ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

মুরুব্বিদের মুখে প্রায়ই একটা কথা শুনা যায়, বিশেষ করে পাড়া প্রতিবেশীর মধ্যে কারও মৃত্যু হলে। মানুষ নাকি মৃত্যু ঠিক পূর্ব মুহুর্তে আজরাইলকে দেখতে পায়। দুয়ারে আজরাইলের উপস্থিতি তাকে সম্মোহিত করে। সে বুঝতে পারে এই মায়ার পৃথিবী এখন আর তার নয়, এখন যাবার বেলা। কিন্তু এই যমদূত দর্শন- এ তার আর কিছুই করার থাকে না। সে হয়ে যায় অসহায়। জনাব ইউনুস এর গতকালের একটি মন্তব্য পড়ে আজ আমার এই কথাটাই মনে পড়ছে বারবার।

সুপ্রিম কোর্টে ড. ইউনুস এর রিট আবেদনটি খারিজ হয়ে যাবার পর তিনি মন্তব্য করেছেন, আমার যাবার সময় হয়ে গেছে। নিশ্চই। জাতি ও আইন ড. ইউনুসের এই নব্য উপলব্ধি অনেক আগেই ধারণ করতে পেরেছে। পারেননি শুধু ড. ইউনুস। পদ রক্ষার জন্যে এমন কিছু বাকি নেই যা তিনি করছেন না। তিনি ভদ্র মানুষ, অনস্বীকার্য কিন্তু পদলোভীও বটে। ভদ্র প্রক্রিয়াতে ইউরোপ-আমেরিকাকে মাতিয়ে নিজের পদকে নিরাপদ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কাজ হয়নি। আইনকে তিনি মাত করতে পারেননি। আইনকে তিনি বলেছিলেন, লেট মি স্টে। জবাবে আইন বলেছে, গেট আউট। তাই অসহায় ড. ইউনুস। আইন তাকে যম দূতের মতই সম্মোহিত করেছে। তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে, ঐ চেয়ার আর তোমার নয়, যাবার বেলা হয়ে গেছে।

অনেকে ড. ইউনুসের এই আপাত সাধু মন্তব্যকে সাধুবাদই দিতে চাইবেন। কিন্তু সাধুবাদ দেবার কোন সুযোগ আছে বলে আমার মনে হয়না। কারণ তিনি এমন সময় যাবার কথা বলেছেন যখন না গিয়ে তার আর উপায় নেই। আইন তাকে বহিস্কার করেছে। একজন বহিস্কৃত ব্যক্তির বিদায় স্বীকার করে নেবার মধ্যে কোন মহত্ব নেই। আছে চাতুর্য ও অসহায়ত্ব। ভাল থাকুন ড. ইউনুস এবং অপেক্ষা করুন। সমঝোতাই হয়তো আপনাকে দিতে পারবে নতুন জীবন। কারণ বিশ্ব মোড়লের চাপ খুব বেশি দিন সইবার ক্ষমতা আমাদের সরকারের আছে বলে মনে হয়না।