ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

বাংলাদেশের নামকরা একজন কবি অনেক আগে র‌্যাব এর পরিচয় দিয়েছিলেন এভাবে: রেগে আছি বাবা। র‌্যাব দেখলেই তার নাকি এরকম মনে হয়। মুখে শব্দ নেই, মাথায় কালো চুল, চোখে কালো চশমা, গায়ে কালো জামা, এমনকি পাদুকা জোড়াও কালো। আপাদমস্তক কালো একটি প্রাণী। আপাদমস্তক অশুভ। অবশ্য বাইরের আবরণ যেমনই হোক না কেন, কাউকে মূল্যায়ন করতে হলে ভেতরটা দেখেই করা উচিত। কিন্তু ভেতরটা যখন আপনাআপনিই বাইরে চলে আসে তখন আয়াস করে আর দেখার প্রয়োজন হয়না। অনায়াসেই বলা যায়, ভেতর-বাহির তার তথৈবচ। লিমন নামের এক কলেজ পড়–য়া ছেলেকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে সন্ত্রাস দমনের যে মহানজির এই কালো বাহিনীটি স্থাপন করেছে তা দেখলে লজ্জাই পেতে হয়। ঠিক কী কারণে গ্রামের একটি সাধারণ ছেলেকে গুলি করে পরে সন্ত্রাসীর লেবেল লাগিয়ে দেয়া হলো তা বোধগম্য নয়। তবে কী মানুষ মারতে মারতে বৃদ্ধ বাঘের মত র‌্যাবকেও রক্তের নেশায় পেয়ে বসেছে? খুন না করলে, গুলি না ছুড়লে তার তৃষ্ণা মেটেনা? তাই তৃষ্ণা মেটাবার জন্য তাদের যেতে হয় সন্ত্রাসের অরণ্য থেকে লোকালয়ে। যাকে পাব তাকেই খাব- এটাই কী তাদের অনুসৃত নীতি! তবে তো বলতে হয়, শিক্ষক যেমন মানুষ গড়ার কারিগর, র‌্যাব তেমন মানুষ মারার কারিগর।

কিন্তু এখানেই লজ্জার শেষ নয়। আরো লজ্জা লাগে যখন দেখি, মানবাধিকার রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান টিভি ক্যামেরা তলব করে লিমনের শয্যাপাশে অশ্র“ বর্ষণ করেন। বড়দের মুখে শুনতে পাই, স্বৈরশাসক এরশাদও নাকি প্রতি শুক্রবার এভাবেই বিটিভির ক্যামেরা নিয়ে ঢাক-ঢোল বাজাতে বাজাতে মসজিতে জুমার নামাজ পড়তে যেতেন। মানবাধিকার কমিশনারের অন্তরও কী সেই রোগে আক্রান্ত! তাকে কী রাষ্ট্রের এতো বড় সাংবিধানিক পদ দেয়া হয়েছে, শোষিতের পাশে দাঁড়িয়ে অশ্রু বিসর্জন দেবার জন্য নাকি মানবতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত এক মহান সৈনিকের মত আইনের দন্ড হাতে নিয়ে দাঁড়াবার জন্য। তার হাতে আইন দেয়া হয়েছে, হতে পারে তা সামান্য। কিন্তু অপরাধীকে চমকে দেবার জন্য, তার আরামের ঘুম হারাম করে দেবার জন্য ওটুকু আইনই তো যথেষ্ট। তিনি তো চাইলেই তলব করতে পারতেন প্রাণলিপ্সু র‌্যাব সদস্যদেরকে। কিংবা তিনি তো ইচ্ছা করলেই পারতেন এমনসব পদক্ষেপ নিতে যাতে পুরো র‌্যাবের ভেতরেই কাঁপুনি ধরে যায়। তিনি কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তা জানি না। কিন্তু লিমনের মা ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। হাইকোর্টও উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যেই পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্ত করছে অভিযুক্ত বাহিনী স্বয়ং।

কিন্তু এতে করে কী জাতি ও আইনের সামনে লিমনের মায়ের মেলে ধরা আচল ভরে উঠবে। লিমনকে যারা হত্যা করতে চেয়েছিল তাদের এবং তাদের রক্তপায়ী উত্তরসুরীদের মধ্যে এতে করে কী কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। নাকি কাকের মাংস কাকে খায়না প্রবাদে বিশ্বাস করে নির্ভয়ে উৎ পেতে থাকবে আরো একটি নিরিহ শিকারের লোভে?