ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা


ছবি: বিডিনিউজ২৪.কম

ঝালকাঠির এক অখ্যাত কলেজ ছাত্র লিমন আজ বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতীক। সন্ত্রাস দমন বাহিনী র‌্যাব এর অস্ত্র বর্ষিত বুলেটে সে এখন পা হারা। ঈশ্বর যে পা তাকে দিয়েছিলেন তা কেড়ে নিয়েছে আমাদের রাষ্ট্রের একটি রক্ষক বাহিনী; কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ যাকে বলেছেন কালো র‌্যাব। লিমনের দেহে যে শূন্যতা সৃষ্টি করেছিল কালো র‌্যাব তা পূর্ণ হয়েছে একটি কৃত্রিমতায়। ঈশ্বরেরটির বদলে চলার জন্য সে পেয়েছে মানুষের তৈরি একটি পা। লিমন এখন হাটছে। কিন্তু তার পায়ের সাথে সাথে আমাদের বিবেকের রাজ্যে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল তা কতটুকু পূর্ণ হয়েছে সেটা ভাবনার বিষয়। কারণ বিবেকের ক্ষত বড্ড গভীর। এই ক্ষত লিমনকে দিয়েই শুরু নয়, লিমনকে দিয়েই শেষ নয়। লিমনের পরে পিতৃপুরুষ পুলিশের বিবেকহীনতায় আমিন বাজারে প্রাণ দিতে হয়েছে আরো ছয়জন নিরাপরাধ ছাত্রকে। আমাদের পক্ষাঘাত আক্রান্ত বিবেকের তালিকায় এখনো হয়তো রয়ে গেছে এদের মত আরো অনেকের নাম ।

গতকাল মানবাধিকার কমিশানারকে কাছে পেয়ে লিমন যেভাবে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিল তাতে শুধু লিমনের অসহায়ত্বই নয় ফুটে উঠেছে মানবাধিকার রক্ষা কমিশন নামক একটি প্রতিষ্ঠানের অসহায়ত্ব। এই রক্ষক কালো র‌্যাবের মত বলবান নয়, সে অসহায়। পায়ে তার শেকল-বেড়ি। যে বুকে ড. মিজানুর রহমান লিমনকে জড়িয়ে ধরেছিলেন সে বুকের মূল্য কতখানি? নাকি তার বুকটাও নিরেট পাথরে বাঁধা? লিমনদের আশ্রয় দেবার সামর্থ সে বুকের নেই! আছে কী? আমার জানা নেই।

কিন্তু একই যে দৃশ্যপট, সেখানে তো মিজানুর রহমান না থেকে অন্যকেউ থাকতে পারতেন। যেমন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিও তো এর আগে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন পুরোনো ঢাকার মা হারানো দুই বোনকে; গ্রহণ করেছিলেন নিজ কন্যা হিসেবে, উপহার দিয়েছিলেন নতুন সংসার। প্রধানমন্ত্রীও কী চাইলে পারতেন না লিমনকে একইভাবে জড়িয়ে ধরতে, তার পা যারা কেড়ে নিয়েছে তাদের চাকুরী কেড়ে নিতে কিংবা অন্তত লিমনের পড়ালেখার ভার নিজ কাধে তুলে নিতে। তার বুকেও কী জায়গার অভাব? নাকি অভাব আছে বলের? না, নেই। এর কোনটির অভাবই প্রধানমন্ত্রীর নেই। তিনি বলবান। তাই তিনি পারতেন।

তিনি এখনো পারেন। তার একটু সান্নিধ্যে লিমন পেতে পারে সাহস আর কালোরা পেতে পারে ভীতি। লিমনের এটুকুই প্রয়োজন; এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।