ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বর্তমানে অরাজকতা বিরাজ করলেও স্বয়ং যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনের যোগাযোগ জ্ঞান যে মন্দ তা বলা যাবে না। জানা যায়, এনায়েতপুরের পীরের মেয়ের জামাই কোটিপতি জনাব আবুল হোসেন মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন শেখ রেহানার আশীর্বাদে। তাই অনেকে আবুল হোসেনকে শেখ রেহানার নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রী বলতেই আগ্রহ বোধ করেন। এই বাস্তবতায় আবুল সাহেবের মনের জোর একটু বেশি। মনের জোরে অফিসে গেছেন কিন্তু কোন কাজ খুঁজে পাননি। দেশের রাস্তাঘাট দেখভাল করার দায়িত্ব যে তার সেটা তার জানা ছিল বলেও মনে হয়না। কিংবা ব্যবসার কারণে বিমান আর হেলিকপ্টারে উড়ে বেরান বলে সড়কপথ আর জলপথের পার্থক্যও হয়তো তিনি বুঝেন না। যে কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়েগুলোতে হাঁটুপানি জমে গেলেও তিনি ভেবেছেন ‘সবকিছু ঠিকই আছে।’ একই কারণে রাস্তায় সৃষ্টি হওয়া খানাখন্দগুলোকেও তিনি ভেবেছেন মহাসড়কের স্বাভাবিক চিত্র হিসেবে।

এই অসাধারণ যোগাযোগ মন্ত্রীকে নিয়ে দেশে এখন হৈ চৈ চলছে। শুরুটা অনেক আগেই হয়েছে তবে এখনো চলছে। শহীদ মিনারে সমাবেশ হয়েছে, বুদ্ধিজীবী আবুল মকসুদ ঈদের দিন সেখানে অবস্থান করে মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। কিন্তু সমস্যা হলো যে আন্না হাজারেকে দেখে এই কর্মসূচী সেই হাজারের মত জনসমর্থন মকসুদ সাহেব পাননি। ঈদ উদযাপন বাদ দিয়ে শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে কোন কিছুর প্রতিবাদ করার মানসিকতা এখনো আমাদের নাগরিক সমাজের সৃষ্টি হয়নি বলেই প্রতীয়মান হয়। বাঙালিরা স্রোতের টানে চলে, তাই হুট করেই কোন দিকে তাদের টেনে নেয়া বেশ দুরহ কাজ।

কিন্তু তাতে কী? লোকের ঘাটতি ছিল বলেই যে আবুল হোসেন তার ব্যর্থতার দায় থেকে অব্যাহতি পেয়ে যাবেন তা হতে পারেনা। নিজ দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে তিনি যে অজ্ঞতা ও অলসতার পরিচয় দিয়েছেন তার দায় তাকে নিতেই হবে। জনাব আবুল মকসুদ সাহেব শহীদ মিনারে দাঁড়ালেও এ দায় তার কিংবা পলিটিক্যালি সিক হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও এই দায় তার। মন্ত্রীদের অভিভাবক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সবসময় খোলামেলা ভাবে তাদের হয়তো দোষারোপ করতে পারেন না কিংবা হয়তো শেখ রেহানার প্রতিনিধি হিসেবে আবুল হোসেনের প্রতি তিনি খুব সহজে রূঢ় হতেও চাননা। কিন্তু এই মানসিকতার ক্ষতি অনেক। অন্যের ব্যর্থতা আড়াল করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সেই ব্যর্থতার দায় হয়তো শেখ হাসিনার উপরই বর্তাতে পারে। তাই আমার ভাবনায়, প্রধানমন্ত্রীর উচিত বোনের স্বার্থ কিংবা তার মুখ রক্ষা করার চিন্তা থেকে বের হয়ে এসে দ্রুত এই ব্যর্থ ও অলস যোগাযোগ মন্ত্রীকে অব্যাহতি দিয়ে একজন অভিজ্ঞ ও কর্মঠ ব্যক্তিকে এই পদে আসীন করা। তা না হলে আগামী নির্বাচনের ফলাফল এই মহাসড়কগুলোর মতোই হয়ে যেতে পারে।