ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

কর্ণেল তাহের বিচারে দন্ডিত হননি; তাকে খুন করা হয়েছিল। কর্ণেল তাহেরকে আকস্মিক ক্রোধের বশবর্তী হয়ে খুন করা হয়নি; তাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছিল। আর এই বিচার বহির্ভুত হত্যার মূল নায়ক জিয়াউর রহমান। নিজের স্বৈরতান্ত্রিক পথকে কন্টকমুক্ত রাখতেই তার এই কুল কিলিং।

হাইকোর্টের রায় আজ এই কথাগুলোকেই আইনীভাবে প্রতিষ্ঠিত করলো। স্বাধীন বাংলাদেশে, যেখানে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করা হয়, সেই দেশেই আইনের চোখে এখন সে খুনি। এর আগে পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের মধ্যে দিয়ে এই হাইকোর্টেরই আরো একটি বেঞ্চ অবৈধ শাসক হিসেবে ঘোষণা করেছিল জিয়াউর রহমানকে। জিয়াউর রহমানের একটি সফলতা হলো, বাংলাদেশে তার প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল আছে এবং দলটি বেশ কয়েকবার রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী জিয়ার দলকে সমর্থন করে এবং শাসক হিসেবে তার নেত্রী খালেদা জিয়া কিংবা পুত্র তারেক রহমানকেই দেখতে চায়। কিন্তু যে দলের প্রতি দেশের একটি জনগোষ্ঠী সমর্থন ও সহানুভূতি পোষণ করে সেই দলের প্রতিষ্ঠাতা আইনের চোখে এখন অপরাধী, খুনি, অবৈধ। এই বাস্তবতা অনস্বীকার্য; বিএনপির সমর্থকরা চাইলেই এখন আর তা অস্বীকার করতে পারবেন না। তারা এমন এক দলের অনুসারী যে দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অবৈধ ক্ষমতার আবরণে, যে দলের জনক আদালত কর্তৃক ঘোষিত একজন খুনি। বিএনপির রাজনৈতিক ভাগ্যাকাশে এই যে পৌনপুনিক স্খলন, স্বরূপ উন্মোচন কিংবা রূপের পুনর্সংজ্ঞায়ন- তা আমার মতে খুবই লজ্জার, খুবই তিক্ত।

কর্ণেল তাহেরের বিচার এখন অবৈধ, জিয়া বেঁচে থাকলে তাকে খুনের আসামী হতে হতো, হতে হতো রাষ্ট্রদ্রোহী। আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, কর্ণেল তাহের দেশদ্রোহী নয় বরং তাকে দেশপ্রেমিক হিসেবে ঘোষণা করতে হবে, এবং ঐ আদালতের জীবিত বিচারকের বিরুদ্ধে খুনের মামল দায়ের করতে হবে। বাস্তব অবস্থা এখন এমন হয়েছে যে, কালের দমকা হাওয়ায় আগামীতেও হয়তো জিয়ার আরো এমন কিছু ইতিহাস উন্মোচিত হবে, এমন কিছু কর্মকান্ডের আরণ উড়ে যাবে যা পুরো দলকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলবে। কারণ আইন যা ঘোষণা করে তা চোখ বন্ধ করে থাকলেও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তাই আমার দৃষ্টিতে বিএনপির জনক জিয়া এখন বিএনপির জন্যই লজ্জা। এই লজ্জা তার সমর্থকদের, তার স্ত্রীর এবং তার পুত্রের।