ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

সম্প্রতি পূবালি ব্যাংক বাংলাদেশ অনলাইনে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে সিনিয়র অফিসার, অফিসার এবং জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) এর ৫০০টি শূন্য পদে বাংলাদেশের নাগরিকদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রচুর সংখ্যক শিক্ষিত বেকার যুবক/যুবতী আবেদন করতে শুরু করেছে। কিন্তু বিপত্তি দেখা দিয়েছে জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) পদে আবেদন করা নিয়ে। ব্যাংটির বিজ্ঞপ্তিতে এই পদের যোগ্যতায় বলা হয়েছে Bachelors degree from a reputed University. Candidates having higher degree will not be considered for the post. অর্থাৎ ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীরা এই পদে আবেদন করতে পারবে এবং এর চেয়ে উচ্চ ডিগ্রিধারীরা এই পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ফলে যারা ইতোমধ্যে চার বছর মেয়াদী অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন তারাই মূলত এই পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে বোধগম্য হয়েছিল। তাছাড়া তিন বছর মেয়াদী পাস কোর্স ডিগ্রিও যেহেতু ব্যাচলর ডিগ্রির মধ্যে পড়ে বিশেষ করে বাংলাদেশে, তাই বলা যায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পাস কোর্স ডিগ্রিধারীরাও এই পদে আবেদন করা যোগ্য।

কিন্তু সমস্যাটা অনার্স কিংবা পাসকোর্সের নয়। পাসকোর্স তো দূরের কথা চার বছর মেয়াদী অনার্স ডিগ্রিধারীরা এই পদের জন্য অনলাইনে আবেদন পত্র সাবমিট করার পর তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য নির্ধারিত ঘরটি পূরণ করা হয়নি। অর্থাৎ আবেদন পত্রটি গৃহিত হতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই মাস্টার্স ডিগ্রির ঘরটি পূরণ করতে হবে। কিন্তু যে পদে ব্যাচেলর ডিগ্রির উপরে কোন ডিগ্রিধারী আবেদন করতে পারবে না সেই পদে কেন তাদের মাস্টার্সের ঘরটি পূরণ করতে হবে? তাছাড়া ঐ ঘরে এমন কোন অপশন নেই যা দিয়ে আবেদনকারী ঘরটিকে ‘প্রযোজ্য নয়’ হিসেবে ঘোষণা করতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, আবেদনপত্রটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মধ্যেই যদি সব শেষ হয়ে যেত তাহলে হয়তো কারো বলার কিছু থাকতো না। কিন্তু এই অনলাইন আবেদন পত্র পূরণ করার সময় ৩০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফটের নম্বর দেয়া বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ ব্যাংকে টাকা জমা না দিয়ে কেউ আবেদন করতে পারবে না। অথচ ব্যাংকে টাকা জমা দেবার পর যখন একজন আবেদনকারী জানতে পারেন তার আবেদনপত্রটি গৃহীত হয়নি বা হবে না তখন তার সেই জমাকৃত টাকার কী হবে? ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কী তাদের টাকা ফেরত দেবেন নাকি নিজেদের জন্য হালাল করে নেবেন? নাকি এই সমস্যার সমাধান করবেন?

শুধু একজন দূ ‘জন নয়, এটা সবার ক্ষেত্রেই ঘটছে। আমার চেনা-জানা অন্তত ডজনখানেক লোককে আমি এই সমস্যায় পড়তে দেখেছি। মূলত তাদের অনুরোধেই আমার এই লেখা।

সুতরাং পূবালি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি ঐসব ভুক্তভোগীদের হয়ে বলতে চাই, আবেদন করার শেষ তারিখ যেহেতু ১৮ই জানুয়ারি তাই হাতে এখনো সময় আছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যাত আবেদনকারীদের আবারো আবেদন করার ঘোষণা দিন। আর তা না হলে তাদের টাকা ফেরত দেবার ব্যবস্থা করুন। কারণ বেকার যুবকদের সাথে এই ধরণের প্রতারণা কোন মতেই গ্রহণ করা যায় না। এই ঘটনা আর্থিক জালিয়াতির মধ্যেই পড়ে এবং এর দায় পুরোপুরি পুবালি ব্যাংকেই নিতে হবে।

** ইতোমধ্যেই সমস্যাটির সমাধান বোধহয় হয়েছে। এর আগে যাদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল তাদের আমি ফোন করে আবারো সাবমিট করতে বলেছিলাম। স্বস্তিদায়ক খবর হলো, তাদের আবেদন গৃহীত হয়েছে। হয়তো ত্রুটিটা দূর হয়েছে। ১০.০১.২০১২