ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদরে বদ্ধমূল ধারণা এই মহাবিশ্বের ৮৩ শতাংশই এমন এক উপাদান দিয়ে সৃষ্ট যা আলোগ্রাসী। তারা এর নাম দিয়েছেন ডার্ক ম্যাটার যাকে বাংলায় বলা যেতে পারে আঁধার কণিকা। এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের বেশির ভাগ অংশই যেহেতু এই আঁধার কণিকা দিয়ে সৃষ্ট তাই এর বেশির ভাগ অংশই এখনো অজানা, অদেখা। এর প্রভাবে সব কিছুই রহস্যময়।

এই তো কিছুদিন আগে কানিজ আলমাস খান নামক এক উচ্চবিত্ত মহিলার মালিকানাধীন বিউটি পার্লারে ঘটে গেল ভয়ংকর ও চিন্তাউদ্রেককারী ঘটনা। এক সেবাগ্রহিতা চিকিৎসক আবিস্কার করলেন নারীদের পোশাক বদলাবার ঘরে লুকানো ক্যামেরা। তিনি আবিস্কার করলেন, সে ক্যামেরা বন্দি করেছে তার পোশাক বদলাবার গোপন মুহূর্ত। তিনি হৈ চৈ করলেন, হৈ চৈ করলেন তার স্বামী। পুলিশ এলো, ঘটনার সত্যতা মিললো। কিন্তু লজ্জা ও সম্মানহানীর ভয়ে সে দৃশ্য তিনি কম্পিউটার থেকে মুছে দিলেন। ভুল ছিল না এ সিদ্ধান্ত। একজন সেবা গ্রহিতা আত্মসম্মানের প্রচন্ডতায় এমন কাজ করতেই পারেন। কিন্তু সমস্যা বাধলো অন্য জায়গায়। একটি ঘটে যাওয়া অপরাধ আড়াল হয়ে গেল পুলিশের উপস্থিতিতে। পুলিশের দায়িত্ব যেখানে ঘটনার আলামত/প্রমাণ সংগ্রহে রাখা সেখানে দায়িত্বরত অফিসার করলেন ঠিক তার উল্টোটা। জব্দকৃত কম্পিউটার তিনি তুলে দিলেন ভুক্তভোগীর হাতে। আর সে ভুক্তভোগী তার ব্যক্তিগত স্বার্থ চিন্তা করে মুছে দিলেন একটি ইতিহাস। কিন্তু ঘটনা ততোক্ষণে আাকাশ বাতাস কাঁপিয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্র হয়ে গেছে পর্ণগ্রাফির এই অভিযোগ। সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করলেন, তদন্তকারীরা সময় পেল তিন দিন। আহা! বাঙালী অংকে পাকা। বানরের তেলমাখা বাঁশ বেয়ে উঠার অংক কেবল এই বঙ্গদেশেই পাওয়া যায়। বানরেরও আর বাঁশ বেয়ে উঠা হয়না, তদন্তের ৩ দিনও আর ফুরোয়না। সময়ের পর সময় নিয়ে চলেছেন পুলিশের কর্তারা। তিনি দিন এখন মাস ছুতে চলেছে তবুও তদন্ত শেষ হয়না। কী অদ্ভুত!

তবে কী পারসোনাও হয়ে গেল জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সেই আঁধার কণিকা! এটা কী আলোগ্রাসী কিছু! থেকে যাবে রহস্য হয়েই! কানিজ আলমাসের কী এতোই ক্ষমতা যে তিনি চাইলেই সবকিছুকে গ্রাস করে নিতে পারেন। আইন, আইনের রক্ষক, সরকার- সবই কী তার কালো হাতের মুঠোয়? বাস্তবতা তো তাই বলে। তা না হলে এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনার তদন্ত করতে কেন এতো সময় লাগবে। কেন তিনি দিন এক মাসেও ফুরোবে না।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত শেষ করতে আরো ১০ দিন সময় নিয়েছে। আমরা বুঝি, এটাকে সময় নেয়া বলেনা, এটা কালক্ষেপন। এটা সত্যকে আড়াল করার, একজন অপরাধীকে রক্ষা করার এবং ভুক্তভোগী নারীদের অপমান করার অজুহাত। এ অজুহাত অগ্রহণযোগ্য।