ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

তত্ত্বাবধায় সরকার ইস্যুতে আগামী কাল বিএনপির হরতাল। দলটি চায় এই ব্যবস্থাটি বহাল থাকুক। অথচ একটি সময় ছিল, যখন এই ব্যবস্থাটি আদায় করতে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধেই হরতাল দিতে হয়েছিল বিরোধী দলগুলোকে। সময়ের নির্মম পরিহাস, এই ব্যবস্থা টিকিয়ে আজ রাখতেই হরতাল করতে হচ্ছে তাদের। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সেদিনের ও আজকের অবস্থান সম্পূর্ণই বিপরীত। এই ক্ষুদ্র মনুষ্যলোক যে গোল এই দুই দলের চরিত্রই তার প্রমাণ। ঘুরেফিরে ওরা একই পথ অতিক্রম করে। রক্ত-ঘাম ঝরে শুধু জনতার।

আগামী কালের হরতালের আগের রাতে বরাবরের মত আজকেও পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে বেশ কিছু যানবাহন। দগ্ধ হওয়া যানগুলো সমাজের কোন উচ্চবিত্তের নয়, কালো টাকা যারা সাদা করেন তাদেরও নয়। এগুলো গণ পরিবহণ। হতে পারে ব্যক্তি মালিকানাধীন কিন্তু এই বাহনেই পথ চলেন রাজধানীর সাধারণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নাগরিকগণ। এই নাগরিক পরিবহনে আগুন দিয়ে বিএনপি কর্মীরা স্পষ্টতই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ ও আইনের প্রতি। বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন অবাধ চলাচলের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি। রাজধানীর এই বাসগুলোতে যারা চলেন তারা ভোটার। বিএনপি ভুলে গেছে এই সব ভোটারের কাছেই তাদের হাত পাততে হবে আর মাত্র দুই বছর পরেই।

দেশে আইন রয়েছে। প্রয়োজনে আইন আরো হতে পারে। হরতালের নাম করে যারা এভাবে গণ পরিবহনে আগুন দেয়, হরণ করে নাগরিকদের চলাচলের স্বাধীনতা ও অধিকারকে তাদের দমন ও প্রতিরোধ করার জন্য নতুন আইন করার প্রয়োজন আছে বৈকি। সরকারের উচিত এই দগ্ধ বাসগুলোর মূল্য হরতাল আহ্বানকারী দল হিসেবে বিএনপির কাছ থেকে আদায়ের জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত বাস মালিক ও নাগরিকরাও পারেন সর্বোচ্চ আদালতের দারস্থ হতে। তা না হলে মানুষ ও মানুষের অধিকারকে অবজ্ঞা করার অভ্যাস এই দলগুলো থেকেই যাবে।