ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

একটি বড় ভূমিকম্পে আবারো বিপর্যস্ত হলো তুরস্ক। বলা হচ্ছে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাবে। ভয়াবহ ভূমিকম্প সন্দেহ নেই। কিন্তু ২০১১ সালের এই ভূমিকম্প আমাকে মনে করিয়ে দিল একই রকম আরো একটি ঘটনা এবং তার সাথে জড়িয়ে থাকা একটি ‘অলৌকিক’ স্মৃতি।

আজ থেকে ১২ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৯ সালে ৭.৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল তুরস্কে। এই ভূমিকম্পটি পরিচিত ‘ইজমিত ভূমিকম্প’ হিসেবে। মারমারা সাগরের তীরে তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নাম ইজমিত। এই ভূমিকম্পে সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৭০০০ এবং বেসরকারি হিসেবে ৩৫০০০। অনেকেরই হয়তো মনে আছে সেই বিভীষিকার কথা- স্থির চিত্রে, চলচ্চিত্রে। সে ভূমিকম্প বিশ্ববাসীকে হতবিহ্বল করেছিল তার প্রচন্ডতায়, নৃশংসতায়। কিন্তু আরো একটি বিষয় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল সে সময়, বিশেষ করে আমাদের দেশে। একটি মহল আবিস্কার করেছিল এই ভূমিকম্পের পেছনে লুকিয়ে থাকা একটি অলৌকিক কাহিনীকে। ধর্ম আর প্রকৃতিকে জোড়াতালি দিয়ে বানানো এই কাহিনী শুধু আমার মনেই নয় বিশ্বাসের স্থান করে নিয়েছিল ধর্মপ্রাণ সব বয়সের মানুষের মনে। সে সময় আমি কলেজে পড়ি তাই সারা বিশ্ব জুড়েই এই অলৌকিক কাহিনীটি ছড়ানো হয়েছিল কিনা মনে নেই। সে সময়কার পেপার কাটিংগুলো আমার কাছে আছে তবে এমনভাবে যে খুঁজে বের করাটাই বিরক্তিকর।

যাই হোক, তখন ইনকিলাব নামক মৌলবাদী পত্রিকাটির প্রভাব পাঠক মহলে বেশ দৃঢ়। ভূমিকম্পের পর যখন দেখা গেল আধুনিক ও মজবুত ভবনগুলো ভেঙ্গে চুড়মার হয়ে গেছে অথচ বেশ কয়েকটি মসজিদ রয়ে গেছে অক্ষত তখনই আবিস্কৃত হতে থাকলো অলৌকিকতা। তবে এ ঘটনা কিছুটা তো বিস্ময়কর বটেই। দিগন্ত বিস্তৃত ধ্বংস-তূপের মধ্যে যখন কয়েকটি মসজিদ দাঁড়িয়ে থাকে তখন কিছুটা হতবাকই হতে হয়। কিন্তু মূল কাহিনী অন্যখানে। ভূমিকম্পের দিন কয়েক বাদেই সেই ইনকিলাব প্রকাশ করলো অদ্ভুত এক কাহিনী। প্রচন্ড শক্তি ও আবেগ ছিল সে কাহিনীতে। কাহিনীটি এরকম:

মারমারা সাগরের তীরবর্তী একটি সেনা কিংবা নৌ ঘাটি আছে। তুরস্কের সামরিক বাহিনী মূলত ধর্মনিরপেক্ষ কিংবা অনেকের মতে ইসলাম বিদ্বেষী। তাছাড়া ইসরাইলের মত ইসলাম বিদ্বেষী রাষ্ট্রের সাথে তাদের সম্পর্কও তখন মধুর। সেই সামরিক ঘাটিতে আয়োজন করা হয়েছে একটি মিলনমেলা। আমন্ত্রিত হয়ে এসেছে আমেরিকা, বৃটেন ও ইসরাইলে বড় বড় সামরিক কর্মকর্তাগণ। অনুষ্ঠানে চলছে নাচ-গান ও মদ্যপান। এরই এক পর্যায়ে কোন এক ইসরাইলি সেনা কর্মকর্তা এক তুর্কি জেনারেলকে প্রশ্ন করে বসলেন ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে। তিনি একজন ইসলাম বিদ্বেষী মানুষ। সেখানে আরো দু একজন ধর্মানুরাগী তুর্কি সেনা কর্মকর্তাও ছিলেন। তাদের মধ্যে আলোচনা চলতে থাকলো মুসলমানদের অশিক্ষা ও ধর্মান্ধতা নিয়ে। আলোচনার এক পর্যায়ে চলে আসলো কোরানের বিশুদ্ধার প্রসঙ্গ। কেউ একজন উল্লেখ করলেন কোরানের একটি আয়াতের কথা। কোরানে আল্লাহ বলেছেন, আমিই এই গ্রন্থ প্রেরণ করেছি এবং আমিই একে রক্ষা করবো। এ আয়াতের কথা শুনেই হেসে উঠলেন মদ্যপ ইসরাইলি ও সেই তুর্কি জেনারেল। হাসতে হাসতে তিনি এক অধঃস্তন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিলেন একটি কোরান নিয়ে আসতে। সবাই বেশ অবাক হলেন। নির্দেশ অনুযায়ী নিয়ে আসা হলো কোরানের একটি কপি। তুর্কি জেনারেল তখন হাসতে হাসতে সেই কোরান ছিরতে শুরু করলেন এবং বলতে থাকলেন দেখি একে রক্ষার জন্য আল্লাহ কী করেন। এ ঘটনায় প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলেন বাকি সেনা কর্মকর্তাগণ। তারা বাধা দেবার চেষ্টা করলেন ঠিকই কিন্তু সফল হননি। এখানেই ঘটনার শেষ নয়। বাধা পেয়ে ক্রুদ্ধ হলেন তুর্কি জেনারেল। এরপর তিনি সেই ছেড়া পৃষ্ঠাগুলো ছুড়ে মারলেন নর্তকীদের লক্ষ্য করে। ভয় ও লজ্জায় অনুষ্ঠানের কক্ষ ত্যাগ করলেন গুটি কয়েক ধর্মভীরু সেনা কর্মকর্তা। আর এর পরেই নাকি শুরু হলো এক অলৌকিক ঘটনার। ভূমিকম্পের তান্ডবলীলা থেকে বেঁচে যাওয়া এক সেনা কর্মকর্তা পরে নাকি বলেছেন যে ঐ ঘটনার পর আকাশ কমলা বর্ণ ধারণ করতে শুরু করে। প্রচন্ড কমলা দ্যুতির মধ্য দিয়ে দেখা যাচ্ছিল মারমারা সাগরের অস্বাভাবিক ফুঁসে উঠার দৃশ্য। প্রচন্ড জলচ্ছ্বাস এবং শেষে প্রচন্ড ঝাকুনি। তার পরের টুকু সবারই জানা- বিভীষিকা।

এ কাহিনীকে আমি তখন বিশ্বাস করেছিলাম তবে এখনো বিশ্বাস করি কিনা তা নিয়ে আর আলোচনা করবো না। স্মৃতিটুকু শেয়ার করলাম মাত্র।