ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

আবারো আনন্দে ভাসছে বাংলাদেশ। হঠাৎ হঠাৎ জ্বলে ওঠাই আমাদের জাতীয় চরিত্র এবং এ চরিত্র থেকে বাদ যায়নি আমাদের জাতীয় ক্রিকেট দলও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে এবারের ক্রিকেট সিরিজের প্রথম ম্যাচটি লড়াইপূর্ণ হলেও দ্বিতীয়টি ছিল বেশ সাদামাটা। হারার জন্যই বোধ হয় সেদিন মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। প্রতিটি খেলাতেই জয় পেতে হবে এমন কোন কথা নেই কিন্তু জয়যাত্রা যদি পানসে হয় তবে তৃপ্তির না হয়ে হয়ে ওঠে বিষাদময়। পরপর দুই ম্যাচে হেরে সিরিজটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে তুলে দিয়ে নিয়ম রক্ষার শেষ ম্যাচে আমাদের জাতীয় দল এমনভাবে জ্বলে ওঠলো যেন ভূমিকম্প। চট্টগ্রাম কেঁপে ওঠলো আর দেবে গেল ইন্ডিজরা। এক অস্বাভাবিক বীরত্বগাথা। আমাদের বীরদের এমন বীরত্ব দেখে উদ্বেলিত পুরো জাতি। সত্যিই চমৎকার। কিন্তু গর্বের কতখানি?

এক কথায় অনবদ্য ছিল আজকের খেলা। খেললো সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি দল। যেন পৌরাণিক কোন কাহিনী। যদিও খেলাধুলাতে পৌরাণিক বীরত্বের চেয়ে স্বাভাবিক বীরত্বই বেশি প্রত্যাশিত। এখানে হঠাৎ হঠাৎ বিস্মকরভাবে জেতার চেয়ে নিয়মিত দক্ষতা প্রদর্শন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের জাতীয় দলের খেলোয়ারদের মধ্যে সেই প্রবণতা খুব কমই দেখা যায়। তাদের খেলা দেখে কখনো মনে হয় যেন উইকেট খোয়াবার প্রতিযোগিতা চলছে আবার কখনো মনে হয় যেন উইকেট হরণের প্রতিযোগিতা। ফলে কোন খেলায় যে তারা কোন প্রতিযোগিতায় নামবে তা আগে থেকে বুঝা মুশকিল হয়ে যায়। আর এ কারণেই আমার ধারণা, বাংলাদেশের প্রতিটি খেলার আগেই ‘অনিশ্চয়তা’ নামক এক মানসিক যন্ত্রণায় দগ্ধ হয় পুরো বাঙালি দর্শক সমাজ। তারা বুঝে উঠতে পারেনা ঠিক কী হতে যাচ্ছে। ক্রিকেটকে বলা হয় অনিশ্চয়তার খেলা কিন্তু সে অনিশ্চয়তা সৃষ্টিতে আমারাই বোধহয় সেরা। প্রতিটি খেলার শুরুতে আমাদের আতঙ্কে থাকতে হয় ‘এই বুঝি গেল’ নিয়ে আবার যদি কোন খেলায় একবার ভাল খেলে তখন আমাদের ধারণা হতে থাকে ‘এই বুঝি নিল’। অথচ এই ‘গেল’ আর ‘নিল’র মধ্যে একটি ভারসাম্য ও ধারাবাহিকতা থাকা উচিত। আমাদের ক্রিকেটারদের উচিত এমনভাবে নিজেদের ইমেজ তৈরি করে নেয়া যাতে প্রতিটি খেলার শুরুতেই দর্শকরা যেন বোধ করে যে, ঝড়ের বেগে তারা হারবেও না এবং ঝড়ের বেগে হারাবেও না। তারা লড়বে এবং লড়ে জয়ী হবে। কিংবা যদি হারেও তবুও যেন তাদের হারটা নয় আলোচনায় আসে লড়াইয়ের কথাটা। এটাই একজন অনিয়মিত ক্রিকেট দর্শক হিসেবে আমার প্রত্যাশা।