ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ছোট বেলা থেকে বাঙালি হিসেবে এই জনপদের প্রতিটি ব্যক্তিই একটি চরিত্রের সাথে পরিচিত হতে হতে বড় হয়। সে চরিত্র রাক্ষসের চরিত্র। কী অর্থ এই রাক্ষস শব্দটির? নরখাদক, পেটুক অর্থাৎ এর অর্থ ভক্ষক। সে মানুষ খায়, জাতি খায়; খায় শুভকে। দাদা-দাদির মুখনিসৃত গল্প থেকে আমরা জেনেছি, রাক্ষস অপহরণ করে সৌন্দর্য ও শুভ্রতার প্রতীক রাজকন্যাকে। তাকে হয় ভোগ করে, না হয় ভক্ষণ করে। আর সে রাজকন্যাকে উদ্ধারের জন্য আবির্ভাব ঘটে এক রক্ষক, এক ত্রাতা রাজপুত্রের। যে রাক্ষসের কাছে পরাজিত হয় সবাই কিন্তু সেই রাক্ষসকেই কোন একদিন প্রাণ দিতে হয় সেই বীর পুত্রের হাতে। এটাই রাক্ষসের নিয়তি।

আমাদের জাতির ঘাড়ে এতো দিন এক রাক্ষস ছিল– ছিল রক্ষকের ছদ্মাবরণে। সে রাক্ষসের নাম তত্ত্বাবধায়ক সরকার। মানুষ-রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতায় ত্রাণকর্তা হিসেবে মানুষই বেছে নিয়েছিল একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা– তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা। সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিশুদ্ধ ধারণাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কল্যাণের আশায় প্রবর্তিত হয়েছিল এই অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক তন্ত্র। যেখানে জনমত নেই, যেখানে জবাবদিহিতা নেই। আছে শুধু ভোগ, লোভ আর হরণের শুপ্ত আকাঙ্ক্ষা। জাতিকে মুক্তি দেয়া নয়, জাতির মুক্তি হরণ করাই ছিল এই তন্ত্রের রসায়ন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের যে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তত্ত্বাবধায় তন্ত্র প্রবর্তিত হয়েছিল, আমাদের জাতির কলঙ্ক সেই কুখ্যাত মঈন উদ্দিন ও ফকরুদ্দিন প্রমাণ করে গেছেন, জাতির চোখে সূচ্যগ্র নখ প্রবেশ করিয়ে জাতিকে বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন এই তন্ত্রের নামই রাক্ষস তন্ত্র। আর তারাই সফল রাক্ষস। রাক্ষসেরা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। রাক্ষসেরা ঘাড়ে গেড়ে বসার অপেক্ষায় থাকে। সংবিধানের তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাটিই ছিল রাক্ষসদের হাতে জাতির ভাগ্যকে ভোগ হিসেবে তুলে দেবের কথিত বৈধ ব্যবস্থা।

দেশের প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক আজ এক যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে এই রাজতন্ত্রকেই হরণ করলেন, রাক্ষসকে বধ করলেন। রাক্ষসের এতদিনকার অস্তিত্বকে অবৈধ বললেন। জাতি তাকে অভিনন্দন জানায়। আজ থেকে জাতি তাকে বীর পুত্রের মর্যাদা দেবে। সেই সাথে ভারসাম্য ও গ্রহণযোগ্যতার স্বার্থে আগামী দুই নির্বাচনে নিয়ে তিন যে সীদ্ধান্ত দিয়েছেন তাও তার বিচক্ষণতার প্রমাণ। এই তন্ত্রে যাতে কোন বিচারপতি না রাখা হয় সেই পরামর্শও দিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি নির্মোহ। ক্ষমতার লোভ তার নেই। ধন্যবাদ মাননীয় প্রধান বিচারপতি।