ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 
nagarNabya

কয়েকদিন আগের কথা। বই মেলায় ঢুকেই চলে গেলাম শ্রাবণ প্রকাশনীর স্টলে। স্টলের ভেতর দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনজন আর আমি স্টলের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই চোখে পড়লো কালো জমিনে অঙ্কিত দৃষ্টিকারা নগর নাব্য। দেখেই হাতে তুলে নিলাম। উল্টে পাল্টে দেখলাম। এক কথায় অসাধারণ।

নগর নাব্যের শুরু প্রচ্ছদ দিয়ে। চমৎকার প্রচ্ছদ। ব্লগে প্রচ্ছদটা আগেই দেখেছিলাম। কিন্তু সেটাকে বাস্তবে দেখে মুগ্ধ হলাম আইরিন সুলতানার সৃজনশীলতার পরিচয় পেয়ে। নগর নাব্য নামটি কে দিয়েছেন তা আমি জানি না কিংবা হয়তো ভুলে গেছি কিন্তু এটাকেই এই সৃষ্টির উৎকৃষ্ট নাম বলে মনে হয়েছে।

স্টলের সামনে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে চাইনি। তাই দ্রুত মূল্য জানতে চাইলাম। জানলাম ১৭০ টাকা। দিয়ে দিলাম এবং কেটে পড়লাম।

বাসায় ফিরে যখন নগর নাব্য পরখ করছিলাম তখন বুঝতে পারছিলাম ভাল লাগার একটি অনুভূতি কাজ করছিল নিজের মধ্যে। জাতীয় দৈনিকগুলোর সাহিত্য পাতায় কিংবা উপসম্পাদকীয় বিভাগে কিংবা সাহিত্য ম্যাগাজিনে লেখা প্রকাশিত হবার স্বাদ আমার কাছে এখন বেশ পুরোনো হয়ে গেছে কিন্তু তারপরও কেন জানি নগর নাব্যে আমার লেখাটি দেখে পুরোনো সেই স্বাদকে নতুন করে আস্বাদন করলাম। হয়তো এই কারণে যে, বাসন্ত বিষুব নামে এটাই আমার মলাটবদ্ধ প্রথম লেখা। নিজের লেখাটি দেখে আমার মনে হলো আমিও এই নগর নাব্যের একটি অংশ। তাই ধন্যবাদ জানাই সম্পাদক মন্ডলীকে যারা আমার লেখাটিকে নগর নাব্যে ঠাই দেবার উপযুক্ত বলে মনে করেছেন। বিশেষভাবে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই ব্লগার ম, সাহিদকে, যিনি আমার অনাগ্রহ সত্বেও স্বপ্রণোদিত হয়ে আমার কয়েকটি লেখার লিংক প্রাথমিক বাছাই কমিটির কাছে প্রস্তাব করেছিলেন।

একটি গ্রন্থের যে অংশে উৎসর্গ কথাটি লিপিবদ্ধ থাকে সেখানে নগর নাব্য উত্থাপন করেছে চারটি দাবি কিংবা প্রত্যাশার কথা। বলা হয়েছে, বন্ধ হোক- শিরশ্ছেদ প্রথা, সড়ক মৃত্যু, বিএসএফ ত্রাস ও সাইবার সন্ত্রাস। এটি একটি নতুনত্ব। এটি নগর নাব্যের একটি বিশেষত্ব। বিষয়টি ভাল লেগেছে আমার কাছে। আর প্রতিটি লেখার ক্যাটেগরি এবং লেখকের ব্লগ লিংক ও লেখা প্রকাশের তারিখ সংযুক্তিটাও নগর নাব্যকে দালীলিক মর্যাদা দিয়েছে। তাছাড়া প্রতিটি লেখার বিপরীতে বাছাইকৃত যে মন্তব্যগুলি যুক্ত করা হয়েছে তা নগর নাব্যের আরেকটি প্রশংসনীয় দিক বলে আমি মনে করি।

আমি ভেবেছিলাম নগর নাব্যের কাগজ সাধারণই হবে। কিন্তু আমার সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ভেতরের কাগজ ও রঙ নগর নাব্যের সৌন্দর্যকে যেমন বাড়িয়ে তুলেছে অনেকগুণে তেমনি এই সৃষ্টির পেছনের কারিগরদের আন্তরিকতাকে প্রকাশ করেছে দৃঢ়তার সাথে।

মানুষের প্রতিটি কাজেই কিছু না কিছু ত্রুটি থাকে, নগর নাব্যেও আছে। এই গ্রন্থে সংযুক্ত ছবিগুলো খানিকটা অস্পষ্ট, এগুলো আরো স্পষ্ট হলে ভাল লাগতো। তাছাড়া প্রতিটি পৃষ্ঠার নিচে পৃষ্ঠা নম্বরের সাথে নগর নাব্যের যে পরিচয় (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ব্লগ সংকলন) তুলে ধরা হয়েছে তাতে সংকলন বানানটি ভুল ছাপা হয়েছে। এটা মুদ্রণজনিত ত্রুটি বলেই মনে করি, কারণ বইয়ের শুরুতে এই বাক্যটি সঠিকভাবেই ছাপা হয়েছে।

যাই হোক, সব মিলিয়ে নগর নব্য বিডিনিউজ ব্লগের জন্য একটি অসাধারণ সৃষ্টি। এর সাথে সম্পৃক্ত সবাইর জন্য রইলো আমার আন্তরিক ধন্যবাদ।