ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

দিন কয়েক আগে ছোট্ট একটি ভিডিও ফুটেজ দেখেছিলাম। এতে দেখানো হয়েছে, ইসলাম সম্পর্কে কটু মন্তব্য করার কারণে এক নারী অভিশপ্ত হয়ে সাপে পরিণত হয়েছেন। তাকে একটি টেবিলে বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন মানুষ মোবাইল দিয়ে তার ছবি তুলছে। বিষয়টা চমকপ্রদই বটে। কিন্তু ছবিটা যখন দেখছিলাম তখন একটি প্রশ্ন মনের মধ্যে ঠিকই কড়া নাড়লো। সাপটা নড়ে না কেন? এতোগুলো মানুষ তার ছবি তুলছে, একজন আবার তার চুল ধরে উচু করে দেখাচ্ছে কিন্তু তারপরও সাপটি নড়ছে না। তখনই আমার মনে হয়েছিল, কোথাও একটা গন্ডগোল আছে। তাছাড়া ভিডিওটার সাথে এমন এক ভয়ংকর শব্দ জুড়ে দেয়া হয়েছিল যে, যে কেউ এই শব্দ শুনে ও ছবিটা দেখে আতকে উঠবে। আমার মা আর বোন দেখে তো জ্ঞান হারাবার অবস্থা। আমি কোন মতে তাদের বুঝিয়ে শান্ত করেছি।

তবে বিষয়টা পরিস্কার হতে খুব বেশি বিলম্ব হয়নি। দিন কয়েক পরেই দেখতে পেলাম বিভিন্ন বয়সের মোল্লা বা নব্য হুজুররা এই ভিডিওটি তাদের আধুনিক মোবাইলে নিয়ে পরিচিতদের দেখাচ্ছেন। বিশেষকরে, গৃহীনী ও অল্পবয়সী মেয়েদের। আর সেই সাথে তাদের সেই চিরাচরিত বক্তব্য সুযোগমত বয়ান করে এক ধরণের আতংক সৃষ্টি করছেন। আমার মনে হয়েছে এতে তারা সফলও হচ্ছেন। কারণ আমি এমন কয়েকজনকে খুবই আতংকিত হতে দেখেছি এবং এর ফলে তাদের মধ্যে অনর্থক এক ধরণের মানসিক ভীতিও লক্ষ্য করেছি। পরে আমি তাদের বুঝিয়েছি, ইসলামে এমন ঘটনা বিশেষকরে মানুষের বানর হওযার ঘটনার কথা উল্লেখ আছে কিন্তু এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। সহজ সরল ধর্মপ্রাণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে মো্ল্লা মৌলভিরা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। তাছাড়া, এতো বড় একটা ঘটনা ঘটবে আর পৃথিবীর কোন নিউজ চ্যানেলে দেখাবে না; ন্যাশনাল জিওগ্রাফি আর ডিসকভারি চ্যানেল বসে থাকবে তা হতে পারেনা। অন্তত ঘটনাটিকে ভুয়া প্রমাণ করার জন্য হলেও তারা উঠেপরে লাগবে।

সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, মোল্লারা তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল ও সংকীর্ণ ধর্মীয় ব্যবসা সফল করার জন্য এই ছবি প্রচার করেছে। এবং আমাদের দেশের মোল্লারাও তা ব্যবহার করছে। আর এর পেছনে তাদের সাংগঠনিক কর্মকান্ডও আছে।