ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
Piash+Karim_281213_2

লাশের রাজনীতি কিংবা লাশ নিয়ে রাজনীতি আমাদের দেশে নতুন নয়। সে রাজনীতি হয়েছে কাউকে ক্ষমতার মসনদ পাইয়ে দিতে কিংবা কাউকে মসনদ-চ্যুত করতে। কিন্তু জাতীয় চেতনা বিরোধী কাউকে বৈধতা দিতে লাশ নিয়ে রাজনীতি হয়েছে বলে আমার জানা নেই। অথচ এ বেলায় দেশে এটাই চলছে! রাজনীতি চলছে প্রয়াত পিয়াস করিমের হিমায়িত দেহটা নিয়ে।
পিয়াস করিম হুট করেই প্রয়াত হয়েছেন। হৃদযন্ত্র অকার্যকর হলে তো আর বলে কয়ে হয় না! প্রচলিত আছে মৃত ব্যক্তিকে মন্দ বলতে নেই; তাছাড়া তিনি একজন শিক্ষকও ছিলেন। শিক্ষককে সমাজে এখনও মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখা হয়। কিন্তু প্রয়াত পিয়াস করিমের বেলায় এগুলো ভাববার অবকাশ আছে বলে মনে হয় না।

যে ব্যক্তি জীবদ্দশায় তার জাতির, তার রক্তের, তার প্রজন্মের চেতনার বিরুদ্ধে চিন্তা করেন, সে চিন্তা প্রকাশ করেন এবং সে চিন্তাকে পুঁজি করে স্বাধীনতার বিপক্ষ ও পরাজিত পক্ষের সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক বাণিজ্য করেন তার বেলায় উপরের নীতি-কথাগুলো হিসেবে রাখার সুযোগ নেই। সত্যিই সুযোগ নেই। সবচেয়ে বড় কথা, দেশের একজন ক্ষুদ্র নাগরিক হিসেবে সেরকম চিন্তা করার ইচ্ছেও আমার নেই।

ফলে পিয়াস করিম একজন শিক্ষক হওয়া সত্বেও চিন্তা ও মননে যে একজন জাতিদ্রোহী ছিলেন তা বলা যেতে পারে নির্দ্বিধায়। তিনি ঠিক কী কী কারণে জাতিদ্রোহী ছিলেন তা সবার কাছেই স্পষ্ট, জ্ঞাত। তাই নতুন করে এখানে বর্ণনা করার প্রয়োজন অনুভব করছি না।
সেই পিয়াস করিমকেই নাকি শহীদ মিনারে রাখতে হবে ‘শ্রদ্ধা’ নিবেদনের জন্যে! কিসের জন্য শ্রদ্ধা? জাতির স্বাধীনতার চেতনাকে পদদলিত করার কৃতিত্বের জন্যে! কারা জানাবে শ্রদ্ধা? যারা এদেশের স্বাধীনতাকে এখনও বলাৎকার করতে চায়, তারা! যে আদম-সন্তানরা পিয়াস করিমকে শহীদ মিনারে নেবার পথ-নকশা এঁকেছেন তারা কিভাবে ভাবলেন জেগে উঠা প্রজন্ম বিনাবাধায় এ নকশা মেনে নেবে!

ঘোষিত হয়েছে, এই পিয়াস করিমের জন্য বিএনপির দলীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে! কে জানে, গোলাম আযমের মৃত্যুর পরেও এ পতাকা অর্ধনমিত থাকে কিনা! থাকলেও নতুন করে অবাক হবার মত কিছু হবে না সেটা। জাতিকে বারবার হতাশ করার খেসারত দলটিকে অদূর ভবিষ্যতে হা-হুতাশ করেই দিতে হবে।

বিএনপির দপ্তর সম্পাদক রিজভী আহমেদ দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ শহীদ মিনারকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে। অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ রিজভী আহমেদ হয়তো জানেন, আওয়ামী লীগের মন্ত্রীসভা থেকে সদ্য অপসারিত লতিফ সিদ্দিকীর প্রয়াত পিতা এডভোকেট বারে কাজের ফাঁকে একটি ইজি চেয়ারে বসে বিশ্রাম নিতেন। চেয়ারটিতে লেখা ছিল ‘ইহা কারো বাপের সম্পত্তি নয়, সুতরাং ইহাতে বসিবেন না।’ আওয়ামী লীগ শহীদ মিনারকে লতিফ সিদ্দিকীর প্রয়াত পিতার চেয়ারের মতই মনে করে কিনা তা জানি না, করলে আমরা কেউই তা মেনে নিতে বাধ্য নই।

তবে জনাব রিজভির এটাও স্মরণে রাখা উচিত, শহীদ মিনার যেমন কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় তেমনি পিয়াস করিম বা পিয়াস করিমদের মত লোকদের জন্যও নয়। শহীদ মিনার বাংলার, শহীদ মিনার বাঙালির। এ দুয়ের বিরুদ্ধে যারা তাদের ঠাঁই শহীদ মিনারে হবে না। হওয়া উচিত না।

 

তাই, প্রজন্মের ডাক শুনুন, পিয়াস করিমের জন্য পতাকা অর্ধনমিত রাখার কর্মসূচী বাদ দিন, লাশ নিয়ে রাজনীতি বাদ দিন।