ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, আগামী জুনে বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এ সম্পর্কীত একটি কৌশলগত ছকও নাকি নীতি নির্ধারকরা তৈরি করা কাজে লেগে পড়েছেন। আর এই ছক অনুযায়ী আন্দোলনের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে বিভিন্ন মৌলবাদী দল ও সংগঠন। বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে তার বিরুদ্ধে কর্মসূচী দেয়াই হবে এই সব সংগঠনের মূল কর্মসূচী। তাদের আন্দোলনের কারণে উত্তপ্ত রাজনৈতিক ময়দানে সুযোগমত ঝাপিয়ে পড়বে বিএনপি। জামাতকে এখনো প্রত্যক্ষভাবে জড়িত করার কথা পাকাপোক্ত না হলেও এই স্বাধীনতা বিরোধী দলটিও বিভিন্নভাবে সহায়তা করবে বলে জানা গেছে।

কিন্তু কথা হলো, এ দেশের মানুষ ধর্মের প্রতি অনুরাগ লালন করে ঠিকই তবে বাস্তবতা বলে যে, ঐসব কথিত ইসলামী দলগুলকে জনগণ মোটেই আস্থায় নেয় না এবং তাদের কার্যক্রমও পছন্দ করেনা। কারণ ইতিপূর্বে দেশের উন্নয় কিংবা অগ্রযাত্রায় এদের কোন সম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা যায়নি। বরং ঐতিহাসিকভাবে সামরিক ও বিভিন্ন অবৈধ সরকারকে বৈধতা দেয়াই তাদের মূল কাজ বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তাছাড়া লালনের ভাস্কর্যের মত সামান্য ব্যপারে ধর্মের রঙ লাগিয়ে তারা এমনসব কাজে নিজেদের জড়িত করেছে যা আধুনিক মনষ্ক মানুষ ভালো চোখে দেখেনি। আমি যতদূর জানি, বর্তমান প্রজন্মের অধিকাংশ মানুষই এদেরকে সমাজের বিষফোঁড় হিসেবে বিবেচনা করে। আর জামাতের কথা তো বলাই বাহুল্য। গত নির্বাচনে স্বাধীনতা বিরোধী এই দলটিকে বাদ না দিতে পারার ব্যর্থতার কারণেই বিএনপির এতো ভরাডুবি।

বেগম খালেদা জিয়াকে মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ধর্মনিরপেক্ষতা, আধুনিকতাকে মানসিকভাবে গ্রহণ করেছে এবং প্রত্যাখ্যান করেছে ধর্মীয় গোড়ামী ও পশ্চাৎপদতাকে। সুতারাং আন্দোলন সৃষ্টির ক্ষেত্রে এইসব পরিত্যাক্ত আদর্শের সংগঠনকে সাথে নিলে তাতে তরুণ সমাজের কোন সমর্থন পাওয়া যাবেনা। ফলে আন্দোলন হবে ব্যর্থ ও অর্থহীন। তাই বেগম জিয়ার উচিত এই সমস্ত সুযোগসন্ধানী গোড়া সংগঠনগুলোকে বাদ দিয়েই আন্দোলন করা ও জনগণের সমর্থন প্রত্যাশা করা।