ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

গার্ডিয়ান ইউ কে অনলাইন পত্রিকা আজ এক চমকপ্রদ খবর প্রকাশ করেছে। খবরটি এতটাই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যে এটি গার্ডিয়ানের সর্বাধিক পঠিত পাঁচটি সংবাদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউজের বৈজ্ঞানীক মুখপাত্র ফিল লারসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ভিনগ্রহীদের অস্তিত্ব সম্পর্কে কোন তথ্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে নেই। ফলে এ সংক্রান্ত কোন তথ্য জনগণের কাছ থেকে লুকাবার প্রশ্নও আসে না।

[সূত্র]

মহাবিশ্বে বুদ্ধিমান প্রাণির অস্তিত্ব নিয়ে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পশ্চিমা বিশ্বে একটি বদ্ধমূল ধারণা গড়ে উঠেছে। বিজ্ঞানীসহ পশ্চিমের অনেক মানুষই বিশ্বাস করে অ্যালিয়েন বা ভিনগ্রহীরা এই পৃথিবীতে ভ্রমণ করে এবং মানব সমাজেও তাদের ছদ্মবেশী বিচরণ রয়েছে। তাদের এই ধারণা থেকে নির্মিত হয়েছে বহু সিনেমা ও ডুমেন্টারি। বলা চলে, অ্যালিয়েনরা পশ্চিমা বিশ্বে জনগণের বিশ্বাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে, বিংশ শতকের ৪০ এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের রজওয়েলে ফ্লাইং সসার দুর্ঘটনা নিয়ে অ্যালিয়েন ফ্যাক্টরের সাথে জড়িয়ে গেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। মার্কিনীদের ধারণা পুরো ঘটনাটিই তাদের সরকার গোপন রেখেছে এবং এ বিষয়ে তথ্য জানার অধিকার তাদের আছে।

গার্ডিয়ানের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, এ বছরের সেপ্টেম্বরে ‘উই দ্য পিওপল’ নামে একটি ওয়েব পেজ যাত্রা শুরু করে। ওয়েব পেজটির উদ্দেশ্য, জনমত সংগঠনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করতে বাধ্য করা। এরই অংশ হিসেবে ওয়েব পেজটি ভিনগ্রহীদের অস্তিত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে চাপ প্রয়োগ করতে গণসাক্ষর সংগ্রহ শুরু করে এবং এই ইস্যুতে প্রায় ৫ হাজার সাক্ষর জমা পড়ে। জনতার এই বিপুল দাবির প্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউজ বিবৃতিটি দিতে বাধ্য হয়।

তবে ফিল লারসন এক কথাও বলেছেন যে, বহু বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ বিশ্বাস করেন যে এই মহাবিশ্বের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন নক্ষত্র জগতে মানুষের মত বুদ্ধিমান প্রাণি থাকতে পারে তবে তাদের সাথে আমাদের দেখা হবার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। অবশ্য বিবৃতির এই অংশটুকুকে গার্ডিয়ান আখ্যা দিয়েছে, ‘দরজা এখনো খোলা’ বলে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে এ নিয়ে হোয়াইট হাউজের ভিন্ন মতও চোখে পড়তে পারে।