ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

মানব সভ্যতার ইতিহাসে সপ্তাশ্চর্য বলে একটি তালিকা আছে। আগে ছিল প্রাচীন সপ্তাশ্চার্য, পরে হলো নতুন সপ্তাশ্চর্য এবং হালে হতে যাচ্ছে প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের তালিকা। দুঃখজনকভাবে শেষ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বঙ্গের সুন্দরবনের নামটি। কিন্তু আমি নিশ্চিত, যদি কখনো কোন নিপীড়ক বাহিনীর ‘সপ্তাশ্চর্য’ তালিকা তৈরি করা হয় তবে বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীর নাম সে তালিকায় জায়গা করে নেবে অনায়াসে।

বড় বিচিত্র আমাদের পুলিশ। এতোটাই বিচিত্র যে, এদের খপ্পরে পড়লো একজন নিরাপরাধ ব্যক্তিও শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস করতে বাধ্য হয় যে সে একজন অপরাধী। এমন অনন্য সাধারণ গুণের কারণে কোন ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে প্রমাণ করে দিতে বাংলাদেশ পুলিশকে তেমন কোন বেগ পেতে হয় না। বিশ্বে এমন দক্ষ পুলিশ আর কয় দেশে আছে তা জানার জন্য আদাজল না খেয়ে উপায় নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়নের ছাত্র আবদুল কাদের। কাদের প্রাণ রসায়নের ছাত্র হলেও পুলিশের প্রাণ রসায়ন সম্পর্কে তার কোন ধারণাই ছিল না। এই অজ্ঞতার জন্য হয়তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই দায়ি। কারণ দেশের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠ তাকে ‘পুলিশ রসায়ন’ শিখাতে পারেনি। এই অজ্ঞতার কারণেই কাদের অনুমান করতে পারেনি মামলার সাথে আর কী কী অপেক্ষা করছে তার জন্য। আমাদের কর্তব্যপরায়ন (!) পুলিশ তাকে ধরলো ডাকাতির অভিযোগে। কিন্তু ধরে নিয়ে শুধু মামলা নয়, স্বয়ং ওসি চাপাতি দিয়ে কোপালো তাকে। দা-চাপাতি দিয়ে যে কোপায় সে পুলিশ না ডাকাত তা নিশ্চই আর বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। পৃথিবীর সবদেশের পুলিশের কাধে বন্দুক-রাইফেল থাকে, আর আমাদের পুলিশের কাছে থাকে চাপাতি! কী সুন্দর। পুলিশের কোমরে পিস্তলের বদলে চাপাতি শোভা পাচ্ছে- এমন দৃশ্যের কোন তুলোনা হয়না।

এই ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি হয়েছিল। একটি বিচারবিভাগীয় ও অপরটি পুলিশের বিভাগীয়। প্রথমটার রিপোর্টে বলা হলো, কাদেরকে ওসি নিজে কুপিয়েছেন এবং তিনি সেটা স্বীকারও করেছেন। আর পরেরটিতে বলা হলো, কাদেরের সাথে বিধি বহির্ভুত কোন আচরণই করা হয়নি। উল্টো প্রশংসা করা হয়েছে ঐ চাপাতি মার্কা ওসির। পুলিশের এই রিপোর্ট কী বিচার বিভাগের সাথে ঔদ্ধত্য নয়?

এই রিপোর্ট প্রকাশের পর পুলিশের আইজি কি বলতে পারবেন, পুলিশের কোন বিধিতে চাপাতির কোপকে বৈধ বলা হয়েছে? কিংবা কোন বিধিতে আছে যে পুলিশ চাপাতি বহন করতে পারবে এবং চাইলে আসামীর উপর তা প্রয়োগও করতে পারবে? জানালে জাতির জ্ঞানবৃদ্ধি হতো।