ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

দশ মিনিটে দেশ অচল- ঘটেনি তবে ঘটাবার হুমকী এসেছে। হুমকী দাতা গুপ্ত কেউ নয়, মৌলবাদী ধারার শীর্ষ একজন। ফজলুল হক আমিনী। এমন হুমকী সাধারণত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীই দিয়ে থাকে। আমিনী সাহেবরাও এই গোষ্ঠীর তালিকায় পড়েন। পিতা-মাতা তাদের সন্তানকে মাদ্রাসায় দেন ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হতে এবং একটি প্রসন্ন মানসিকতা অর্জন করে সুন্দর জীবন যাপনের নিমিত্তে। কিন্তু সেই মাদ্রাসায় যখন দা, কিরিচ, চাপাতী, আগ্নেয়াস্ত্র আর গ্রেনেড পাওয়া যায় তখন আর বলার অপেক্ষা রাখেনা ঠিক কোন শিক্ষা আর আদর্শ দান-খয়রাত করা হয় এইসব প্রতিষ্ঠান থেকে। শুধু কী তাই, রাষ্ট্র বিরোধী চেতনা গড়ে তুলতেও চেষ্টার কোন ত্রুটি হয়না সেখানে। একবার এক মাদ্রাসার ছাত্র কথা বলার সময় বেশ গর্ব করেই আমাকে বলছিল, আমাদের এখানে সরাকারের কোন ছুটি এমনকি নির্দেশনাও মানা হয়না। আমরা এসবের তোয়াক্কা করিনা। আমি তাকে বলেছিলাম, যে দেশে থাক সে দেশের আইন মান না এটা কোন গর্বের কারণ হতে পারেনা। এটা তোমার জন্য ব্যর্থতা ও লজ্জার কথা। যাই হোক, সে আমাকে মান্য করে তাই পাল্টা কোন উত্তর দেয়নি। কিন্তু তার যে গুরু কিংবা সে যাদের ভাবশিষ্য তাদের মধ্যে পাল্টা আস্ফালনের কোন ঘাটতিই চোখে পড়েনা। আমিনী সাহেব বিভিন্ন সভা-সমাবেশে একের পর এক সন্ত্রাসবাদী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। দেশের প্রতি আনুগত্য থাকলে এমন বক্তব্য কারো পক্ষেই দেয়া সম্ভব নয়।

দুদিন ধরে মুফতি আমিনীর কর্মকান্ডে নতুন এক মাত্রা যোগ হয়েছে। পুত্র নিখোঁজ। হারাধনের ছেলের মত তার ছেলে হারায়নি। তিনি দাবি করছেন, তার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণকারী স্বয়ং সরকার। তার ‘কোরান রক্ষা আন্দোলনে’ ভাটা লাগাবার জন্য সরকার নাকি ইচ্ছা করেই তার ছেলেকে গায়েব করে দিয়েছে। মারাত্মক অভিযোগ। কারণ সরকারকে যখন অপহরণকারী বলে আখ্যা দেয়া হয় তখন বিষয়টি আর সাধারণ থাকে না। সরকারে যেই থাকুক না কেন, ক্ষমতার আজন্ম প্রবণতাই হলো ক্ষমতাধরকে সর্বাত্মক করে তোলা। ক্ষমতার এই অশুভ ছোয়া থেকে যারাই বেঁচে থাকতে পারে তারাই হয় উত্তম শাসক। আমিনীর অভিযোগকে বেশিরভাগ মানুষই রাজনৈতিক কূট কৌশল হিসেবে দেখছে। কিন্তু বিষয়টিকে এতো হালকাভাবে দেখা উচিত নয় বলেই আমার মনে হয়। আমিনী সাহেবের মত ধর্মান্ধ ও প্রতিহিংসা পরায়ন ব্যক্তির দোষ থাকতে পারে কিন্তু বিনা দোষে তার পুত্রের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেদিকেও সরকারের লক্ষ্য রাখতে হবে। আবুল হাসানাত নামক তার পুত্রকে যদি ইচ্ছাকৃতভাবেও লুকিয়ে রাখা হয় তবুও সরকারের উচিত অনুসন্ধান করে প্রকৃত ঘটনা জনগণের কাছে পেশ করা। আর যদি সত্যিই সে নিখোঁজ হয়ে থাকে তবে সরকারের তো অপরিহার্য দায়িত্ব যে কোন মূল্যে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান আবিস্কার করা। শোনা যাচ্ছে, আমিনীর ছেলেকে খোঁজার জন্য স্বয়ং অপহরণকারীও নাকি মাঠে নেমেছে। অর্থাৎ সরকারের গোয়েন্দারাও তার নিখোঁজ ছেলেকে খুঁজে বেরাচ্ছে। কিন্তু সরকারকে এটাও খতিয়ে দেখতে হবে যে, শীর্ষ নেতৃত্বের অজ্ঞাতে কোন বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা এই কাজ করেছে কিনা। কারণ ঘোলা পানিতে অনেকেই মাছ শিকারের লোভ সামলাতে পারেননা। সরকারকে মনে রাখতে হবে, ঘাতকের হাতে কখনো ছুরি তুলে দিতে নেই। সরকারকে বেকায়দায় ফেলে কেউ যাতে অনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

আমিনীর পুত্র নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সত্য হোক আর সাজানোই হোক, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এর একটা নিস্পত্তি করা জরুরী। সরকারের নেতৃত্বকে মনে রাখতে হবে, তারা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত তাই তাদের চরিত্র গণতান্ত্রিকই হওয়া উচিত। সর্বাত্মকবাদী আচড়ণ কোন ক্রমেই শুভ ফল দেয়না।