ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

একজন স্বীকৃত সন্ত্রাসী সব লাজ লজ্জা ভুলে এখন নায়ক হিসেবে নিজেকে জাহির করতে শুরু করেছেন। নাগরিক ঘাতক থেকে তিনি এখন নগরের পিতা হতে চান। তাই নির্বাচনে নেমেছেন কিন্তু ভাবভঙ্গি এমন যে, জনতা যাকেই ভোট দিকনা কেন তাতে কিছু আসে যায়না, আমিই নগর পিতা। তিনি বিশিষ্ট শামীম ওসমান। এমন কুকীর্তি নেই যা তিনি করেননি। তবে তার গুণ একটাই তিনি আওয়ামী লীগ করেন। তাই হয়তো নিজের পঁচা শরীরে আওয়ামী লীগ নামক সুগন্ধি মেখে এখন সভ্য সমাজে হাটাচলা করতে চাইছেন।

নির্বাচনে নিজের তান্ডব বাহিনীর তৎপরতাকে জায়েজ করতে তিনি আগাম কিছু উপায় উদ্ভাবন করেছেন। দাবি করেছেন, তার উপর জঙ্গি হামলা হবে এবং এ নিয়ে তিনি শতভাগ নিশ্চিত। জঙ্গিরা টাকা নিয়ে ধরা পড়বে এবং নাম দেবে তার। হায়রে কপাল! এতো সস্তা চাল! জনতারও যে চোখ-কান-মাথা বলে কিছু আছে তা হয়তো তিনি জানেনই না। জানলে এমন উটপাখি মার্কা কান্ড কী কেউ করে! সেনাবাহিনী না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই হোক আর বাস্তবতা উপলব্ধি থেকেই হোক তার এই আতঙ্ক ছড়ানোর ফন্দি সি ই সি ঠিকই ধরতে পেরেছেন। তিনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন অবিলম্বে এই অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে। তিনি হুঙ্কার ছেড়ে বলেছেন, তার এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া না গেলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। তা বেশ।

এদিকে আমাদের বিশিষ্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন আজকে জোড় গলায় দাবি করেছেন, বাংলাদেশে জঙ্গি-টঙ্গি বলে কিচ্ছু নেই। সুতরাং যারা নেই তাদের হামলার আশঙ্কাও নেই। তিনি এটাও বলেছেন যে শামীম ওসমান কী বলেছেন তা তিনি শুনেননি। অবশ্য সাংবাদিকরা তাকে কোন প্রশ্ন করলেই তিনি এই কথাই বলেন- আমি শুনিনি/ আমি জানিনা। পৃথিবীতে সাহারা খাতুনই বোধহয় একমাত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি কে কী বললো আর কে কী করলো তা জানেন না।

কিন্তু শামীম ওসমানের অভিযোগ যখন স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাতিল করে দিলেন তখন কী আর তদন্তের প্রয়োজন আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গোয়েন্দারাই তো তদন্ত করবেন। যেখানে মন্ত্রী বলছেন দেশে কোন জঙ্গি নেই সেখানে আর তদন্তের প্রয়োজন কী? বিষয় তো পরিস্কার। শামীম ওসমানের অভিযোগ মিথ্যা। তবে এখন সি ই সি কী করবেন? তার প্রার্থীতা বাতিল করবেন নাকি পদ-পদবী মায়ায় পতিত স্বৈরাচার এরশাদের মত নিজের কথাকেই অস্বীকার করবেন?

পাদটিকা: কাহলিল জিবরান বলেছিলেন, কথা হলো তীরের মত। ধনুক থেকে একবার ছুটে গেলে আর ফিরিয়ে আনা যায় না।