ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সুরঞ্জিত বাবু শেখ হাসিনাকে ভক্তি করেন, কারণ তিনি এখন যে দলের রাজনীতি করছেন তার প্রধান শেখ হাসিনা। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তার রাজনীতি ছিল ভিন্ন ধারার। তাই সে সময় শেখ হাসিনার পিতা বঙ্গবন্ধুকে তিনি ভক্তি করতেন না। রাজনৈতিক কারণে বঙ্গবন্ধুর প্রতি একই রকম অভক্তি ছিল বর্তমান কৃষিমন্ত্রী মতিয়ার চৌধুরীর। এ দুজনই বঙ্গবন্ধুকে তৎকালে এমনসব রূঢ় বাক্যবানে আক্রান্ত করতেন যা শুনলে বড্ড ভয় হয়। কি জানি, সেই বাক্যের বীজ এখনো তাদের হৃদয়ে সুপ্ত রয়ে গেছে কিনা! যদি থেকে যায় তবে সর্বনাশ। আগস্টের ইতিহাস আবার মোচড় দিতে পারে।

গত পরশু এই হাসিনা ভক্ত সুরঞ্জিত বাবু মারাত্মক এক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, বাঘে ধরলে ছাড়ে কিন্তু শেখ হাসিনা ধরলে ছাড়েন না। আমাদের এই বাঙলা সমাজে ব্যাঘ্র একটি বীরত্ব বাচক নাম। ব্যাঘ্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন এ কে ফজলুল হক, এখন পরিচিত আমাদের জাতীয় ক্রিকেট দল। তাছাড়া এই ব্যাঘ্র আমাদের জাতীয় পশু, জাতির প্রতীক। ব্যাঘ্র শুধু বীরত্বের প্রতীকই নয়, একটি হিংস্র পশুও বটে। তবে তার উপরেও যে আর কোন প্রাণি নেই তা নয়। স্বদেশী পুলিশ ব্যাঘ্রের চেয়েও হিংস্র প্রাণি। এজন্যই বোধ হয় লোকে বলে, বাঘে ধরলে আঠারো ঘা আর পুলিশে ধরলে ছত্রিশ। আর বাবু সুরঞ্জিত যখন এই ধরাধরি নিয়ে কথা বললেন, তাও আবার এমনভাবে বললেন যেন প্রধানমন্ত্রী বাঘকে ছাড়িয়ে পুলিশ এবং পুলিশকে ছাড়িয়ে আরো উপরে উঠে গেছেন। এদেশে আজ যেন শেখ হাসিনার চেয়ে হিংস্র কোন প্রাণি নেই। তিনি যাকে ধরেন তাকে পুলিশের দ্বিগুণ মানে ৭২ ঘা দিয়ে ছাড়েন।

আমার প্রিয় রসরচনার মধ্যে বঙ্কিমচন্দ্রের ব্যাঘ্রচার্য বৃহল্লাঙ্গুল একটি। এ রচনা পড়লে আমি হাসি আটকিয়ে রাখতে পারিনা। তো এখানে ব্যাঘ্রাচার্য বৃহল্লাঙ্গুল মানুষের হাতে বন্দী হবার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন এভাবে: ‘তাহারা আমার দর্শন পাইয়া পরমানন্দিত হইল, এবং আহ্লাদসূচক চিৎকার, হাস্য, পরিহাসাদি করিতে লাগিল। …. কেহ আমার আকারের প্রসংশা করিতে ছিল, কেহ আমার দন্তের, কেহ নখের, কেহ লাঙ্গুলের (লেজ) গুণগান করিতে লাগিল। … আমি বহুকাল ঐ লৌহজালাবৃত প্রকোষ্ঠে বাস করিলাম।’

বঙ্গবন্ধুর প্রতি সুরঞ্জিত বাবুর কোন ভক্তি না থাকলেও তার কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি তার ভক্তি এতো বেড়ে গেছে যে, তিনি তাকে আজ আহ্লাদের চোটে বাঘের মত হিংস্র প্রাণির উপরে স্থান দিয়েছেন। তার মত চাটুকারেরা বঙ্গবন্ধুকে জীবিত অবস্থায় ফেরেস্তা আর মৃত অবস্থায় ফেরাউন বানিয়েছিল। আর চতুর সুরঞ্জিত বাবু শেখ হাসিনাকে জীবিত অবস্থাতেই নখ-দন্ত বিশিষ্ট হিংস্র প্রাণীতে পরিণত করে ছাড়লেন। কিন্তু তার মত পার্লামেন্টারিয়ানের মনে রাখা উচিত ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের একজন প্রধানমন্ত্রী হবেন একজন মানবিক সত্তা, হিংস্র পশু সত্তা নয়। তার মধ্যে তেজ থাকবে, সাহস থাকবে এবং থাকবে নমনীয়তা। এগুলোর সমন্বয়েই তিনি রাষ্ট্র চালাবেন, জনগণের নেতা হবেন। আর তাই সুরঞ্জিত বাবুর উচিত তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এ ধরণের বিপদজনক চাটুকারিতা থেকে সরে আসার অঙ্গীকার করা।