ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

আজ যা ঘটেছে তা ঘটা উচিত ছিল একদম শুরুতেই। কিন্তু দুর্ভাগ্য তা ঘটেনি। বহুল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার নতুন অভিযোগপত্রে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী জামায়াত আমীর মতিউর রহমান নিজামী ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরকে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিপুল পরিমান অস্ত্র খালাস করার ভেনু যে মন্ত্রীর কব্জায়, ঘটনার সত্যতা খুঁজতে সে মন্ত্রীই হবেন অন্যতম লক্ষ্য সেটাই ছিল স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু কোন এক রহস্যময় কারণে সেই মূল ব্যক্তিকেই বাদ দেয়া হয়েছিল ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে। বিলম্বে হলেও সরকার দুজন অন্যতম সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চার্জশিটে অন্তর্ভূক্ত করায় এখনকার তদন্তটি সঠিক পথে এগুবে বলে অনুমান করা যায়। ১০ ট্রাক অস্ত্রের রহস্য উদঘাটিত হোক সেটাই আমাদের মত সাধারণ নাগরিকদের দাবি।

আমাদের কৃষক ভক্ত কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী হঠাৎ করেই তামাক ভক্ত হয়ে উঠেছেন। তার ভক্তি এতোটাই গভীর যে, বৃটিশ-ভারতের নীলকরদের নব্য সংস্করণ তামাককরদের পুষ্ট করার উদ্যোগ তিনি গ্রহণ করেছেন। উদ্যোগটা হয়তো টিকেই থাকতো যদিনা পত্রিকাতে তার এই ভক্তি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত না হতো। তামাকের উপর থেকে শুল্ক হ্রাস করার অনুরোধ করে তিনি যখন ফেঁসে গেছেন তখনই গণতান্ত্রিক(!) হয়ে নিজের ভুল তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, ঐ ফাইলে তিনি ভুলে এবং না পড়েই দস্তখত করেছিলেন এবং সেজন্য তিনি দুঃখিত। খুবই ভাল কথা। তিনি সাধুবাদ পাবার যোগ্য। ক্ষমতায় থেকে কয়জন আর ভুল স্বীকার করতে পারে! কৃষক ভক্ত মন্ত্রীর দুঃখবোধ জনগণ হয়তো গ্রহণ করবে কিন্তু তারা এও ভাববে যে, মনের ভুলে কিংবা না পড়েই এই মন্ত্রী না জানি আর কত ফাইলে সই করেছেন। কিংবা ভবিষ্যতে আরো গুরুতর কোন ফাইল হয়তো তার অজান্তেই অনুমোদিত হয়ে যাবে।

তাই জনতা হয়তো ভাবছে, জনাবা মন্ত্রী সময় থাকতেই সাবধান হোন।

***
ফিচার ছবি: অনলাইন মিডিয়া সার্ভিস