ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

কিছুটা অব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়েই শেষ হয়েছে বহুল আলোচিত ত্রিজাতি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অব্যবস্থাপনা বললাম এই কারণে যে, আমি যতটুকু দেখার সময় পেয়েছি ঠিক ততটুকুতেই দেখেছি, একেকটা পর্ব শুরু করতে বেশ কালক্ষেপন হয়েছে। সম্ভবত এত বড় অনুষ্ঠান আয়োজনে বাংলাদেশীদের অনভিজ্ঞতার কারণেই এমন হয়েছে। অনুষ্ঠানটি ভারতে হলে আরো গতিশীল হতো। বড় বড় অনুষ্ঠান আয়োজনে ভারতের জুরি নাই। তাছাড়া কোন ভারতীয় স্টেজ শোতে আমি দেখিনি যে তাদের বারবার মাইক্রোফোন টেস্ট করতে হচ্ছে। বাংলাদেশে তাই করতে হয়েছে। কিন্তু তারপরও এটি একটি সফল সংস্কৃতি বিনিময় অনুষ্ঠান।

সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় দিক হলো, অনুষ্ঠানটি যেভাবে অপপ্রচারের সম্মুক্ষিণ হয়েছিল সে রকম কিছুই এতে দেখা যায়নি। শাহরুখ খানের অনুষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন চ্যানেলে দেখা বলিউড তারকাদের লাইভ শো’র মত বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এটি। তাছাড়া বাংলাদেশকে অপমান করা হয়েছে এমন কোন ঘটনা কিংবা মন্তব্যও এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। অনেকে অবশ্য প্রচার করেছিলেন যে, চরম অশ্লীলতার এক বাস্তব উদাহরণ হবে আজকের বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। এমনকি আসমানী গযবও নাজিল হতে পারে। কিন্তু যা দেখতে দেখতে আমাদের চোখে সয়ে গেছে তার চেয়ে বেশি কিছু এতে ছিল না বলেই আমার মনে হয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো, কোন সংস্কৃতিকেই, তা আমাদের দৃষ্টিতে যতই অশ্লীল হোক না কেন- পথ রোধ করে তার প্রবেশ ঠেকানো যায়না। কারণ সংস্কৃতির অস্তিত্ব অবস্তুগত। এটি স্বাভাবিক কিংবা প্রকাশ্য পথে প্রবেশ করতে না পারলে গোপন পথ দিয়ে ঠিকই অনুপ্রবেশ করবে। তাই আমার মতে আজকের এই অনুষ্ঠানটি ইতিবাচক। কারণ এতে আমাদের দেশের মানুষ প্রকাশ্যেই ভিন্ন দুটি দেশের বিনোদন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হবে এবং পছন্দ না হলে পরবর্তীতে তা বর্জন করবে। আর যদি তারা এই প্রক্রিয়াকেই বেছে নেয় তবে কারো কিছু বলার থাকে বলে আমার মনে হয়না।