ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, রাজনীতি

চলমান সময়ের আলোচিত অশুভ ব্যক্তিদের মধ্যে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির নেতা ফজলুল হক আমিনী একজন। যিনি মৌসুমী ফলের মত একেক মৌসুমে একেক রঙ ধারণ করেন। কখনো লালন ভাস্কর্য, কখনো ইসলামী আইন আবার কখনো ইসলাম গেল ধরনের শ্লোগান তুলে প্রায় প্রতি মৌসুমেই রঙ বদলান। চলতি মৌসুমে তিনি খেলছেন প্রস্তাবিত নারী নীতি নিয়ে। কারণ এই নীতি বাস্তবায়িত হলে তার দখলে থাকা অনেক সম্পত্তি হাত ছাড়া হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। সম্পদ হারাবার ভয়ে তিনি এখন মতিভ্রষ্ট। বলা হয়ে থাকে, সন্তান তার পিতার হত্যাকারীকে ক্ষমা করে বটে কিন্তু পিতার সম্পদ দখলকারীকে কখনোই ক্ষমা করেনা। আমিনীর মতো ধর্মের ধ্বজাধারী ব্যক্তিদের এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তাদের দখলকৃত সম্পদ। ঘুষ, মদ, জুয়া, সুদ- এসবের মত চরম কোরান বিরোধী নীতি এই দেশে কার্যকর থাকলেও তা নিয়ে তার কোন দুঃশ্চিন্তা নেই। যত দুঃশ্চিন্তা দখল করা সম্পত্তি নিয়ে।

দিন কয়েক আগে আমিনীর চলমান এই ভণ্ডামী নিয়ে সংক্ষিপ্ত একটি লেখা লিখেছিলাম। লেখার বিপরীতে পাওয়া দু’একজন ব্লগারের মন্তব্য থেকে জানতে পারলাম, আমার এই লেখা সম্পূর্ণই নারী নীতির পক্ষে। আমিনীর পক্ষে কিছুই বলা হয়নি। অর্থাৎ লেখায় ভারসাম্য নেই। তাই বিডিনিউজ২৪ কর্তৃপক্ষের উচিত হয়নি লেখাটিকে ফিচার লেখা হিসেবে মনোনীত করার। কোন লেখাটি মনোনীত করা হবে তা একান্তই সঞ্চালকের সিদ্ধান্ত তাই এ নিয়ে আমার কোন মতামত নেই। কিন্তু যারা ঐ লেখার বিরুদ্ধে আপত্তি করেছেন তাদের ব্যাপারটা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হলোনা।

আমিনী খেলছেন। তার খেলা বিপদজনক। তবে খেলাটা যে কার তা বলা মুশকিল। শোনা যায়, মাদ্রাসাগুলোর নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হবার উপক্রম হলে তিনি এমন খেলা খেলেন। ইসলাম গেল বলে তিনি চিৎকার করে উঠেন আর অনুগত ছাত্র-শিক্ষকদের মাঠে-ঘাটে নামিয়ে দেন। এতে নিজের নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত হয়, বিরোধীরা দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি মাঠে ময়দানে হুংকার ছাড়েন, ইসলামকে পুঁজি করে মানুষের অনুভূতি নিয়ে খেলেন। কিন্তু ধর্ম নিয়ে যারা খেলেন তারা কী ধার্মিক? নাকি ধর্মকে পুঁজি হিসেবে বেছে নিয়েছেন এমন একজন পুঁজিপতি? পরেরটাই। আমিনী কী নতুন কেউ? না। পুরনো কাল থেকে আজ অবধি ধর্ম বেশ লাভজনক বিনিয়োগ। সমাজে একটি শ্রেণী সবকালেই থাকে যারা এই ধর্মকে পুঁজি করে দারুণ ব্যবসা করে। আমাদের আমিনী সাহেব সেই শ্রেণীরই প্রতিনিধি। কিন্তু দুঃজনক হলো, আমাদের দেশে এমন কিছু মানুষ আছে যারা দাঁড়ি-টুপি-জোব্বা দেখলেই তাকে ইসলাম বলে জ্ঞান করেন, বস্তুত ভুল করে। এটা তাদের ভ্রান্তিবিলাস। তারা ধর্মপতিদের খদ্দের। এরা প্রতারিত হয় কিন্তু জানেনা তারা প্রতারিত হচ্ছে। এরা নিজেকে ঠকিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে সমাজের আমিনী সাহেবদেরকে।

এই যখন আমিনী সাহেবদের পরিচয় তখন তাদের কর্মের সমালোচনা করতে গিয়ে কেন ভারসাম্য রাখতে হবে? কেন তাদের পক্ষেও কথা বলতে হবে? যাদের চিন্তা ও কর্মে সাম্য নেই তাদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঢোলের দু’দিকে বারি দিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখার কোন প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয়না। এটা সম্ভব না। এটাই সত্য, এটাই ন্যায্য এবং এটাই আমার দৃষ্টিভঙ্গি।

————————————————————————-
ফিচার ছবি: সুমন্ত চক্রবর্তী, বাংলানিউজ২৪.কম.বিডি