ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

“ইজতিমা : যে কথা আমি বলতে পারিনা” এই শিরোণামের একটি লেখা গত বছর ২২ জানুয়ারি পোস্ট করেছিলাম অন্য একটি ব্লগে। আর এ বছর গত পরশু বিডি ব্লগে পোস্ট করেছি আরো একটি লেখা `দ্বিতীয় হজ্বের তকমায় চলছে ইজতিমার প্রচারণা শিরোণামে। দুটি লেখারই বিষয়বস্তু ছিল ইজতিমাকে কেন্দ্র করে আমার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এমন কিছু ঘটনা যা আমার কাছে প্রশ্নসাপেক্ষ। আমি ইজতিমাকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ না করলেও এই দুটি লেখার কোনটিতেই ইজতিমাকে প্রতিপক্ষ করিনি। আমি জানি এদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ এই সমাবেশকে পছন্দ করে এবং একটি ধর্মীয় অনুষঙ্গ হিসেবে এর সাথে সম্পৃক্ত হয়। তবে এই ইজতিমাকে কেন্দ্র করে আমাদের চারপাশে এমন কিছু ঘটে যা দেখে আমার সাধারণ মনে একটি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় যা আমি প্রকাশকরি আমার পরিচিত জনের কাছে কিংবা সুধীমহলের আড্ডায়। এটা নেহায়েত আমার অনুভূতির স্বাভাবিক প্রকাশ। এই অনুভূতি প্রকাশে আমি প্রতিপক্ষ হিসেবে দাড় করাই শুধু তাদেরকেই যাদের কর্মকান্ডকে আমি প্রশ্নবিদ্ধ হবার মত বলে মনে করি। তবে এরকম করতে গিয়ে আমি লক্ষ্য করেছি একটি ঘটনা প্রায় অপরিহার্যভাবে ঘটে। সেটা হলো, কিছু লোক এই অনুভূতিকে ধর্মবিদ্বেষী মানসিকতা হিসেবে বিবেচনা করে এবং বিশ্ময়করভাবে এ ধরণের বাস্তবতাকে তারা অস্বীকার করে। লক্ষ্য করেছি, আমি যে দিকটা নিয়ে কথা বললাম তারা সেটাকে পাশ কাটিয়ে মূল ইজতিমাকেই আমার প্রতিপক্ষ হিসেবে দাড় করিয়ে দেয় এবং শেষপর্যন্ত তারাই আমার প্রতিপক্ষ করে তোলে ধর্ম বা ইসলামকে। তাদের পরামর্শ থাকে- এ নিয়ে কথা না বলাই ভাল। বিষয়টা এরকম যে, আমি বলি কী আর আমার সারিন্দায় বাজায় কী।

এটা সত্য যে আমি ধার্মিক নই, তবে ধর্মকে তুচ্ছতাচ্ছিল্যও করিনা। তবে প্রতিনিয়তই আমি এমনসব ধার্মিকদের দেখে চলেছি যারা ধর্মকে পাশ কাটিয়েই ধার্মীক হয়েছেন। যাই হোক, গতবছর ইজতিমা নিয়ে আমি যে লেখাটি পোস্ট করেছিলাম সেই অনুভূতি আমার মধ্যে এখনো কাজ করে তাই সে লেখাটিকেই এই পোস্টে সংযুক্ত করেছি। সাথে বাছাইকৃত কয়েকটি মন্তব্যও রয়েছে। বিষয়বস্তুর কারণে বিডি ব্লগ যদি এই লেখাটি প্রকাশ করতে না চায় তবে আমার কোন প্রতিবাদ থাকবে না কিন্তু প্রকাশ করলে লেখাটিকে অবশ্যই অপরিবর্তীত রাখতে হবে।

”তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতিমা শুরু হয়ে গেছে। দলে দলে লোক সকল সেদিকেই ছুটে চলছে। বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি তবে তরুণরাও কম নয়। লক্ষ লক্ষ বৃদ্ধ-তরুণের সমাগম হয় এই সমাবেশে। তরুণদের মধ্যে যারা আসে তাদের বেশির ভাগই ইজতিমা গমনকে গ্রহণ করে একটি শীতকালীন ফ্যাশন হিসেবে। এর কারণ হলো, ইজতিমা থেকে ফেরবার পর বড় জোর একমাস তারা দাড়ি-টুপির সুন্নত পালন করে। তারপর আবার ইভটিজিং আবার ক্লিনসেভ আবার ডেটিং। তাই হয়তো এদের বলা হয় – দুই দিনের মোল্লা। আর যারা বৃদ্ধ, তারা ইজতিমায় যায় কোন উপায় না দেখে। বয়স শেষ, মনে ভয়-ডর বেশি। যে কোন সময় জীবন নাশের একটি দুঃশ্চিন্তা তাদের মনে প্রকট। তাই বউকে গালি দিয়ে ওযু করে জুম্বাঘরে যাবার মত করেই তারা ইজতিমায় যায়। তারা ধর্ম মানে কিন্তু আল্লাহকে চেনে না। অর্থাৎ এই শ্রেণীর লোকেরা মনের টানে নয় ইজতিমায় যায় ভয়ের ধাক্কায়। কিন্তু এই যে দুইটা শ্রেণী, তাদের বাইরেও আরো একটা শ্রেণী আছে। যাদেরকে আমি বলি ধর্মান্ধ শ্রেণী। সারা বছর আসরের নামাজের পর মসজিদ থেকে বের হয়ে ব্যস্ত পথচারীদের মিষ্টি কথায় দুই মিনিটের জন্য থামিয়ে আধা ঘন্টার আগে মুক্তি না দেয়াই তাদের প্রধান কাজ। কোন সামাজিক কাজে তাদের দেখা যায় না; কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের সংঘবদ্ধ উপস্থিতি চোখে পড়ে না। কিন্তু ‌’দ্বীনের দাওয়াত’ নামক এক ধরণের অপশনাল কাজকে ‘বাধ্যতামূলক’ পেশা হিসেবে দেখার একটি চেষ্টা তাদের মধ্যে সব সময়ই থাকে। তারা মানুষকে খোদাপ্রীতির কথা বলে না, শিখায় না; তারা মানুষকে খোদাভীতির কথা শিখায়। তাদের খপ্পরে যারা পড়ে, তাদের সাথে মাখরাজের মত জায়গায় যারা গমন করে তারা আর মানুষ থাকে না- হয়ে যায় দাড়ি-টুপিওয়ালা অপদার্থ, অমানুষ। আর এই সব লোকেরাই যখন ইজতিমার মত ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বহীণ সমাবেশে জড়ো হয় তখন অনর্থক হট্টগোল আর অনর্থক অলস সময় গুজরান ছাড়া আর কিছুই প্রত্যাশিত থাকে না। আমার সবাই জানি, তারা নীতিকথাকে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসে না। তাদের ধর্ম খালের ওপারেই থেকে যায়।”

ছাত্রসেনা লিখেছেন : আমার মনের কথা বলে ফেলেছেন।

কালোচশমা লিখেছেন : ভাই, আপনে একেবারে মনের কথাটা বলছেন। তারা মুসলমান কিনা তা নিয়েও আমার সন্দেহ হয়। তারা শুধু নামাজ পড়ার দাওয়াত দেয় কিন্তু আল্লাহর আইন পতিষ্ঠার ব্যাপারে তাদের মাথা ব্যাথা নেই। আর ফযিলত, তারা কোটি কোটি সংখ্যা বলে, কিন্তু আরবে হাজারের বেশি সংখ্যা আগে ছিলনা। সহমত আপনার সাথে।

শান্তি প্রিয় লিখেছেন : যারা তাবলীগ করেন; তারা শুধু দাওয়াতের দিকটাই ধরে রেখেছে, আর অন্যান্য বিষয় বে মালুম ভুলে থাকেন। তাই তাবলীগ পূর্ণাঙ্গ ইসলামী নয়।

প্রবাসী মজুমদার লিখেছেন : দ্বীনের জন্য দেওয়ানা এ মুসলমানদের মায়াকান্নার এ মিছিল দেখে বড় আশ্চর্য হই। চেতনাহীন ঈমানদার বিবেককে প্রশ্ন করি – ধর্ষিতা নারীর চিতকার শুনেও কোন তাহাজ্জুদ পড়ুয়া লোকের ঈমানকে যদি এতটুকু নাড়া না দেয়, তাহলে জান্নাতের জন্য মিছেমিছি আশাম্বিত মানুষগুলোকে কবি ইকবালের কবিতার মতই মনে হয় – ‘তাসবিকা দানামে জান্নাত ডুনরাহা হ্যায়।

যুক্তিপ্রাজ্ঞ লিখেছেন : ভাগ্যিস আমরা চেতনাহীনদের দলে নাই, চেতনা নিয়ে এখানে বিভাজন চালিয়ে যেতে পারছি… দারুণ আমাদের আত্মতুষ্টি…

পথের শেষ কোথায় লিখেছেন : তিন শ্রেনীর অপদার্থের কথাই উল্লেখ করলেন, আর কোন শ্রেনী দেখলেন না !
আফসোস !
ইজতিমা থেকে ফেরবার পর বড় জোর একমাস তারা দাড়ি-টুপির সুন্নত পালন করে।
আমার মনে হয় এটি ঠিক নয়। তাহলে সারা বছর যাদের দাড়ি টুপি সহ দেখি, আর প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুটলা পুটলি নিয়ে কাকরাইল যায় তারা কারা ? তাদের তো দাড়ি টুপি ছাড়া দেখি না ।
ফাজায়েল আমল নামক একটা নীল মলাটের বই ছাড়া দুনিয়ার আর কোন বই তারা পড়েছে কিনা তা নিয়েও আমার সন্দেহ আছে। দুঃখের ও আশংকার বিষয় তাদের অনেকে কোরানও কোন দিন পড়ে নাই।
জেনে বলেছেন তো ? শেষ লাইনটা খুব আপত্তিকর।
আমি তাবলীগ করি না, ওদের কোন কর্মসূচীতেও যাই না। তবে ওদের সম্পর্কে জানি ।
আপনি সম্ভবত নীল মলাটের বইটি কোন দিন খুলেও দেখেন নি । আমার অনুরোধ আপনি বইটি দেখুন।এটিতো কোরআন হাদিস থেকে সংকলন ।
আর এরা কি পরিমান ইবাদত আর কোরআন তেলাওয়াত করে আপনার কোন আইডিয়া নেই।এরা খুবই অসামাজিক, কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু যেটুকু সত্য তার বেশী অপবাদ দিলে ভুল হবে।
তবে শুধু দাওয়াতের দিকটাই কতজন মুসলিম ধরে রেখেছে বলতে পারেন ? আর পুর্ণাঙ্গ ইসলামী কোন দলই নেই।আপনি সন্ধান পেলে জানাবেন। অযথা কুৎসা রটনা করার দরকার কি?
আমার অনুরোধ, ওদের সম্পর্কে আরো জানুন।
আমি নিজে জেনে বুঝেই তাবলীগ জামাত করি না,জামাতে ইসলামী করি না, তবে অন্যভাবে দ্বীনের কাজ করার চেষ্টা করি। কিন্তু তাদের সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ দিই না । দ্বীনের কাজ যে কোন উপায়েই হোক করতেই হবে। তা তাবলগিই হোক বা অন্য যে কোন উপায়েই হোক। মানলাম তাবলীগ খুব খারাপ, তা আপনি কিভাবে কোন পদ্ধতিতে ইসলামের কাজ করেন জানতে পারি কি?তারা নীল রং এর ফাজায়েলে আমল ছাড়া কিছু পড়ে না, আপনার মতে কোরআন শরীফও না। তা আপনি কোরআন পড়েন তো? উত্তর হা হলে আমার সালাম গ্রহন করুন। আপনার তাবলীগ সমর্থন করার দরকার নেই।

আবু জারীর লিখেছেন : সারা বছর আসরের নামাজের পর
মসজিদ থেকে বের হয়ে ব্যস্ত পথচারীদের মিষ্টি কথায় দুই মিনিটের জন্য থামিয়ে
আধা ঘন্টার আগে মুক্তি না দেয়াই এদের প্রধান কাজ। কোন সামাজিক কাজে এদের
দেখা যায় না। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে এদের সংঘবদ্ধ উপস্থিতি চোখে পড়ে না।
মিষ্টি কথাগুলো আবার অধিকাংশ আজগুবী। যার কোন ভিত্তি নেই।