ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

এ জাতির একটি গন্তব্য ছিল; অঙ্কিত হয়েছিল সেই গন্তব্যের পথচিত্র; শুরু হয়েছিল সে গন্তব্য পানে পদযাত্রা। কিন্তু মাঝে এক দল আঁধারের পুজারী মুছে দিয়েছিল জাতির সেই পথ চিত্রকে। উদ্দেশ্য একটাই, এদেশের মানুষকে ভ্রান্ত পথে তাড়িয়ে নিয়ে গন্তব্যহীন করে তোলা। বন্দীশালার এই অস্ত্রধারীরা ব্যর্থ হয়নি পুরোপুরি, এদেশের জনতার একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে তারা বিপথগামী করতে পেরেছে, গন্তব্যহীন করতে পেরেছে; আবেগ দিয়ে চোখ ও মনের দৃষ্টিকে কেড়ে নিতে পেরেছে।

আজ সংবিধান সংশোধন বিল পাশের মধ্য দিয়ে জাতিকে জাতীয় সংসদ আবারো মনে করিয়ে দিতে পেরেছে তার গন্তব্য কোথায়, সে গন্তব্যে পৌঁছাবার সঠিক পথ কোনটি। সংবিধান সংশোধন করতে গিয়ে সংসদকে আজ যা করতে হয়েছে তা রাষ্ট্র দর্শনের মাপকাঠিতে পুরোপুরি সমর্থনযোগ্য নয় ঠিকই কিন্তু এক প্রকার স্থুল আবেগের কাছে জনপ্রতিনিধিরা ছিলেন বন্দী। তারা রাষ্ট্রকে ধর্মের খোলস থেকে বের করতে পারেননি, যার ধর্মের প্রয়োজন নেই তাকে ধর্মের শিকল পড়িয়েই রাখতে হয়েছে। এক খন্ড আবেগ পেছন থেকে তাদের হাত টেনে ধরেছিল। তাই পুরোপুরি সফল হননি আমাদের আইন প্রণেতারা। কিন্তু আজ যে কাজ আংশিক সাধিত হয়েছে আগামীকাল তা পূর্ণ হবে- এটাই সত্য। এদেশের তরুণ প্রজন্ম ঠিকই পেছন থেকে খামচে ধরা কালো হাতকে ছিন্ন করে তাদের প্রিয় জন্মভূমির সঠিক পরিচয় নির্ধারণ করবে বলিষ্ঠ হৃদয়ে। আবেগ তাদের বিবেককে পঙ্গু করতে পারবেনা। জাতির ভবিষ্যতেরা পুনরুৎপাদিত করবে না বর্তমান চালচিত্র। তাদের হাত দিয়েই একদিন এই রাষ্ট্র হবে পরিপূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ; পাবে গণতন্ত্র। যেখানে নাগরিকের সম্মান ও অধিকারই হবে মুখ্য; কোন ধর্মাদর্শের নয়।

সংবিধান সংশোধন প্রেক্ষিতে আজ একজন ব্যক্তির বক্তব্য মুখ্য। তিনি বেগম খালেদা জিয়া নন কারণ তার কথা বহুবার শ্রুত। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (যার বহুমাত্রিক গুণ অনস্বীকার্য) প্রশ্ন করেছেন, সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস অংশটুকু মুছে ফেলার ফলে তবে কী আমরা শয়তানের উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখবো। তার এই প্রশ্ন সত্যিই বিস্ময়কর, নব্য আবিস্কৃত ও স্ববিরোধী। বঙ্গবীরকে বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুর সময়ে ১৯৭২ সালে যে জাতীয় সংবিধান রচিত হয়েছিল, যে বঙ্গবন্ধু এখন পর্যন্ত আপনার নেতা, সেই আদি সংবিধানে কি আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাসের কথা লিখা ছিল? যদি নাই থাকে তবে সেই সংবিধান কী ‘শয়তানের উপর আস্থা’ রেখে রচিত হয়েছিল? যদি তাই হয়ে থাকে, তবে আপনিও কী সেই সংবিধানকে প্রাণভরে স্বীকৃতি দেননি? দিয়েছিলেন। ৭২ এর আদি সংবিধানে যুক্তিসম্মত ভাবেই ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছিল, কোন ধর্মাশ্রয়ী রাষ্ট্রের কথা বলা হয়নি। আমিনী গংদের মত আজ আপনিও বলছেন, একজন মুসলমান হিসেবে সংবিধানের এই পরিবর্তন আপনি মানতে পারেন না। কিন্তু আমরা তো দেখছি সেই ৭২ এও আপনি মুসলমান ছিলেন এবং এখনও আছেন। তখন যদি ‘আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” হীন সংবিধানকে মানতে পারেন তবে এখন কেন পারবেন না? নাকি প্রাপ্তির স্বার্থে আপনিও কেবলা বদলিয়েছেন! যদি তাই হয় তবে জানবেন, এ জাতির কেবলা একটাই। আর সে কেবলা অটুট রাখার জন্য নবীন প্রজন্ম সম্পূর্ণ প্রস্তুত।