ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, রাজনীতি

 

আজ শুরু হচ্ছে বিরোধী দল বিএনপির দ্বিতীয় দফা রোড মার্চ। প্রথম দফায় ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে রোডমার্চ প্রত্যাশা অনুযায়ী সফল হওয়ায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের মেজাজ এখন বেশ ফুরফুরে। তাদের কথায়, আচরণে এবং সাংগঠনিক তৎপরতায় স্পষ্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে সেই ফুরফুরে ভাব। আর বিএনপির সমর্থকদের তো কোন কথাই নেই- রোড মার্চের সফলতা বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগে গলার স্বর আটকে যায়। প্রথম দফা রোডমার্চের সফলতা নিয়ে প্রায় সব মহলের ঐক্যমত থাকার কারণেই হয়তো তাদের এই বারতি আবেগ। আবেগ থাকুক, বাঙালী আবেগের জাতি।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে রোডমার্চ কর্মসূচী এবারই প্রথম কিংবা নতুন নয়। বিএনপি রোডমার্চ কর্মসূচীর সূচনা করেছিল ২০০১ এর নির্বাচনের বেশ আগে বিরোধী দলে থাকা অবস্থায়। সেবারের রোডমার্চটির গন্তব্য ছিল উত্তরবঙ্গ এবং সরাসরি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ আমার হয়েছিল। আমি তখন কলেজে পড়ি। সারা দেশে ঐ রোডমার্চটিও বেশ সাড়া ফেলেছিলো তবে সিলেট অভিমুখী রোডমার্চের মত এত বিপুল সংখ্যক গাড়ি বোধহয় তখন চোখে পড়েনি। সে হিসেবে এবারের রোডমার্চ আগের চেয়েও বেশি বড় ও সাড়ম্বর। আমার মনে আছে, চট্টগ্রাম যাবার সময় নারায়নগঞ্জে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে কাচপুরে এলোপাথারি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল বটে কিন্তু খালেদা জিয়া ফিরে আসেননি। দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে শেষপর্যন্ত চট্টগ্রাম পৌঁছেছিলেন। অবশ্য এবারের সিলেট যাত্রায় শামীম ওসমান আগের মত কিছু করেনি, হয়তো সিটি নির্বাচনের কারণে।

তবে শামীম ওসমান না করলেও তার দায়িত্বটা পালন করছেন সিরাজগঞ্জের ডিসি। হাটিকুমরুলে খালেদা জিয়ার পথসভার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তিনি এক ধরনের বায়বীয় প্রতিবন্ধকাতা সৃষ্টি করেছেন। শামীম ওসমান রাস্তায় রেখেছিল ট্রাক আর এই ডিসি রাখলেন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। শামীম ওসমান যেমন সরকার দলীয় তেমনি ডিসিও সরকারের লোক। তাই এই প্রতিবন্ধকতা সরকারের তরফ থেকেই সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে ধরে নেয়া যায়। ডিসির দাবি ঐ স্থানে জনসভা করলে যানজট সৃষ্টি হবে এবং এর আগে ট্রেনে আগুন দেবার ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তারও নাকি সমস্যা আছে। একজন জনদরদী ডিসিই বটে। কিছুদিন আগেও যখন হাজার হাজার গাড়ি মহাসড়ক দিয়ে চলতে পারছিল না তখন অবশ্য এই ডিসি সাহেবকে তেমন কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। পথে আটকে থেকে নাকাল হতে হয়েছে হাজার হাজার যাত্রীকে।

বিরোধী দল যখন হরতাল দেয় তখন মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠে, যন্ত্রণা শুরু হয় সরকারের অন্তপুরে। বিশিষ্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীও হুংকার ছাড়েন কঠোরভাবে দমন করার কথা বলে। তিনি সহ সরকারের সকলে মিলে আহ্বান জানান ধ্বংসাত্মক কর্মসূচী না দিয়ে জনবান্ধব ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচী দিতে। সেক্ষেত্রে কথা দেন সহযোগিতা করার। হরতাল বাদ দিয়ে বিএনপি যখন রোডমার্চের কর্মসূচী ঘোষণা করলো যখন দলমত নির্বিশেষে সবাই এর প্রশংসা করেছেন। কারণ এ কর্মসূচী ধ্বংসাত্মক নয় বরং জনসম্পৃক্ততা বাড়াবার জন্য খুবই উপযোগি। এর প্রমাণও পাওয়া গেছে। অথচ সেই কর্মসূচীতে প্রচ্ছন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করে সরকার নিজেই একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে কেন? সিরাজগঞ্জে বিএনপি যদি জোর করে জনসভা করতে যায় তখন সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। আর এমন পরিস্থিতি কোন মতেই সরকারের জন্য সহায়ক হবে বলে কেউ মনে করেন না। বরং বিরোধী দলের হাতে আরো একটি নতুন ইস্যু চলে আসতে পারে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতেও বাধা পেলে তারা আবারো হরতাল কর্মসূচীতে ফেরত যেতে পারে। অথচ আমরা জনগণ হরতাল চাইনা।

তাই সরকারকে অনুরোধ করবো, কোন অপদার্থ নেতার কথায় কান না দিয়ে বিরোধী দলকে তাদের কর্মসূচী পালন করতে দিন। এতে অনেক মঙ্গল আছে।

***
ফিচার ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম