ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

কান্না থামেনি; থামেনি অশ্রুজল। কেঁদে চলেছে লিমনের মা, লিমন আর জনতার নির্বাক বিবেক সত্তা। র‌্যাবের দানবীয় আচরণ; অতঃপর গুলি; সরকারের লজ্জাজনক নিরবতা এবং অনুগতের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন; চিকিৎসকের নৈতিক স্খলন; বিচারকের বিবেক বিকৃতি– এগুলোই ক্ষতবিক্ষত করে চলছে একটি অসহায় কিশোরকে, তার নিরুপায় জনক-জননীকে। চোখ থেকে ঝরছে অশ্রু– অশ্রুর ঠিকানা তো চোখ-ই। কিন্তু হৃদয়! সেখানে হয় রক্তক্ষরণ, হয় দহন। পা-হীন এক কিশোর, হাসপাতাল যার ঠিকানা হয়েছে মানব ধর্মহীন একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নির্মম আচরণে, সেই কিশোরের শব্দহীন কান্না, বিন্দু বিন্দু অশ্রুজল আমাদের না কাঁদিয়ে কী পারে!

সুখের কথা, হাইকোর্ট আজ লিমনকে জামিন দিয়েছে। ছয় মাসের জামিন; এটাই কোর্টের রীতি। কিন্তু তাতে কী, লিমন কিছু দিনের জন্য হলেও মুক্ত থাকবে এটাই সান্তনা। জামিনের পাশাপাশি হাইকোর্ট কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সরকারকে। জানতে চেয়েছে, লিমনের ঘটনার তদন্তে কেন একটি কমিটি গঠন করা হবেনা। সাধুবাদ পাবার মত সিদ্ধান্ত। কিন্তু তারপরও কথা থেকে যায়। হাইকোর্টই পারে বিবেকহীন পুলিশ কর্মকর্তা, হাসপাতালের পরিচালক আর নিম্ন আদালতের বিচারককে তাদের এই অমানবিক কাজের জন্য কৈফিয়ত দিতে বাধ্য করতে। হাইকোর্ট পারে হাসপাতালের পরিচালককে এই প্রশ্ন করতে, কেন রাতে অন্ধকারে পঙ্গু লিমনকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হলো? হাইকোর্ট পারে তার অধঃস্তন বিচারককে জিজ্ঞেস করতে, কেন সবকিছু জেনেও জামিন বাতিল করে লিমনকে কারাগারে পাঠানো হলো? হাইকোর্টই পারে, আইন ও মানবধর্মের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে অসহায় লিমনকে ন্যায়বিচারে অভিষিক্ত করতে। অবশ্যই পারে। আমাদের বিচারপতিদের উচিত রাষ্ট্র, সরকার, রাষ্ট্রযন্ত্র ও মানবতার শত্রুদের এই বার্তাই পৌঁছে দেয়া যে, কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়। অসহায় মানবতাকে পদদলিত করার অধিকার কারোরই নেই। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, মাননীয় বিচারপতিগণ এমন রায় প্রদান করবেন যাতে চমকে উঠে অপরাধীরা, বিবেকহীনরা। যাতে লিমনই হয়ে উঠে ন্যায়বিচার ও মানবতার শ্রেষ্ঠত্বের এক আদর্শ নজির।