ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
52_Latif+Siddique_040214_0001

 

জনাব লতিফ সিদ্দিকী,
দুঃখজনক হলেও আপনার নামের আগে বা পরে ‘মাননীয় মন্ত্রী’ কথাটি লিখতে পারছি না। এই না পাড়াটা অনেক পীড়াদায়ক। কারণ ৫ জানুয়ারি-উত্তর মন্ত্রীসভায় আপনিই ছিলেন টাঙ্গাইলের একমাত্র প্রতিনিধি। কিন্তু আফসোস, আপনি এখন এই সভা থেকে অপসারিত। স্বাধীন বাংলাদেশের মন্ত্রীসভায় দুটি ঘটনা এই প্রথম ঘটেছে– একজন মন্ত্রীর অপসারণ এবং টাঙ্গাইলের প্রতিনিধিত্ব না থাকা। শেষেরটা টাঙ্গাইলবাসীর জন্য কষ্টদায়ক এবং প্রথমটা পুরো জাতির জন্য তৃপ্তিদায়ক, কারণ আমাদের গণতন্ত্রে এমন নজির থাকা উচিত।

সে যাই হোক, আশাকরি ভারতে আপনি নিরাপদে আছেন। আপনার সুস্থতাও প্রত্যাশা করি, যদিও জানি যে আপনি সুস্থ নেই, থাকার কথাও নয়। গণমাধ্যমকে বলেছেন, আপনি মানসিক অস্বস্তিতে আছেন। মন ভাল না থাকলে দেহও ভাল থাকে না এটাই স্বাভাবিক। তাই ধরে নিচ্ছি, আপনি কিছুটা হলেও অসুস্থ। তবে সত্যি বলতে, অনেক আগে থেকেই আপনাকে আমার অসুস্থ বলে মনে হয়। বিশেষকরে, আপনি যখন কথা বলতে শুরু করেন। তবে শুধু আপনি নন, আপনার প্রয়াত পিতা থেকে শুরু করে ভাতৃবৃন্দ পর্যন্ত একই দোষে দুষ্ট, টাঙ্গাইলের মানুষ হিসেবে এটাও আমার অজানা নয়। অবশ্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে ‘পাগলের বংশ’ বললেও আমি এতটা সরাসরি এখানে বলতে চাই না। শুধু এটুকু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, এদেশে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ‘ঘোড়ার জন্মদিন’ পালন আপনারাই করেছিলেন।

আমার লেখার শিরোনামটা যদি আপনার চোখে পড়ে তবে আমি নিশ্চিত আপনি বুঝতে পারবেন এটা আপনার ঢঙেই লেখা হয়েছে। আপনারা দুই ভাই সাধারণত এরকম বিভ্রান্তির সুরেই কথা বলেন। কখন যে কার পক্ষে আর কার বিপক্ষে বলেন বুঝা মুশকিল হয়ে যায়।

আমি কেন আপনার পক্ষে এখন সে কথায় আসি। আমি আপনার পক্ষে, কারণ আপনি নিউ ইয়র্কে বসে যা বলেছেন অর্থাৎ আমরা যা শুনেছি তা এক কথায় অপূর্ব। আপনি কিছু সত্য কথা বলেছেন, দারুণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আপনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘জয় কে?’’ এই প্রশ্নের মধ্যে কোন ঔদ্ধত্য ছিল না। ইউটিউবে অন্তত সে ভাব দেখা যায় নি। আপনি খুব সাবলিল ঢঙেই বলেছেন ‘‘জয় কে? জয় তো সরকারের কেউ না। তিনি কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ। সরকারের নীতি নির্ধারণে তার কোন ভূমিকা নেই।’’ সত্যিই তো, জয় কে! তিনি তো সরকারের কেউ নন, শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা। তাই একজন মন্ত্রী হিসেবে আপনার এই বক্তব্যে কোন ত্রুটি নেই। আপনি সঠিক কথাটিই বলেছেন।

কিন্তু জনাব লতিফ সিদ্দিকী, আপনি হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন যে জয় প্রধানমন্ত্রীর পুত্র হয় এবং বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থা এখন উপদেষ্টাতন্ত্রে প্রবেশ করেছে। আপনি ভুলে গিয়েছিলেন, বাংলাদেশে ‘পুত্ররা’ আজকাল ‘পবিত্র’। তারা কেউ না, আবার তারাই সবকিছু। ‘পবিত্র পুত্ররা’ সার্বভৌম। আপনি ইতোমধ্যেই টের পেয়েছেন সার্বভৌমত্বের ছোবল-যন্ত্রণা কতখানি!

আমি আপনার বিপক্ষে। কারণ আপনি জামাতের যত বিরোধী তার চেয়ে বেশি বিরোধী হজের। মানে, কুলাঙ্গার জামাত আপনার পছন্দের তালিকায় পবিত্র একটি ধর্মীয় আচারেরও উপরে! এটা কি মেনে নেয়া যায়? আমরা ধর্ম মানি আর না মানি হজ শত-কোটি মানুষের পবিত্র ধর্ম-রীতি। এমন রীতিকে অপমানিত করা উচিত নয়। আপনি সেটাই করেছেন। যদিও হজ নিয়ে বাড়াবাড়ি আছে। যাদের না করলেও চলে তারাও হাজী হবার নেশায় হজ করেন এবং মক্কা থেকে ফিরে আবারো পাপের নেশায় নিজেকে বিলিয়ে দেন। কিন্তু তাই বলে তো আর হজকে দোষারোপ করা যায় না।

আপনি আব্দুল্লাহ পুত্র মোহাম্মদকে দস্যুজাতির নেতা আখ্যা দিয়েছেন। তার জাতির অতীত চরিত্র যাই থাকুক না কেন তিনিই এই জাতিকে সুপথে এনেছিলেন। তাই এই আব্দুল্লাহ পুত্রও সার্বভৌম। সেই সার্বভৌমের ছোবলও আপনাকে এখন সহ্য করতে হবে। আশাকরছি আপনি ইতোমধ্যে তা উপভোগ করছেন।

আমি আপনার পক্ষে কারণ আপনি উপলব্ধি করেছেন এদেশে রাজনীতি করে আপনার মত শিকরওয়ালা নেতাদের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি হবার সুযোগ নেই তবে সক্রেটিস হবার সুযোগ আছে। সক্রেটিস নিজেও বলে গিয়েছিলেন, যুগে যুগে তিনি তরুণদের মধ্যে জন্মগ্রহণ করবেন। কিন্তু মুশকিল হলো, আপনার বয়স ৭৭!! তাছাড়া বাংলার সক্রেটিস খেতাবটা তো ইতোমধ্যেই ডি রোজিওর কপালেই জুটেছে। তবে আশা করতে বাধা আছে বলে মনে করিনা। আপনাকে ‘বাংলার নব্য সক্রেটিস’ বলতে আমাদের হয়তো কোন আপত্তি থাকবে না তবে এভাবে নয়। সক্রেটিস হতে হলে আপনাকে নতুন করে সক্রেটিস পাঠ করতে হবে। যদিও আপনার পান্ডিত্য নিয়ে আমার মধ্যে সংশয় নেই। আপনার বই আমি পড়েছি এবং অনেক বছর আগে আপনার সাথে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায়ও তার প্রমাণ পেয়েছি।

আমি আপনার পক্ষে কারণ আপনাকে নিয়ে খান পরিবার রাজনৈতিক ফায়দা অর্জনের চেষ্টা করছে। টাঙ্গাইল শহরে আপনার আপত্তিকর ছবি টাঙ্গানো হয়েছে সাথে আপনার দুই ভাইয়েরও। ধর্মবিদ্বেষী লতিফ সিদ্দিকীর বিরোধীতা করা যায় কিন্তু তাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলকে সমর্থন করা যায় না। আমিও করিনা। বিশেষ করে তাদের যারা পুলিশী তদন্তে খুনি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই ‘ডগ সিদ্দিকী’ ছবির বিরোধীতাও আমি করি।

টাঙ্গাইল শহীদ মিনারের সামনে লাগানো ছবি।
[ছবি ক্যাপশন: টাঙ্গাইল শহীদ মিনারের সামনে লাগানো ছবি]

জনাব লতিফ সিদ্দিকী,
কথা আর বাড়াবো না। আপনি দলকে অনেক দিয়েছেন, দল থেকে অনেক নিয়েছেন। সমস্যা হলো, নিতে নিতে আপনি বেহুশ হয়ে গিয়েছিলেন, তাই হয়তো পাবলিকেরটাতেও হাত দিতে আপনি কুন্ঠা করেন নি। কিন্তু পাবলিক একটা আজব জিনিস, আপনি সেটাও ভুলে গিয়েছিলেন। এখন আপনাকে পাবলিকের ছোবল-যন্ত্রণাও সহ্য করতে হবে।

এ অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় একটি, আবার তিনটিও বলতে পারেন। মানে তিন সমান সমান এক। আপনি ক্ষমা চান, পুত্রের সার্বভৌমত্ব মেনে নিন এবং আবার হজে যান। আর তা যদি না পারেন তবে হেমলক পান করুণ এবং অপেক্ষা করুণ। সময়ই বলে দেবে আপনি কে- মুরতাদ, বেইমান না সক্রেটিস।