ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

একটি ঢেউ বিডি ব্লগকে নাড়া দিচ্ছে। এখন অবধি মৃদু, তবে ধারণা করি প্রচন্ড শক্তি নিয়েই ঢেউটা সৈকতে আছড়ে পড়বে শীঘ্রই। এ ঢেউ ‘লাইভ ব্লগিং আড্ডা’। কেউ কেউ বলছেন, হট সিট। নামটা অন্য ব্লগ থেকে ধার করা। যদিও লক্ষ্য করেছি, ধার করা নামটাই যে এ ব্লগে রেখে দিতে হবে এমন ধারণা অন্যান্য সম্মানিত ব্লগারগণ পোষণ করছেন না। অর্থাৎ প্রয়োজনে তারা নতুন নামে প্রক্রিয়াটি শুরু করতেও প্রস্তুত। আমি যদি আমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বাইরে বের হয়ে আসি তবে বলবো, এটা খুবই সুন্দর একটি উদ্যোগ। প্রক্রিয়াটি ব্লগারদের সাথে এমন একটি আন্তরিকতা ও ভালবাসার সম্পর্ক তৈরি করবে যা এই ব্লগকে করে তুলবে আরো প্রাণবন্ত ও স্পন্দিত। এই ধারার একটি ছন্দ আছে, ছন্দটা আড্ডাময়। যেহেতু আমি আমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই মুহূর্তে বাইরে তাই আমিও এই ইভেন্টের সম্ভাব্য নাম চট করে বলে ফেলতে পারি-

ক. বিডি হলিডে (B D Holiday) কিংবা
খ. হলিডে টক (Holiday Talk)

দুটি নামের মধ্যেই হলিডে শব্দটি রেখেছি এক জন্য যে, ইভেন্টটি হওয়া উচিত ছুটির দিনে। কারণ প্রতিদিন বা খুব ঘন ঘন এই ইভেন্ট হলে তা বিরক্তিকর, আকর্ষণহীন ও ফ্লপ জাতীয় ইভেন্টে পরিণত হতে পারে।

এখন আমি আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে ফিরে আসি। অনেকদিন আগে বিডিনিউজ২৪ ব্লগ: যেভাবে দেখি শিরোণামে একটি লেখায় লিখেছিলাম-

কোন কোন ব্লগ সাইটে আড্ডা মূলক পোস্টের আধিক্য লক্ষ্য করা গেলেও বিডিনিউজে তা ইতিবাচকভাবে অনুপস্থিত। কারণ আড্ডামূলক পোস্ট ব্লগিং ভাবধারার সাথে মানানসই নয়। অনস্বীকার্য, আড্ডা আন্তরিকতা বাড়ায়, সৃজনী শক্তি বৃদ্ধি করে, পারস্পারিক বোঝাপড়ার ভিত মজবুত করে। কিন্তু আড্ডা কখনো ব্লগিং হতে পারেনা। বরং একটি পোস্টের বিপরীতে যে মন্তব্য ও জবাব সংযুক্ত হয় তার মধ্য দিয়েই এক প্রকারের মতবিনিময়ের সুযোগ আছে এবং ভিন্নার্থে এটিও এক প্রকার আড্ডা এবং তা ব্লগিং এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাছাড়া সিটিজেন জার্নালিজম নামক যে ধারণা বিডিনিউজ সৃষ্টি করতে চাইছে সেটিও ব্লগিংকে একটি নতুন মাত্রায় দৃশ্যায়ন করবে।

ব্লগিং সম্পর্কে এই দৃষ্টিভঙ্গি আমি এখনো লালন করি। আমি একজন ব্যক্তি ব্লগার হিসেবে মনে করি যে, এ ধরণের গোসিপিং কিংবা আড্ডা ব্লগিং সংস্কৃতি এবং অধিকন্তু সিটিজেন জার্নালিজমের অনুকুল কোন সংস্কৃতি নয়। এটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করতে পারে, অনেকের সমাবেশ ঘটাতে পারে, অন্যকে ব্যক্তিগতভাবে জানা যেতে পারে কিন্তু এর কোনটিই ব্লগিং সংস্কৃতিকে উৎকর্ষ দান করতে পারেনা। কারণ সোজা, উপরের কোন প্রক্রিয়াই ব্লগিং সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত নয়। এগুলোকে আমাদের দেশীয় বিবর্তন বলা যেতে পারে যার গতি বহুলাংশেই অধঃমুখী।

কিন্তু তাতে কী! এটাতো আমার দৃষ্টিভঙ্গি। সবার কিংবা ব্লগটিমের দৃষ্টিভঙ্গি নয়। আর গণতন্ত্রে সবারটাই স্বীকৃত হবে এটাই স্বাভাবিক। ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করেছি, ব্লগটিম প্রক্রিয়াটি শুরু করতে সম্মতি জানিয়েছে এবং এই সম্মতি ব্লগ সাইটের জনপ্রিয়তার স্বার্থেই হয়েছে বলে আমি মনে করি। এমন হতেই পারে। কারণ প্রতিট ব্লগারই ব্যক্তি কিন্তু ব্লগ সাইট ব্যক্তি নয়। এর আরো অনেক পরিচয় রয়েছে। সেই পরিচয়ের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়াটাও জরুরী।

তারপরও প্রক্রিয়াটি যাতে সুগঠিত, ব্লগটিম কর্তৃক সুনিয়ন্ত্রিত এবং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে যাতে পরিচালিত হয় সেটিই আমি প্রত্যাশা করবো। এবং সবার প্রতি শ্রদ্ধার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কখনো কখনো হয়তো প্রক্রিয়ার মধ্যে ঢুকেও পড়বো। চলবে…