ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

১২ মার্চ এগিয়ে আসছে কিংবা ঘনিয়ে আসছে রাজনীতির আকাশে। বাড়ছে আগ্রহ, বাড়ছে উদ্বেগ। আগ্রহটা সাধারণত জনতার আর উদ্বেগটা সরকারের। হ্যাঁ, অবস্থাদৃষ্টে তেমনটাই মনে হচ্ছে। প্রাথমিক বিবেচনায় বিরোধী দলের ১২ তারিখের কর্মসূচী সফল হয়েছে। সফল বলছি দুটি কারণে এবং কারণ দুটি উপরে বলা হয়েছে। একটি আন্দোলন কর্মসূচীকে পালিত হবার আগেই সফল বলা যায় যদি সেই কর্মসূচী জনতার মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে এবং যদি যাদের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন তাদের ভীত কিংবা উদ্বিগ্ন করে তুলতে পারে। ১২ মার্চকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন এ দুটো কারণই স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। অর্থাৎ জনতা উৎসুক এবং সরকার উদ্বিগ্ন।

ঢাকা চলো কর্মসূচী প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগের কিছু ছোট মাপের নেতা বেশ বড় মাপের কথা বলেছেন এবং এখনো বলছেন। জনাব কামরুল ও জনাব হানিফ এই কর্মসূচীকে নিয়ে অনেকটা রাজাকে টপকিয়ে রাজনীতি করার মত আচরণ করেছেন। তারা বিভিন্ন হুমকী-ধামকী দিয়েছেন এবং ১২ তারিখে ঢাকার রাজপথ দখলের ঘোষণা দিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু মিডিয়া ও সুশীল সমাজের চাপে পড়ে সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে দলটি। এখন তারা ১২ তারিখের পরিবর্তে ১৪ মার্চ মাঠ দখলের চিন্তা করছে। এই সরে আসাটা ইতিবাচক, রাজনীতির জন্য মঙ্গলজনক। আওয়ামী লীগের এই সিদ্ধান্তে অন্তত এটুকু বলা যায় যে, রাজনীতির ময়দান থেকে মহাবিপদ সংকেত আপাতত উঠে গেছে।

কিন্তু এই বিপদ সংকেত উঠে গেলেও উদ্বেগ কিন্তু মোটেও কমেনি। বিশেষকরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করতে গিয়ে যেভাবে এবং যে সুরে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সরকার এখনো উদ্বিগ্ন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বুঝাতে চেয়েছেন, বিগত রোডমার্চসহ (তার ভাষায় কার র‌্যালী) বিরোধী দলের যে কোন আন্দোলন কর্মসূচী ইচ্ছা করলেই তিনি ভন্ডুল করে দিতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি হুশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, ১২ মার্চ বিরোধী দল উল্টাপাল্টা কিছু করলে তাদের খবর আছে। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে হয় এই কারণে যে, তিনি বিরোধী দলের আন্দোলনকে সামর্থ থাকা সত্বেও ভন্ডুল করেননি। কিন্তু পাশাপাশি তাকে এই প্রশ্নও করতে ইচ্ছা করে যে, সেই ভন্ডুল করার ইচ্ছা তার মনে জাগ্রত হবে কেন? বিরোধী দলের আন্দোলনকে ভন্ডুল করার মানসিকতা কী গণতন্ত্র সমর্থন করে? তাছাড়া তিনি বিরোধী দলকে খবর করে দেবার যে হুশিয়ারি দিয়েছেন সেটা তো তার বা তার সরকারের বেলাতেও প্রযোজ্য। বিরোধী দল যদি উল্টাপাল্টা কিছু করে তবে আইনসঙ্গতভাবে তা প্রতিহত করার অধিকার তার রয়েছে কিন্তু এই খবর করতে গিয়ে তিনি নিজেও যদি উল্টাপাল্টা কিছু করে বসেন তবে সেটা কি তার জন্য ভাল হবে! এই পাল্টাপাল্টি উল্টাপাল্টার ফল কি তার উপরও বর্তাবে না? দুই দলের উল্টাপাল্টা আচরণে কী তৃতীয় কোন পক্ষ সুযোগ নেবার চেষ্টা করবে না?

সুতরাং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে মনে রাখতে হবে, বিরোধী দল যদি উল্টাপাল্টা কিছু করার চেষ্টা করে তবে তার মোকাবেল সোজা পথেই করতে হবে, উল্টা পথে নয়। মনে রাখতে হবে বিরোধী দলের খবর করতে গিয়ে যেন সরকারের ও জাতির খবর হয়ে না যায়।