ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত আহূত টানা ৩৬ ঘন্টার হরতাল। আগামী সকালটা শুরু হবে এক ধরণের অস্থিরতা, উদ্বেগ ও মানসিক যন্ত্রণার মাধ্যমে। অফিস যাত্রী, দূরগামী পথিক এবং সাধারণ জনতা তাদের নিত্যদিনের কার্যক্রমে সম্মুখীন হবে একটি যন্ত্রণাদায়ক প্রতিবন্ধকতার। বিপর্যস্ত হবে তাদের মূল্যবান দুটি দিন।

বলতে বাধা নেই যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল রাখার ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট যে শিথিল ও সুবিবেচনা প্রসূত রায় দিয়েছিল সরকার তা সঠিকভাবে অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচিত হয়নি নির্বাচনের মত সংবেদনশীল বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে নিজের হাতে নিয়ে নিজ ও দলকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়া।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য কলংকজনক হলেও আগামী দুটি নির্বাচন এই ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলে এবং ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে এই ব্যবস্থার ইতি ঘটলে সেটাই হতো সবচেয়ে মঙ্গলজনক ও বিতর্কমুক্ত। কিন্তু সরকারী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায় ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করার ফলে পরবর্তী যে কোন বিতর্ক ও সংঘাতের দায় এখন এসে পড়বে বর্তমান সরকার তথা আওয়ামী লীগের উপর। যা ইচ্ছা করলেই সরকার এড়াতে পারতো, এবং এখনো এড়ানো সম্ভব। তাছাড়া সরকারের এমন সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামী ও আমিনীর মত ধর্মব্যবসায়ীরা। সুযোগের সদ্ব্যবহার করে হরতাল ও অন্যান্য আন্দোলনে নিজেদের সম্পৃক্ত করে এই গোষ্ঠীটি চাইবে নিজেদের হারানো মনোবল পুনরুদ্ধার করতে। তারা চাইবে, দেশে এমন এক সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক যাতে স্থগিত হয়ে যায় যুদ্ধাপরাধের কাঙ্খিত বিচার প্রক্রিয়া। যা সন্দেহাতীতভাবে কারোরই কাম্য নয়।

তারপরও বিএনপি আগামীকাল থেকে যে হরতাল আহ্বান করেছে তার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু ছিল কিংবা এই হরতালের উপযোগ কতখানি তাও ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে। এই হরতালের ফলেই কী তারা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে নাকি মুছে দিতে পারবে মাগুরার মত কলঙ্কের ছাপ।

তাই আমার ধারণা, আগামীকালের হরতালের অর্জন কিংবা ব্যর্থতার দিকে নজর থাকবে জনতার। জনতা মূল্যায়ন করবে, এই হরতালে প্রকৃতই কী দেশ লাভবান হলো নাকি অনর্থক তাদের জীবন থেকে কেড়ে নেয়া হলো মূল্যবান ৩৬টি ঘন্টা। আর তাদের এমন মূল্যায়ণ মূল্যহীন নয়। কারণ সময় হলে বিএনপিকেও আসতে হবে এই জনতার দুয়ারে।