ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

আমাদের দেশে এমন কিছু মানুষ আছে যারা দিন-রাত্রি অবিরাম স্বপ্ন দেখে যে দেশ ভারত হয়ে যাচ্ছে, ভারত দেশ কিনে নিচ্ছে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব চুরি হয়ে যাচ্ছে। এ কারণেই ঘুমের ঘোরে তারা চিৎকার করে উঠে ‘দেশ গেল, দেশ গেল’ বলে। অথচ দেশের প্রতি এদের মায়া খুব সামান্যই এবং খোঁজ নিলে দেখা যাবে যে এদের অনেকেই সমাজ ও রাষ্ট্র বিরোধী কাজে লিপ্ত। এদের একটা অংশের মদদেই দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জংগীবাদ, মৌলবাদ আর ধর্মীয় গোড়ামী। জ্ঞান, যুক্তি, চিন্তা আর প্রশ্ন করার মানসিকতা এদের মধ্যে গড়ে উঠেনি। বরং এসবের ভয়েই এরা সর্বদা ভীত। এই ভীতি তারা লাভ করেছে উত্তরাধীকার সূত্রে। এদের আদর্শিক পূর্ব পুরুষরাও ভীত ছিল যুক্তি, চিন্তা আর প্রশ্নের ভয়ে। ধর্ম, ইশ্বর আর আবেগকে পুঁজি করে তারা চেয়েছে মানুষকে বোকা বানাতে। তাদের উত্তরসুরীরাও এখন তাই করছে। অথচ তারা জানেনা, দেশকে ভালবাসতে হলে নাগরিক হিসেবে শুধু আবেগ থাকলেই চলে না, জ্ঞান, চিন্তা ও শিক্ষার মত কিছু বিমূর্ত সম্পদও থাকতে হয়। মূলত এই সম্পরে অভাব বোধ থেকেই তারা অন্যকে মনে করে ভারত কিংবা ইসরাইলের দালাল। এই সব প্রগতিসম্পন্ন মানুষের সাথে পেরে উঠতে না পেরে তারা বরবরই বেছে নেয়, হত্যা, অপবাদ কিংবা বিতাড়নের কৌশল। অতীতে এ কাজে তাদের বেশ সফলতাও আছে। তাই তারা এখনো একই পন্থা বেছে নিয়েছে। কিন্তু তারা যেটা জানেনা তা হলো, সময় বদলায়। সময় বড্ড রহস্যময়, বড্ড নিষ্ঠুর।

ভারত-বাংলাদেশের খেলার আগে এরা এমনভাবে মন্তব্য ও আচড়ণ করেছে যেন ভারত একটি শিশু দল। খেলায় তাদের পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। ভারতের মত একটি ক্রিকেট জায়ান্ট ও এবারের শিরোপা প্রত্যাশি একটি দলকে বাংলাদেশের কাছে তুচ্ছ হিসেবে তুলে ধরে তারা মূলত চেয়েছে ভারত বিদ্বেষী প্রচারণাকে জাগিয়ে তুলতে। কিন্তু তারা এটা ভুলেই গিয়েছিল, খেলার ময়দানে প্রতিপক্ষকে শক্তিশালী বিবেচনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। তা না হলে পস্তাতে হবে। বাস্তবে তাই হয়েছে। দুর্বল বোলিং আর দ্রুত উইকট পতনের কারণে বাংলাদেশ হেরেছে। কিন্তু সেই সাথে এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে বেশি লড়াই করতে সক্ষম। ২৮৩ রান মোটেই লজ্জাজনক নয়। তাছাড়া ভারত রানের যে বিশাল পাহাড় গড়ে ছিল তা সম্ভব হতো না যদি বাংলাদেরশের বোলিং আরো মজবুত হতো। কিন্তু এই অবস্থা সেইসব সুযোগ সন্ধানী চক্রের পছন্দ হয়নি। তারা এখন নতুন উপায় খুঁজতে শুরু করেছে। বলতে শুরু করেছে, সাকিব টসে জিতেও ভারতের হাতে জয় তুলে দিয়েছে। ভারতকে জিতাবার জন্যই সে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছে। শুনতে পাচ্ছি, সাকিব নাকি এখন ভারতের এজেন্ট। বাংলাদেশের কোচও ভারতের এজেন্ট। তবে এটা ঠিক যে, সাকিবের ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্তকে অনেকেই ভুল হিসেবে বিবেচনা করছেন। তা বিবেচনা করাই যেতে পারে, এ নিয়ে বিশ্লেষণও হতে পারে। কিন্তু তাই বল, প্রিয় সাকিব একদিনেই ভারতের দালাল হয়ে গেল? তাই এসব প্রতারক, বাংলাদেশের গুপ্ত শত্রু, সুযোগ সন্ধানী শ্বাপদদের থেকে সতর্ক থাকাই উচিত বলে আমি মনে করি।