর্ম জাতিকে রক্ত আর অশ্রু দিয়ে বরন করতে হয়েছিল।

খুন সমুহঃ
এই মহান কর্মবীর একসময় গর্ব করতেন তিনি বলেশ্বর নদীর পাড়ের বধ্যভূমিতে ৫০০ জন মুক্তিকামী (তার ভাষায় বেইমান, কাফের) মানুষকে জবাই করে হত্যা করেছেন। সম্পতি গণতদন্ত কমিশন পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে গিয়ে সরেজমিনে কিছু তথ্য সংগ্রহ করে।

১। ‘৭১-এর ৬ মে পিরোজপুর থানার সামনে থেকে মহান সাইদী বাহিনী তত্কালীন মহকুমা এসডিপিও ফয়জুর রহমান আহমেদকে ধরে বলেশ্বর নদীর পাড়ে বধ্যভূমিতে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে।

২। এই মহান আলেম পিরোজপুরের ভারপ্রাপ্ত এসডিও আবদুর রাজ্জাক কে হত্যা করেছেন।

৩। মহান আলেম সাইদীর সহযোগিতায় পিরোজপুর শহর এলাকার হিমাংশু বাবুর ভাই ও আত্মীয়স্বজনকে হত্যা করা হয়েছে।

৪। পিরোজপুরের মেধাবী ছাত্র গণপতি হালদারকে সাঈদী ধরে নিয়ে গিয়ে বলেশ্বর নদীর পাড়ের বধ্রভূমিতে নিজে জবাই করে হত্যা করেছেন।

৫। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান

৬। স্কুল হেডমাস্টার আব্দুল গাফফার মিয়া,

৭। সমাজসেবী শামসুল হক ফরাজী

৮। অতুল কর্মকার

৯। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে তথ্য সরবরাহকারী ভগীরথীকেও এই মহান আলেমের নির্দেশেই মোটরসাইকেলের পিছনে বেঁধে পাঁচ মাইল পথ টেনে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

১০।তদানীন্তন ইপিআর সুবেদার আব্দুল আজিজ,

১১। পাড়ের হাট বন্দরের কৃষ্ণকান্ত সাহা

১২। বাণীকান্ত সিকদার,

১৩। তরুণীকান্ত সিকদার

১৪।’৭১-এর ১৬ আগস্ট সাঈদীর নেতৃত্বে গোপাল বণিক নামে এক মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে নিয়ে পাকসেনাদের হাতে তুলে দেয়া হয়।

১৫। পাড়ের হাটের আনোয়ার হোসেন

১৬। আবু মিয়া,

১৭। নূরুল ইসলাম খান,

১৮। বেনীমাধব সাহা,(মৌসুমী ভৌমিকের গাওয়া সেই বেনীমাধব গানটা কি মনে পড়ে?)

১৯। বিপদ সাহা,

২০। মদন সাহা,

২১। হরি সাধু

২২। নিখিল পাল ও অন্যান্য

২৩। তালুকদার বাড়ির হত্যাযজ্ঞ

২৪। ১৯৭১ সালের ৮ মে বাদুরা এলাকার ইব্রাহীম হাওলাদার
আরও নাম না জানা অজস্র শহীদ, অসংখ্য নাম। যাদের অনেকেই শহর ছেড়ে পালিয়ে যেতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন, স্বজনেরা অপেক্ষায় থেকেছে আমার ফুফুর মতো আমৃত্যু, তার খোকা যে বাড়ি ফিরবে, ক্লান্ত খোকা!
যেন ফুরোবেনা এই তালিকা। বলেশ্বর নদীল শান্ত জল আজও সেই নির্মমতার স্বাক্ষী হয়ে আছে। যেন শোকবার বইতে না পেরে শুকিয়ে গেছে জলধারা আর ঘাতক প্রিয় মানুষদের খুনে রঞ্জিত করেছে তার দাড়ী!

লুটপাট
১। ৭১ সালের তিনি মদন নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীর বাজারের দোকানঘর ভেঙে তার নিজ বাড়ি নিয়ে গেছেন। মদন বাবুর বাড়ি উঠিয়ে নিয়ে সাঈদী তার শ্বশুর বাড়িতে স্থাপন করেন।

২।পাড়ের হাটের আনোয়ার হোসেন, আবু মিয়া, নূর”ল ইসলাম খান, বেনীমাধব সাহা, বিপদ সাহা, মদন সাহা প্রমুখের বসতবাড়ি, গদিঘর, সম্পত্তি এই দেলোয়ার হোসেন সাঈদী লুট করে নেন বলে তিনি গণতদন্ত কমিশনকে জানিয়েছেন।

৩। পিরোজপুরের নিখিল পালের বাড়ি তুলে সাঈদী এবং তার সহযোগী ঘাতকেরা এনে পাড়ের হাট জামে মসজিদের গনিমতের মাল হিসেবে ব্যবহার করে।

৪।পাড়ের হাট বন্দরে লুটপাটে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, সেকান্দার শিকদার, মওলানা মোসলেহ উদ্দিন, দানেশ মোলা প্রমুখ। এ ছাড়াও সাঈদীকে একটি ঘরের আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যেতে দেখেছিলেন রুহুল আমীন।

৫।সদর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা সইজুদ্দিন পশারীর বাড়িতে পাকিস্তানী সেনাদের উপস্থিতিতে ১০ লাখ টাকা মূল্যের ঘর জ্বালিয়ে দেয় এবং ৫০ হাজার নগদ টাকাসহ ঘরের মালামাল লুট করে।

নারী ধর্ষন ও পাকিদের হাতে তুলে দেয়া
অনেকেই আজও বেচে আছেন। মৃতের মতোই! অথচ তাদের ত্যাগে অর্জিত স্বদেশ। মুখ খুলতে চান না সামাজিকতা চিন্তা করে, নষ্ট সমাজ বাচ্চাদের জারজ বলে ডাকবে ভেবে, সমাজ পরিত্যাক্তা হবেন ভেবে। তারপরও দু একজনের নাম তো বলতেই হয় যাদের নিজে ধর্ষন করেছে সাইদী, তারপর হত্যা করেছে। অনেক তথ্য প্রমান আছে এই মহান আলেম নিয়মিত পিরোজপুরের বিভিন্ন অঞ্চলের নারীদের ধরে এনে তুলে দিয়েছেন তার পিতাদের হাতে। তিনশ জন রাজাকারের একটা বাহিনী ছিল তার। প্রতাপ ছিল জবর।

১। হরি সাধুর মেয়েকে নির্যাতন করেছেন তিনি ও তার বাহিনী।
২। বিপদ সাহার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন।
৩। বিখ্যাত তালুকদার বাড়ি থেকে ২০-২৫ জন মহিলাকে ধরে এনে পাকসেনাদের ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এভাবে মুজাহিদ, খলনায়ক সাকা চৌধুরী, আজহার সহ সকলের নামে আছে হাজার হাজার অভিযোগ। এগুলো সবই কি এখন প্রমাণ করা যাবে ? কোনদিন্‌ই না। আর সুযোগটাই নিতে চাচ্ছে জামায়াত-রাজাকার ও খালেদা-বিএনপি গংরা। কিন্তু খালেদা হয়ত এটা জানেন না যে ঐ রাজাকরদের বিচার করার জন্য আদালতে প্রমাণ লাগলেও জনতার কাছে কোন প্রমাণ লাগেনা। তারা তাদের ধৈর্য়ের বাঁধ ভেঙ্গে গেলে এদের কাউকেই ছাড়বেনা। রাস্তায় ফেলে প্রকাশ্যে ওদের বিচার হবে। সেদিন আপনার মত হাজার খালেদা ওদের পক্ষে উকলাতি করলেও কোন ফল পাবেন না। আর সে দিন হয়ত বেশী দুরে নয়। আপনি বলেছেন আজ জেগেছে জনতা, হ্যাঁ জনতা জেগেছে আর অপেক্ষা করুন এর ফলাফল কি হয়। আপনি ওদের পক্ষ নিবেন এটাই স্বাভাবিক। কারন আপনার অতীত ইতিহাস তাই বলে। আমরা আপনার জন্ম ইতিহাস, শৈশব-যৌবনের ইতিহাস, ১৯৭১-এর আপনার অবস্থান ও ভুমিকার ইতিহাস জানি, কিভাবে ও কার সহায়তায় আজ জিয়ার উত্তারিধার রাজনীতি করছেন তাও জানি। এটা শুনে আপনার ভাল লাগলেও আমাদের লজ্জা লাগে তাই বিস্তারিত বললাম না। কারন আমাদেরা দুর্ভাগ্য যে আপনার মত কাউকে তিনবার এদেশে প্রধান মন্ত্রীত্বর আসনে আমরাই বসিয়েছিলাম।

আজকাল আবার আইএসআই এজেন্ট মাহমুদুর রহমানের বংশধরদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। তারা একটা মিথ্যা প্রপাগান্ডা করে বেড়া্চ্ছে যে, বঙ্গবন্ধু নাকি ১৯৫ যুদ্ধাপরধীদের ক্ষমা করে এর বিচার বন্ধ করেছিলেন। আসলে বিষয়টি কি তাই ছিল ? সিমলা চুক্তির মাধ্যমে বিশ্ববাটপার ও ওয়াদাভংগকারী পাকিস্তানের কাছে ঐ ১৯৫ জনকে হস্তান্তর করা হয়েছিল এই শর্তে যে পাকিস্তান সরকার ওদের বিচার করবে। কিন্তু পরবর্তিতে বিশ্বাসঘাতক পাকিস্তান তাদের কথা রাখেনাই। তাই ওদের বিচার হয়নাই। কিন্তু এদেশের যারা দালাল ছিল, মইত্যা, দেউল্ল্যা, গোলাম আজম, আজহার, সাকা সহ অসংখ্য রাজাকারদের বিচার চলমান ছিল। ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়া-মোস্তাক-মোশারফ গং ঐ বিচার প্রক্রিয়া বাতিল করে দেয়। আর শুধু বাতিল করেই ক্ষান্ত হয়নাই যাতে ভবিষৎ কোন সময় যাতে এর কোন বিচার না করা যায় তার জন্য সকল প্রকার সংগৃহিত তথ্য ও প্রমাণাদী ধ্বংস করে ফেলেছিল। আর তাই খালেদা-রাজাকার গং এ কারনেই এত নিশ্চিত হয়ে ওদের পক্ষে সাফাই গাইছে। কারন তিনি সব কিছুই জানেন। তাই বিচার শুধু রাজাকারদের নয়, তাদের পৃষ্ঠপোষক সে যেই হোক তারও করতে হবে। এটাই এখন আপমন জনতার দাবী।

আর হাসিনা সরকার ও হাসিনাকে বলব, জাতীর কাছে ওয়াদা করেছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন। আমরা আজও তার কোন উল্ল্যেখযোগ্য তেমন কিছুই দেখিনাই। তাই জাতি হতাশ । তিক্ত ও বিরক্ত। আজ যদি আপনি এর পুর্নাঙ্গ বিচার শেষ এ মেয়াদে না করতে পারেন, তাহলে জাতীর কাছে আপনি কিভাবে মুখ দেখাবেন ? জাতী কি আপনাকে ক্ষমা করতে পারবে ? অবশ্যই ক্ষমা করবে না। তাই অতি-কথন নয়, আমরা চাই ওদের বিচার করুন। এজন্য হুমকি আসবে। কিন্তু তাই বলে পিছনে গেলে চলবেনা। আমেরিকা আপনাকে বেকায়দায় ফেলবে। কারন ওরা জামাত-রাজাকার-বিএনপির মিত্র সেই ১৯৭১ সাল হতেই। ওরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নাই। তাহলে আজ ঐ স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার মেনেনিবে কিভাবে ? আর সম্প্রতি যে রাষ্ট্রদুত আমাদের দেশে এসেছে, যার নাম মোজেনা। তার কথা-বার্তায় আমি এতটুক নিশ্চিত যে সে আপনাকে বা আপনার সরকারকে বেকায়দায় ফেলার সব রকম কাজই করবে। আর বিএনপি-রাজাকার গংদের ক্ষমতায় আনার ষরযন্ত্র করে যাবে। আর এটা বুঝতে পেরেই আজ খালেদা-রাজাকার গং প্রকাশ্যে্ এর বিরোধীতা করে রাস্তায় নেমেছে। আর এজন্যেই যেমন ইউনুসের ব্যাপারে শক্ত ছিলেন, তেমনি রাজাকারদের বিচারের ব্যাপারেও আমেরিকার মত বিশ্ব টাউটদেরকে কোন রকম তোয়াক্কা না করে দ্রুত ওদের বিচার কার্য শেষ করুন। আর যারা হত্যা কান্ড চালানোর সময় কোন মানবতার ধার-ধারেনাই, ওদের আবার কিসের অধিকার। ওরা কি মানুষ? মানুষের জন্যইতো মানবাধীকারের প্রশ্ন আসে। ওদের ক্ষেত্রে আবার কিসের মানবাধীকার ? আজ যদি ওদের বিচার শেষ করতে না পারেন, এ জাতী আপনাকে কোনদিনই ক্ষমা করবেনা।