ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, রাজনীতি

 

বিএনপির বিগত দুটি শাসনামলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন সময় বেগম খালেদা জিয়া প্রায়ই একটি অভিযোগ করতেন। তিনি বলতেন, আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা সুযোগ পেলেই বিদেশীদের কাছে এমন সব বক্তব্য দেন যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও মানুষের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করে। বেগম জিয়ার ভাষায় শেখ হাসিনার ঐসব বক্তব্য ছিল দেশ বিরোধী তৎপরতা। তাই প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়া বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে আহ্বান জানাতেন ঐসব অপতৎপরতা থেকে বিরত হয়ে গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করতে।

সময়ের চাকা এখন উল্টো পথে ঘুরছে। আজ বেগম খালেদা জিয়া বিরোধী দলের নেত্রী এবং শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী। সময়ের এই উল্টো রথে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ এক সফরে ব্রিটেন ও আমেরিকায় পদচারণা করছেন। ব্রিটেন সফরের সময় তিনি বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে অভিযোগ করেছেন গুরুত্বর্পূণ লর্ড এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সাথে। বলার অপেক্ষা রাখেনা, তার অভিযোগগুলোতে প্রতিফলিত হয়েছে তার দলের দৃষ্টিভঙ্গি ও স্বার্থ। বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা বর্তমানে যে খুব ভাল তা নয়, অতীতেও খুব ভাল ছিলনা। বেগম খালেদা জিয়ার গত দুটি শাসনামলও ছিল বহু অপশাসনে পরিপূর্ণ এবং আড়ষ্ট। বিএনপির শাসনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, সীদ্ধান্ত গ্রহণে ধীর গতি ও স্থবিরতা। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই বেগম খালেদা জিয়ার দুটি সরকার সঠিক সীদ্ধান্ত নিতে পারেনি। দেশে দুর্নীতির একপ্রকার উৎসব চলেছে, নিয়ম ভাঙ্গা একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছিল এবং বিশাল মন্ত্রীর বহর থাকা সত্ত্বেও তা দেশকে গতিশীল করতে পারেনি। বিএনপির শেষ শাসনামলে সংসদ ছিল প্রায় অকার্যকর। কোরাম সংকট সংসদকে একটি ক্রিয়াশীল প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে পরিণত করেছিল নাম সর্বস্ব সুদৃশ্য ভবনে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও দেশ সম্মুখীন হয়েছিল রূঢ় ভাবমূর্তির সংকটে। অথচ সে অবস্থার পরিবর্তনের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পরিণত হয়েছিল হারিস-ফালুর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লীলাভূমি।

কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া আজ বিদেশে যেয়ে সেই একই অভিযোগ করছেন বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে। মোড়ল মানছেন অ্যাভেবুরিদের। অবশ্য লর্ড অ্যাভেবুরি বলেছেন, এখনই এই অভিযোগ নিয়ে তিনি সরকারের সাথে কোন তৎপরতা চালাবেন না। শুধু এখন কেন, তার উচিত হবেনা কখনোই এই কাজ করা। তাকে মনে রাখতে হবে, নিজ ভাগ্য নির্ধারণ করার এখতিয়ার বাংলাদেশের রয়েছে। আমাদের যা কিছু সমস্যা তার সমাধান হতে হবে আমাদের দ্বারা এবং আমাদের দেশেই। অভিযোগকারী হোক খালেদা জিয়া কিংবা ইউনুস কিংবা শেখ হাসিনা, তাদের অভিযোগে অতি উৎসাহ দেখানো মোটেই তাদের ঔচিত্যের মধ্যে পরে না। আর আমার তো মনে হয়, দেশে ফেরার পর এসব নালিশ-সালিসের বিষয়টি নিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে জনগণের সামনে কৈফিয়ত দিতে হবে। কৈফিয়ত চাওয়ার অধিকার জনগণের রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান তৎপরতা স্ববিরোধী। তিনি নিজে যে অভিযোগ অন্যের বিরুদ্ধে করতেন সে অভিযোগে আজ তিনি নিজেই অভিযুক্ত। এই অভিযোগের জবাব তাকে দিতেই হবে।

***
ফিচার ছবি: ইন্টারনেট