ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

আজকের দৈনিক সমকালে একটি আশংকার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। জামাতে ইসলামী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গোপনে একটি ছাত্রী সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে, দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই গোপন তৎপরতা চলছে বেশ জোরেসোরে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন কলেজ ও বুয়েটে প্রমাণ মিলেছে স্বাধীনতা বিরোধী ও মৌলবাদী এই রাজনৈতিক দলটির উল্লেখিত গোপন তৎপরতা। রিপোর্টটির মাধ্যমে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে সনাক্ত করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে।

এই ধরনের একটি ছাত্রী সংগঠন গড়ে তোলার পেছনে জামায়াতের কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে তা স্পষ্ট। সংকটে নিপতিত, জনতার আস্থা বঞ্চিত গোড়া এই দলটি চাইছে তাদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার হাতিয়ার মজবুত করতে। আর এজন্যই হয়তো তাদের প্রয়োজন হয়েছে ছাত্র শিবিরের বাইরে আরো একটি সমর্থক গ্রুপ তৈরি করার। তাদের মতাদর্শিক তৎপরতা যাতে আরো মজবুত হয়, বিভিন্ন গোপন মিশন বাস্তবায়নে তারা যাতে আরো সফল হয় সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথিত মেধাবী ছাত্রীদেরকে একত্রিত করার পরিকল্পনা তারা হাতে নিয়েছে। জামাতে ইসলামী একটি ইসলাম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল ঠিকই, কিন্তু তাদের মনন ও চিন্তন সম্পূর্ণই উগ্র এবং প্রগতি বিধ্বংসী। রাষ্ট্র গঠন নয়, এই প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রকে বিপন্ন করে ক্ষমতায় আরোহণ করাই তাদের মৌলিক উদ্দেশ্য। ইসলাম তাদের খোলস মাত্র, এই খোলসের ভিতরে লুকিয়ে আছে জামায়াতের দানব সত্তা। আর সেই সত্তাকে আরো বিকশিত করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রী সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টায় তারা লিপ্ত। তাও আবার গোপনে।

যখন কোন রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক তৎপরতা গোপনে চলে তখন বুঝে নিতে হয় এ তৎপরতা অশুভ উদ্দেশ্য সিদ্ধ। এই সংগঠন সমাজ ও প্রগতির সাথে সম্পর্কীত নয় বরং দ্বান্দিক। এর লক্ষ্য থাকে সমাজের একটি অংশকে এমন পথে নিয়ে যাওয়া, যে পথে কল্যাণকর সৃজন নেই আছে হরণ। রিপোর্টটি বলেছে, নতুন ছাত্রী সংগঠনটির নব্য সদস্যরা গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠক করতো এবং মগবাজারের একটি ভবনে তাদের যাতায়াত ছিল। উক্ত ভবনে সম্প্রতি বড় ধরনের একটি বৈঠকও নাকি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অবস্থায় আমাদের সতর্ক হবার সুযোগ রয়েছে। যুদ্ধাপরাধের দায়মুক্ত হবার জন্য মরিয়া জামায়াতে ইসলামী এমন অনেক কিছুই করতে চাইবে যা আমাদের সমাজ শৃঙ্খলাকে নষ্ট করতে যথেষ্ট। মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিপথগামী করে, ইসলামের নামে জঙ্গিবাদী মানসিকতায় প্রশিক্ষিত করে তারা চাইবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে। তাই বলবো, সচেতন শিক্ষার্থীদের মোটেই উচিত হবে না ইসলামের নামে এসব অপতৎপরতার জালে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা। এতে যেমন তার নিজের ক্ষতি, তেমনি জাতির জন্য রয়েছে অনিষ্টের সম্ভাবনা।