ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

প্রতিটা ধর্মেরই একটি প্রতিষ্ঠান থাকে। প্রতিষ্ঠান থাকে, কারণ এতে সম্মিলিত ধর্ম চর্চার পথ সুগম হয়, সমাজে ধর্মের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিমূর্ত ধর্ম একটি মূর্ত রূপ লাভ করে। ধর্ম হিসেবে ইসলামের প্রতিষ্ঠান আছে, আছে সনাতনদের, খ্রিস্টানদের, ইহুদিদের এমনকি নিরীশ্বরবাদী বৌদ্ধদেরও। ধর্মের এই প্রতিষ্ঠানে ধর্মানুসারীদের যাতায়াত বিধিবদ্ধ এবং এক্ষেত্রে ইসলাম এগিয়ে– দিনে পাঁচবার। অতীতে মুসলিমরা শুধু দৈনিক এবং সাপ্তাহিক ইবাদত সম্পন্ন করার জন্যই মসজিদে যেতো না, সে সময় মসজিদ থেকে অনুসারিদের মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞান এবং জাগতিক অক্ষর বিদ্যাও বিতরণ করা হতো। সেই সাথে শরিয়া আইন কার্যকর করার জন্য মসজিদকে বিচারালয় হিসেবেও ব্যবহার করার নজির রয়েছে। যদিও একটি মাত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সব ধরণের প্রতিষ্ঠানিক কাজে ব্যবহার করার প্রবণতার কারণেই ইসলামী সভ্যতা প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষের দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছে। অর্থাৎ ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি খুব একটা মজবুত হতে পারেনি। কিন্তু তারপরও অতীতে মসজিদের একটি ইতিবাচক ভূমিকা সমাজে ছিল।

কিন্তু আজকের দশা কী? লজ্জাজনক ও আশঙ্কাজন। মসজিদগুলোতে প্রতিষ্ঠিত কথিত ‘মক্তব’ এ আরবি বর্ণমালা শিক্ষা দেবার একটি ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত টিকে থাকলেও সেই ব্যবস্থার কোন টেকসই প্রভাব আমাদের বর্তমান সমাজে নেই। থাকার কথাও নয়। শুধু বর্ণমালার শিখালে কিংবা কোরান মুখস্ত করানো হলেই যে সমাজ বদলাবে তার তো কোন নিশ্চয়তা নেই। কোন কালে ছিলো না। যা পড়লাম তা জানলাম না, যা জানলাম তা বুঝলাম না– এ অবস্থা চললে তো আর জগত বদলায় না। তারপরও এই দুর্বলতার প্রসঙ্গ যদি বাদও দেয়া হয় তবুও আরো একটি আশঙ্কার বিষয় সামনে এসে দাঁড়ায়– মসজিদকে উদ্দেশ্যমূলক ধর্মীয়-রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার। আমাদের দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিশেষকরে জামায়াতে ইসলামী মসজিদকে ব্যবহার করে তাদের ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে আর তা বেশ ঘন ঘন। ধর্মপ্রাণ জনতাকে প্রভাবিত করা এবং নিজেদের লেবাসী চরিত্রকে আরো প্রকট করে তোলার জন্য মসজিদের প্রতি তাদের আকর্ষন খুব বেশি। আসলে এ কাজ করতে তারা বেশ পুলকিত বোধ করে। কারণ মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায় তাদের কোন অবদান, ভূমিকা এবং এমনকি আগ্রহও নেই। তাদের আগ্রহের ক্ষেত্র হলো তরুণদের গোপনে নিজ আদর্শে দীক্ষিত করা; আমরাই সত্য, বাকি সব মিথ্যা– এই ভ্রান্ত নীতি দিয়ে তরণদের বিপথগামী করে তোলাতে। তবে শুধু জামায়াতই বা কেন, মুফতি ফজলুল হক আমিনীর মত আদর্শবাদী তস্করেরা মসজিদকে ক্ষুদ্র স্বার্থে কলুষিত করার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোই তার প্রমাণ।

মসজিদ ভিত্তিক রাজনৈতিক অপতৎপরতা বন্ধের জন্য সরকার সম্প্রতি বেশ সীমিত সময়ের জন্য কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সাময়িক বিবেচনায় এটি একটি ভাল উদ্যোগ। কিন্তু এ উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলেই মনে হয়। মসজিদের পবিত্রতা এবং মৌল পরিচয় রক্ষা করাই যদি এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হয় তবে এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবেই কার্যকর রাখা উচিত। মসজিদকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে সভাসমাবেশ আয়োজন করতে না পারে তা নিশ্চিত করার জন্যই সরকারকে এই বাড়তি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এতে জামায়াতে ও আমিনীর সংগঠনের মত অপরাধ প্রবণ সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে অহেতুক মসজিদ কলুষিত হবার সম্ভাবনা থাকবে না।