ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাধিকার চেতনা

 

রাজাকার শিরোমনি গোলাম আযম সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। যতটুকু বলার তা বলছেন বিশেষ ট্রাইবুনালের আইনজীবীগণ। কারণ আদালতে সব কিছুই নতুন করে বলতে হয় তা সে যত প্রতিষ্ঠিত সত্যই হোক না কেন। এটা আইন-আদালতের ব্যাপার সাধারণ নাগরিক সমাজে এ রীতি অপরিহার্য নয়। গোলাম আযম কে, তার ইতিহাস কী, এর কোন কিছুই নতুন করে বলে আমাদের কিছু লেখার প্রয়োজন নেই। তার সম্পর্কে আমাদের দাদা-দাদী জানেন, বাবা-মা জানেন, তাই জানি আমরাও।

শোনা যাচ্ছে, বিশেষকরে কয়েকটি মিডিয়াতেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, গোলাম আযমকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, সে তদন্ত রিপোর্ট বিশেষ ট্রাইবুনালে জমা দেয়া হয়েছে শুধু বাকি আছে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার। অনেকে বলেন, স্বাস্থ্যগত কারণেই নাকি এতোদিন তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। আবার কেউ কেউ বলেন, গোলাম আযমকে গ্রেফতার না করার পেছনে সরকারের একটি মহলের বিশেষ লুকোচুরীও নাকি আছে। এ নিয়ে একটা ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছিল। তাই স্বাধীনতার স্বপক্ষের প্রতিটি ব্যক্তির মনেই দীর্ঘদিন ধরেই বিরাজ করছিল এক ধরণের চাপা ক্ষোভ ও সরকারের প্রতি অবিশ্বাস। তাদের দাবি ছিল যত দ্রুত সম্ভব এই প্রধান রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীকে গ্রেফতার করা হোক।

শেষ পর্যন্ত গোলাম আযমের গ্রেফতার নিয়ে নতুন সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে এবং দেশপ্রেমিক প্রতিটি নাগরিকই আবারো আশান্বীত হয়ে উঠেছে। তারা চায় আর কালক্ষেপন না করে এই জাতিদ্রোহী, দেশদ্রোহী ও মানবতার বিরুদ্ধ শক্তির প্রধান নায়ক গোলাম আযমকে গ্রেফতার করা হোক। সংবাদ মাধ্যগুলোর তথ্যানুযায়ী, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের প্রথম প্রহরে কিংবা তার আগেই গ্রেফতার করা হবে তাকে। আইনজীবীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন গ্রেফতারী পরোয়ানার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনালে আবেদন করার।

খুবই আশার খবর এটি। আমরা চাই গোলাম আযমের মত এদেশের নিকৃষ্টতম নাগরিকের গ্রেফতারের দৃশ্য দেখতে। কারণ ১৯৭১ এ বীর বাঙালীর বিজয়ের দৃশ্যের পর আমার দৃষ্টিতে এটাই হবে সবচেয়ে সেরা দৃশ্য; সবচেয়ে আত্মতৃপ্তির এবং সবচেয়ে আশাজাগানিয়া। তার বিচার হোক এটা এখন জাতীয় দাবি, সময়ের দাবি। এ দাবিকে অগ্রাহ্য করলে তার প্রায়শ্চিত্য এ সরকারকে অবশ্যই করতে হবে।

***
ফিচার ছবি: ইন্টারনেট থেকে নেয়া