ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

ঈদ মুসলিমদের দুটি বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব ধর্মীয় আবেগে আন্দোলিত করে পুরো মুসলিম জগতকে। আমাদের দেশও এর বাইরে নয়। দেশবাসী সারা বছর ধরে অপেক্ষা করে এই দিন দুটির জন্য। এই কাক্সিক্ষত ঈদ কবে উদযাপিত হবে তা জনগণকে অবহিত করে সরকার। সরকারের একটি কমিটি রয়েছে এবং সে কমিটিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব আলেমগণ রয়েছেন। তারাই চাঁদ দেখার ভিত্তিতে নির্ধারণ করেন ঈদ এর দিন। অবশ্য বিতর্ক রয়েছে চাঁদ দেখার পদ্ধতি নিয়ে। বর্তমান চাঁদ দেখার রীতি নিয়ে আমিও ব্যক্তিগতভাবে দ্বিমত পোষণ করি কিন্তু যতদিন এ পদ্ধতি না সর্বসম্মতভাবে না বদলাচ্ছে ততদিন দেশের জনগণ এ রীতি অনুযায়ীই ঈদ উদযাপন করবে। তাই হবার কথা। কিন্তু এ লেখার প্রসঙ্গ যেহেতু ভিন্ন তাই এ নিয়ে আর নয়।

ঈদ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঠিক আছে কিন্তু এটি একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানও বটে। রাষ্ট্রীয় এ কারণে যে, রাষ্ট্র জাতীয়ভাবে এ উৎসব উদযাপনের আয়োজন করে এবং প্রতিটি ব্যক্তির জীবনে ঈদকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। অন্যান্য জাতীয় উৎসবের মত ঈদ উৎসবের যাবতীয় তদারকির ভারও সরকার বা রাষ্ট্রের। কিন্তু আমাদের দেশে একটি অদ্ভুত ঘটনা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এবং দিনদিন তা বেড়েই চলছে। চাঁদপুরের কয়েকটি গ্রাম সহ সারা দেশের অনেক স্থানেই একদিন আগেই উদযাপিত হচ্ছে ঈদ। সৌদি আরবের সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে গিয়েই তাদের এই আয়োজন। অথচ তারা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ভিন্ন কোন সম্প্রদায় নয়। এদের বিশ্বাস যা দেশের বাকি মুসলামানদের বিশ্বাসও তাই। অথচ শুধুমাত্র মেকি ধর্মীয় আবেগে তারা একটি জাতির রাষ্ট্রীয় আয়োজনের বাইরে গিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমত ঈদ উদযাপন করে যাচ্ছে। তাদের এই ইচ্ছাতন্ত্র খুব একটা যে গ্রহণযোগ্য তাও নয়। চান্দ্র রীতিই বলি আর সৌর রীতিই বলি দুটি ভিন্ন অক্ষ রেখায় অবস্থিত পৃথিবীর কোন দেশেরই সময় বা ওয়াক্ত এক হতে পারেনা। ঈদ একটি নির্দিষ্ট দিনের জন্য আর দিন আসে সেকেন্ড, মিনিট ও ঘন্টার পথ ধরে। তাই পৃথিবীর পশ্চিমেই যাই আর পুবেই যাই ওয়াক্তের হিসাব আগ-পাছ হবেই। সুতরাং আগ-পাছ ঘটবে দিনের হিসেবেও। আমরা চাইলেই সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ফজরের নামাজ পড়তে পারবো না । ওয়াক্তের হের ফের হবেই।

কিন্তু এই বিতর্ককেও এ লেখায় বাদ রাখতে চাই। বলতে চাই, যারা জাতির নির্ধারিত উৎসব দিনকে তোয়াক্কা না করে আলাদাভাবে ঈদ উদযাপন করে একপ্রকার বিভ্রান্তিকর অবস্থা সৃষ্টি করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার সুযোগ রাষ্ট্রের আছে কিনা তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে। রাষ্ট্র যেহেতু ধর্মের প্রচলিত রীতি মেনেই ঈদের দিন ধার্য করে তাই সবাইকেই সে দিন মেনে নিতে হবে। জাতীয় কোন উৎসব কোন মওলানার একক ইচ্ছা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হতে পারেনা। এটা রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতারও ব্যাপার। রাষ্ট্রের সীমার মধ্যে থেকে যারা এ ক্ষমতাকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্রের উচিত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তা না হলে এমন ধর্মীয় ভ্রান্তি আরো বিস্তার লাভ করবে এবং এ পর্যায়ে তা রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রতিও হুমকী হয়ে দেখা দিতে পারে।