ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

‘‘বিদ্রোহীরা চতুর্দিক থেকে আমাদের ঘিরে ফেলছিল কিন্তু বস তাতে ভীত ছিলেন না। তবে এমন পরিস্থিতিতে ঠিক কী করতে হবে তা তিনি বুঝতে পারছিলেন না। আমার জীবনে তার এমন অবস্থা আর কখনোই লক্ষ্য করিনি।’’ লিবিয়ার নিহত নেতা কর্ণেল গাদ্দাফির জীবনের অন্তিম দিনটির কথা এভাবেই বর্ণনা করলেন তার ৩০ বছরের গাড়ি চালক হানিশ নাসের। গাদ্দাফির সুদীর্ঘ ও বিচিত্র জীবনের শেষ দিনটির যে দুজন জীবিত প্রত্যক্ষদর্শী রয়েগেছেন তাদের মধ্যে তিনি একজন, অপরজন তার নিরাপত্তা কর্মকর্তা মানসুর। মানসুর কোথায় আছে তা জানা যায়নি। কিন্তু নাসের এখন ইতিহাসের সাক্ষী। মুয়াম্মার গাদ্দাফির বেঁচে যাওয়া সেই গাড়ি চালকের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে বৃটিশ অনলাইন পত্রিকা গার্ডিয়ান ইউকে।

হানিশ নাসের বিগত ৩০ বছর ধরে গাদ্দাফির ব্যক্তিগত গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাকে বেতন হিসেবে মাসে দেয়া হতো ৩০০ পাউন্ড এর সমপরিমান দিনার, সাথে থাকার জন্য পেয়েছিলেন একটি বাড়ি। নাসের গার্ডিয়ানের সাংবাদিক মার্টিন চুলভকে বলেছেন, ‘‘বিগত ৩০ বছরে তিনি (গাদ্দাফি) এক বারের জন্যও আমার সাথে বাজে ব্যবহার করেননি। তিনি ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ন মালিক।’’ তিনি বলেন, ‘‘রাস্তার নিচে যে ড্রেনের পাইপে আমরা আশ্রয় নেই সেখানে বিদ্রোহীরা প্রবেশ করার পর নেতা হাত তুলে আত্মসমর্পন করতে চেয়ে ছিলেন কিন্তু বিদ্রোহীরা আমার সামনেই তাকে রাইফেলের বাট দিয়ে আঘাত করতে করতে মাটিতে ফেলে দেয়, রাইফেলের আঘাতে তার বাম চোখ কালো হয়ে যায়। এরপর তারা আমাদের দুজনকেই লাথি ও ঘুষি মারতে থাকে।’’

৬০ বছর বয়সী এই গাড়ি চালক বলেছেন, ‘‘তিনি (গাদ্দাফি) যে দিন নিহত হলেন তার আগের পাঁচ দিন ধরেই আমি তার সাথে ছিলাম। সে সময় গাদ্দাফি অনেক ব্যস্ত সময় পাড় করেছেন, গাড়িতে চড়ে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে গেছেন। বিদ্রোহীরা বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল কিন্তু তার মধ্যে আমি এ নিয়ে কোন দুঃশ্চিন্তা দেখিনি।

সংক্ষিপ্ত এই সাক্ষাৎকারে নাসের আরো বলেছেন, ‘‘লিবিয়ার অবস্থার অবনতি হলে মার্চে নেতা আমাকে অব্যাহতি দেন কিন্তু আমি তাকে ছেড়ে যাইনি। ত্রিপলি ছেড়ে চলে যাবার পর আমি তাকে খুঁজে বের করে আবারো গাড়ি চালাবার দায়িত্ব নেই। অথচ তার সময়ে সুবিধাপ্রাপ্তদের অধিকাংশই তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল।’’ তিনি বলেন, ‘‘গত বুধবার একটি ভেনে তুলে আমাকে মরুভূমির একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমার চোখের সামনে নেতাকে বালুর নিচে সমাহিত হতে দেখেছি। বিদ্রোহীরা তার কবরের কোন চিহ্ন পর্যন্ত রাখেনি।’’

——————
ছবি: গার্ডিয়ান ইউকে