ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আজকে যুগান্তরের শেষ পাতায় একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে কারাগারে আটক বিএনপি নেতা সাকা চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী দাবি জানিয়েছেন, সংসদ অধিবেশনে যোগ দেবার সুযোগ করে দিতে তার স্বামীকে মুক্তি দেয়া হোক। সাকা চৌধুরী একজন সংসদ সদস্য এবং এ পদে অভিজ্ঞ জন বটে। কিন্তু সংসদে যোগ দেবার জন্য তার স্ত্রী কিংবা দলের দাবি কতটুকু গ্রহণযোগ্য হতে পারে?

দীর্ঘ দিন ধরে দলীয় প্রধানের কিছু ব্যক্তিগত ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিএনপি গণতন্ত্রের শক্তিঘর সংসদকে বর্জন করে আসছে। সংসদের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও সংসদীয় কার্যক্রমে অব্যাহত অনুপস্থিতি বিএনপির একটি দলীয় সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এই সংস্কৃতি থেকে বর্তমান ক্ষমতাসীনরাও মুক্ত ছিলনা, তবে বিএনপির ক্ষেত্রে এই সংস্কৃতির রূপ প্রচন্ড। দেশের বিভিন্ন সচেতন মহল ও সুশীল সমাজ বারবার পরামর্শ দিয়ে বলেছে, সংসদীয় কার্যক্রম থেকে নিজেদের নিবৃত রাখা দলের ভবিষ্যত বিবেচনায় মোটেই ইতিবাচক নয়। প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম-নীতির চর্চা না থাকলে যে অলসতা ও দায়িত্বহীনতা সৃষ্টি হয় তা শুধু গণতন্ত্রই নয়, দলের জন্যও অকল্যাণকর। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিএনপি এসব পরামর্শে কোন কর্ণপাত করেনি। জেদ আর দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে তারা সংসদে অনুপস্থিত থেকেছে ভাবলেশহীনভাবে। এমনকি অনেক দলীয় সংসদ সদস্য সংসদে যোগ দেবার পক্ষে অবস্থান নিলেও তাদের মতের প্রতি কোন প্রকার সম্মান প্রদর্শন করেনি দলীয় হাই কমান্ড। একদিকে চলেছে সংসদ, আর আরেক দিকে চলেছে তাদের অলস জীবন। এই অনুপস্থিতির সময়টুকুতে তারা এমন কোন আন্দোলনের সূচনাও করতে পারেনি, যা তাদের সংসদ বর্জনকে বৈধতা দিতে পারে।

এই যখন দলটির অবস্থা তখন কারাবন্দী স্বামীকে মুক্ত করার জন্য সাকা চৌধুরীর স্ত্রী দোহাই দিচ্ছেন সংসদ অধিবেশনের। যখন মুক্ত ছিলেন তখন যে সংসদকে সাকা চৌধুরী ও তার দল কোন গুরুত্ব দেয়নি অথচ জেল থেকে মুক্তি পাবার আশায় সেই সংসদকে আজকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। যা কোন মতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। গুরুতর অভিযোগে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি সংসদে যোগ না দিলেও সংসদের কোন সমস্যা হবার কথা নয়।