ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

তিন উদ্দীনের দুই উদ্দীন- সামরীক জান্তা মইন উদ্দীন এবং তার দোসর ফকরুদ্দীন। ২০০৭ যেন ১৯৭১। রাজাকার-আলবদর যেমন ছিল পাক হানাদারের দোসর তেমনি সিভিলিয়ান ফকরুদ্দীন ছিল মইনউদ্দীনের দোসর। জাতিকে উদ্ধার করার নাম করে পুরো জাতিকেই তারা পাঠিয়ে দিয়েছিল গোরস্তানে; বাকি ছিল শুধু দাফনের। এ জাতির ভাগ্য ভাল শেষ পর্যন্ত তাদের কবরে যেতে হয়নি। আর এই না যাবার পেছনে ভূমিকা রেখেছে জনতা এবং বিশেষ করে এদেশের ছাত্রসমাজ। ২০০৭ এর আগস্টে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র বিক্ষোভ শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত ছদ্মবেশী সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। এ যেন সেই ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ, পৃথিবীর ইতিহাসে যা লিবিব্ধ আছে প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলন হিসেবে। তেমনি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ঐ ছাত্র বিক্ষোভও ইতিহাসে লিপিব্ধ থাকবে তিন উদ্দীনের শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম সংগঠিত আন্দোলন হিসেবে।

সাধারণ ছাত্র ও প্রথিতযশা শিক্ষকদের সাথে যে অন্যায় আচরণ সেই উদ্দীনত্রয়ী করেছিল তা আজ একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পেল। ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতনের অভিযোগে অবশেষে তারা অভিযুক্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কীত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি মইন উদ্দীন ও ফকরুদ্দীনকে অভিযুক্ত করে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। পরবর্তী দায়িত্ব সরকারের। সরকারের উচিত হবে কালবিলম্ব না করে এই দুই অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং আন্তরিকতার সাথে বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে নেয়া। ছাত্র-শিক্ষকদের সেই আন্দোলন যেমন ছিল ফকরুদ্দীন-মইন উদ্দীনের সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সূত্রপাত তেমনি আজকের এই অভিযুক্তকরণও হতে পারে তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করার প্রথম পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপের সফলতার উপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যতে এরকম অযাচিত শাসকদের আবির্ভাবের পুনরাবৃত্তি ঘটবে কিনা। মইন উদ্দীন আর ফকরুদ্দীনকে বিচারের মুখোমুখি করে সরকারকে এই বার্তাই দিতে হবে যে, অযাচিতভাবে জাতির ঘাড়ে কেউ সওয়ার হলে তার রেহাই নেই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশবাসী এই উদ্দীনদের কাঠগড়ায় দেখতে চায়।