ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

 

রবীন্দ্র-শরৎ এর পর এমন জনপ্রিয়তা আর কারো ছিল না এবং এখনও নেই। জনপ্রিয়তা মানেই গ্রহণযোগ্যতা। হুমায়ূন আহমেদ সেটাই অর্জন করেছিলেন। যে কোন অর্জনই আয়াশসাধ্য, ক্ষেত্র বিশেষে দুঃসাধ্য। হুমায়ূন আহমেদ তার মেধা ও মনন দিয়ে সেই দুঃসাধ্য কাজটিকেই সম্ভব করেছিলেন। তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন এবং আজ নিজেই ইতিহাস হয়ে গেছেন। আর এ কারণেই তার মৃত্যুতে বাংলার প্রতিটি মানুষ শোকস্নাত, শ্রদ্ধায় অবনত। তার মৃত্যুর সংবাদ প্রচারিত হবার পর থেকেই এক নজিরবিহীন ঢেউ বয়ে গেছে বাংলার জমিনে। টিভি চ্যানেল, সংবাদপত্র, অনলাইন মিডিয়া, ফেসবুক এবং হাল আমলের শক্তিশালী মাধ্যম ব্লগ সাইটগুলোও ভরে গেছে শোক বার্তায়, হুমায়ূন বন্দনায়। বাংলাদেশে এমনটা খুব কমই হয়েছে। কম না বলে বলা যায়, ব্লগ-ফেসবুকের যুগে এমন ঘটনা এটাই প্রথম।

এই এতগুলো মাধ্যমের মধ্যে ব্লগ সাইটগুলোর চরিত্র কিছুটা আলাদা। এখানে যারা লেখেন গুটি কয়েকজনকে বাদ দিলে তাদের সিংহভাগই সাধারণ নাগরিক, সাধারণ পাঠক, সাধারণ চেতনার ধারক। আর সাধারণ মানেই সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিচ্ছবি। একথা আমার নয় রুশো-ম্যাকিয়াভেলীর। তাই ব্লগ সাইটগুলোতে হুমায়ূনকে নিয়ে যা লেখা হচ্ছে তা সংখ্যাগরিষ্ঠের দর্শন এবং এ দর্শন অভিন্ন, নিখাদ। এখানে যারা লিখছেন তারা পাঠক। তারা সেই পাঠক যাদের জন্য হুমায়ূন আহমেদের বিশেষণ হয়েছে ‘জনপ্রিয়’, ‘নন্দিত’। সুতারাং এই ব্লগারদের মন্তব্য, আলোচনা, প্রতিক্রিয়ার অমূল্য। এগুলো সন্নিবেশিত ও সংরক্ষিত থাকা উচিত।

ব্লগ টিমের প্রতি আমার প্রস্তাব বা অনুরোধ যাই বলি না কেন: এই লেখাগুলোকে একত্রিত করে আলাদা একটি বিভাগ বা সংকলন করা যায় কিনা তা একটু ভেবে দেখুন। যেমনটা করা হয়েছিল পপগুরু আজম খানকে নিয়ে। ঠিক সে রকমটাই যে হতে হবে তা নয়। হুমায়ূন সংকলনটা হতে পারে আগের চেয়েও গোছালো, আগের চেয়েও উন্নত। সেটা কেমন হবে তা আপনারাই ঠিক করুণ। তবে সেখানে থাকবে এই অসাধারণ কথাশিল্পীকে নিয়ে বিডি ব্লগে এ যাবৎ প্রকাশিত এবং আগামীতে প্রকাশিতব্য সকল পোস্ট। এটা হবে এমন এক সংকলন যেটা হয়ে থাকবে কালের সাক্ষী।