ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

শেখ হাসিনা কার প্রতিনিধিত্ব করেন? বঙ্গবন্ধুর আদর্শের? মুক্তিযুদ্ধের চেতনার? নাকি আওয়ামী লীগ নামক একটি দলের?
বঙ্গবন্ধু জাতির জনক। তিনি সার্বজনীন। তার একটি আদর্শ ছিল। তাঁর আদর্শ বলেই তিনি একটি জনগোষ্ঠীর অবিসংবাদীত নেতা হতে পেরেছিলেন, একটি দেশের জন্ম দিতে পেরেছিলেন। তাঁর আদর্শ চিরঞ্জিব।

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শিকড়। আমাদের জন্মের প্রথম পাঠ। একটি আদর্শ নিয়ে এই যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল। এই যুদ্ধই আমাদের জাতির জ্বালানী।

আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে খুব স্বাভাবিক কারণেই এই দলটি ছিল নেতৃত্বের আসনে। এটা ছিল সময়ের অবদান, আওয়ামী লীগের অর্জন নয়। এই দলটির একটি আদর্শ ছিল, এখনো আছে। কিন্তু বাস্তবতা বলে, এই দুই আদর্শের তফাৎটা অনেক।

একদিন বাদেই নারায়নগঞ্জ সিটি নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে যে উত্তেজনা ও আশঙ্কা ইতোমধ্যে মূর্ত হয়ে উঠেছে তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা। একদিকে জনতা আরেক দিকে সন্ত্রাস। এই সন্ত্রাসই যাতে জনতার রায়কে গিলে খেতে না পারে সে জন্যই দাবি উঠেছিল নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েনের। সেনা মোতায়েন করলেই যে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে তার নিশ্চয়তা নেই বটে কিন্তু সন্ত্রাসের রাজত্বে এটাই হতে পারে একটি কার্যকরী ত্রাস। মাথার উপর বাজ-ঈগল থাকলে বিষাক্ত সাপ গর্তে লুকাবেই। তাই এই নির্বাচনে সেনা মোতায়েন ছিল জনতার দাবি। এ জনতা বোধ শুধু নারায়নগঞ্জের নয়, সারা দেশের। অথচ শেষ পর্যন্ত কী হলো! নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতাকে অবজ্ঞা করে নারায়নগঞ্জে সেনা বাহিনী প্রেরণ করেনি সরকার। এ অবজ্ঞা শুধু নির্বাচন কমিশনকেই দেখানো হয়নি দেখানো হয়েছে সংবিধান ও জনমতের প্রতি। একজন সন্ত্রাসী প্রার্থীকে সুবিধা দিতে সরকারের এমন হটকারী সিদ্ধান্ত সামনে নিয়ে এসেছে অনেক প্রশ্ন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তবে কী তার পিতা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করেন না? যদি করেনই তবে কেন সামান্য একটি সিটি নির্বাচনে একজন সন্ত্রাসীর পক্ষ নিয়ে নিজেকে কলঙ্কিত করছেন? এর মধ্যে দিয়ে কি প্রমাণিত হলো না যে এই সরকার জনতার উপর বিশ্বাস রাখেনা বরং বিশ্বাস করে সন্ত্রাসীর বাহুভুজে। এটাও কি প্রমাণিত হলো না যে, আগামী জাতীয় নির্বাচনও আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু হবেনা। স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচনের যে দাবি সরকার করছে তা একেবারেই ডাহা মিথ্যা কথা। এক সন্ত্রাসী শামীম ওসমানকে জেতাবার জন্যই যদি সরকার সংবিধান লংঘন করতে পারে তবে নিজ দলকে আবার ক্ষমতায় আনতে ভবিষ্যতেও যে সরকার একই কাজ করবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়? শেখ হাসিনার সরকারের আজকের এই কপট সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে দিল বেগম খালেদা জিয়া তথা বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন সঠিক ও ন্যায্য।

তাই আর কোন ভুল ও আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত না নিয়ে সরকারের উচিত অবিলম্বে নারায়নগঞ্জে সেনা মোতায়েন করা এবং জনমতের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা। তা না হলে বাংলার জনতাও ধারণ করতে পারে আরব চরিত্র।