ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

গতকাল বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আজমের সাথে একটি ঘরোয় পরিবেশে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। পাঠক নিশ্চয় জানেন তিনি বিচারপতি খায়রুল হককে নিয়ে মন্তব্য করার কারণে আদালত অবমাননার মামলায় অভিযুক্ত এবং আগামী অক্টোবরে এই মামলার রায় হবার সম্ভাবনা প্রকট। গতকাল ব্যারিস্টার আজম কোন ভূমিকা ছাড়াই বলে ফেললেন, এবার আমাকে জেলে যেতেই হবে। হাইকোর্টের জেল দেবার ক্ষমতা যেহেতু ১ মাস তাই তাকে ১ মাসই জেলে থাকতে হবে বিচারপতিকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেবার জন্য। তিনি জানালেন, হাইকোর্টের বিচারপতিগণ তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইবার সুযোগ দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। তার ভাষায়, তার বক্তব্য ভুল ছিলনা, তিনি সঠিক মন্তব্যই করেছিলেন। তাই ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই উঠেনা।

তার এই কথার পর আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে মন্তব্য করার কারণে তাকে যদি শেষ পর্যন্ত জেলে যেতেই হয় তবে এই নজিরের কারণে বেগম খালেদা জিয়াকেও তো একই ভাগ্য বরণ করতে হবে। কারণ তিনিও বিচারপতি খায়রুল হককে নিয়ে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন। বেগম জিয়াকেও জেলে ঢুকাবার চেষ্টা চলছে। এই যদি অবস্থা হয় তবে বেগম জিয়া কী করবেন। যে অভিযোগে ব্যরিস্টার আজম জেলে যাবেন সেই একই অভিযোগ থেকে কী বেগম খালেদা জিয়াকে রেহাই দেয়া হবে? স্বাভাবিকভাবে ধরে নেয়া যায়, হয়তো না। সেক্ষেত্রে বেগম জিয়া কোন পথ বেছে নেবেন? নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা নাকি জেল? বিএনপি নেতাদের কথায় আমার মনে হয়েছে, বেগম জিয়া ক্ষমাই চাইবেন। কারণ আবার জেলে যাবার কিংবা দন্ডিত হবার ইচ্ছা তার নেই।

আর যদি ভিন্ন কিছু হয়, তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আদালত তাকে এবারের মত ক্ষমা করতেও পারে।