ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

দ্বিতীয় দফার রোড মার্চে বিরোধী দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিন কুখ্যাত রাজাকার ও ধর্মব্যবসায়ী ফজলুল হক আমিনীর পক্ষে তার অবস্থান আরো স্পষ্ট করেছেন। প্রথম দফায় সিলেটের জনসভায় তিনি বন্দি রাজাকারদের মুক্তি দাবি করলেও এবারের জনসভায় একেবারে নাম ধরে ধরে সেই দাবির পুনরাবৃত্তি করেছেন। ‘নিজামী , মুজাহিদ ও সাইদি সাবেবের’ বিরুদ্ধে সকল ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে তিনি সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন নয় তাই এর আওতায় কোন বিচার গ্রহণযোগ্যতা পাবেনা।

বেগম খালেদা জিয়ার এই অবস্থান বিদঘুটে কিন্তু তার রাজনৈতিক মত-পথ বিচারে একেবারে অপ্রত্যাশিত নয়। ৯১-৯৫ মেয়াদে সরকারে থাকাকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ জামাতকে নিয়ে যেভাবে আন্দোলন তুঙ্গে তুলেছিল জামাতকে সাথে রাখার শিক্ষা বেগম জিয়া বোধহয় সেখান থেকেই পেয়েছিলেন। সেই শিক্ষা গ্রহণ করে তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, জামাতকে প্রভুহীন রেখে আর ভুল করা যাবেনা। তাই ৯৬-২০০১ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই তিনি আপন করে নেন জামাতসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক ছোট দলগুলোকে। সেই সাথে তিনি পেয়ে যান স্বৈরাচার এরশাদের জাতীয় পার্টিকে। এদের যৌথ উদ্যোগে গঠিত হয় চার দলীয় জোট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই চারদলীয় জোট তুচ্ছ ছিলনা। তীব্র আন্দোলন করে দেশের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ তারা নিজ হাতে নিতে পেরেছিল। সূচনা করেছিল জোটবদ্ধ নির্বাচন এর ধারা। অবশ্য জাতীয় পার্টিকে শেষ পর্যন্ত সেই ইতিহাসের পোক্ত অংশীদার হবার গৌরব হারাতে হয়। চারদলীয় জোট হয়ে যায় বিএনপি-জামাত জোট। আর তখন থেকেই শুরু হয় গ্রহণের লগ্ন। প্রভু হয়ে যায় গোলাম আর গোলাম হয় প্রভু।

সে ধারা এখনো অব্যাহত আছে। দিনে দিনে জামাত গ্রাস করেছে বিএনপিকে। জামাতের তিন কুলাঙ্গার চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী হলেও জামাতের মাদকতায় অন্ধ বিএনপি এখন তাদের নিষ্পাপ বলে দাবি করা শুরু করেছে। বেগম জিয়ার মত দেশের শীর্ষ নেত্রীকেও এখন পথে পথে ঘুরে বলতে হচ্ছে এই তিন ‘সাহেব’ নিরিহ, নিরাপরাধ। এটা বিএনপি ও বেগম জিয়ার জন্য কলঙ্কজনক। এই কলঙ্ক ভবিষ্যতে তাদের খুবলে খাবে। বেগম জিয়া যদি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালকে আন্তর্জাতিক মানের মনে নাই করনে তাতে কোন সমস্যা দেখি না। তার দাবি অনুযায়ী এই ট্রাইবুনালকে মানোত্তীর্ণ করার উদ্যোগ নেয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু মানোত্তীর্ণ করতে হলে মামলা প্রত্যাহার করে অপরাধীকেই ছেড়ে দিতে হবে এ কেমন কথা!

এখানেই শেষ নয়, এবারের রোডমার্চে বেগম খালেদা জিয়া রেকর্ড বাজিয়েছেন ধর্মব্যবসায়ী ফজলুল হক আমিনীর বক্তব্য। আমিনী সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, আমাকে গ্রেফতার করা হলে এর পরিণাম হবে ভয়াবহ। সরকারের পতন হবে সাত দিনের মধ্যে। রোডমার্চ শেষে জনসভায়ও খালেদা জিয়া বললেন, আমিনীকে গ্রেফতার করা হলে এর পরিণাম হবে ভয়াবহ। এমন আদর্শিক অধঃপতন লজ্জাজনক। আমিনীর কথায় যদি বেগম খালেদা জিয়ার এতোই বিশ্বাস তবে সে গ্রেফতার হলেই তো ভাল। বেগম জিয়াতো সরকার পতনের জন্যই আন্দোলন করছেন। আমিনী গ্রেফতার হলে যদি সাত দিনেই সরকার পরে যায় তবে এতো কষ্ট করে আন্দোলন করার কী প্রয়োজন! সরকারকে বলে আমিনীকে গ্রেফতার করালেই তো চলে।

বিএনপি ও বেগম জিয়ার এই যে আদর্শিক পরাজয় এর কৈফিয়ত একদিন জনতার কাছে অবশ্যই দিতে হবে।