ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

কী ভয়াবহ আমাদের মানসিকতা। কী অদ্ভুত আমাদের বিবর্তন। বণিক হিসেবে অতীতে বাঙালী মুসলমানদের তেমন কোন সুখ্যাতি ছিল বলে জানা যায় না। তাহলে তাদের একটি অংশ কিভাবে আজ এতো ঝানু ব্যবসায়ী হয়ে উঠলো! তারা এখন ব্যবসা করে ধর্ম নিয়ে, আবেগ নিয়ে। ইদানিং ব্যবসা করছে বছর দুয়েক আগে ঘটে যাওয়া বিডিয়ার বিদ্রোহ নিয়ে।

পিলখানায় বিডিয়ার সৈনিকদের যে বিদ্রোহ তা শেষ পর্যন্ত উন্মাদনায় রূপ নিয়েছিল। একথা বোধ করি কেউ অস্বীকার করবে না। এই উন্মাদনার রূঢ় ফল হিসেবে প্রায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে নতি স্বীকার করতে হয়েছিল একটি অনিবার্য সত্যের কাছে- মৃত্যু। পৃথিবীর অন্য একটি সাধারণ মানুষের মৃত্যু হলে সেটা তার পরিবারের কাছে যেমন শোক ও বিপর্যয়ের হয় এই সব সেনা কর্মকর্তাদের মৃত্যুও তাদের পরিবারের কাছে অনুরূপ হয়েছে। পার্থক্য শুধু একটাই, আমাদের মত গরীব রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তাকে হারাতে হয়েছে। এই হারাবার মূল্য অনেক। কিন্তু আমাদের প্রতিটি ঘটনাকেই আমরা দেখি এমন একটি সুউচ্চ পর্বতে দাঁড়িয়ে যা অলীক এবং বাস্তবতা থেকে ঢের দূরে। মঈন উ আহমেদের শাসনামলে এই ক্ষমতা লিপ্সু জেনারেল তার নিজ বাহিনীকে এমনভাবে পরিচালিত করেছিলেন যা তাদের জন্য কখনোই শুভ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেনা। দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতা সে সময় সেনাবাহিনীর ভেতর মাথাচারা দিয়ে উঠেছিল। দেশ রক্ষার নাম করে সেনাবাহিনীকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল লোভের অতল গহ্বরে। আর কে না জানে, ১/১১ পরবর্তী দুই বছরে সেনাবাহিনী যেভাবে বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করছিল তার প্রতিক্রিয়াতেই বিক্ষুব্ধ হয়েছিল বিডিয়ার এর সৈনিকেরা। তাদের হত্যাযজ্ঞকে সমর্থন করা যায়না কিন্তু বিডিআরের যে দাবি ছিল তার ন্যায্যতার প্রতি তাৎক্ষণিকভাবে দেশের অধিকাংশ মানুষই সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছিল। ডাল-ভাত কর্মসূচীর নামে কোটি কোটি টাকা বাগিয়ে নেয়া আর বিডিআর সদস্যদের নানা বঞ্চনার কথা কারো অজানা নয়।

কিন্তু দুঃখের বিষয় বাংলাদেশের একটি গোষ্ঠী একটি বাহিনীর অভ্যন্তরের এই বিদ্রোহের ঘটনাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে তুলে ধরার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারা এই ঘটনার জন্য একবার শেখ হাসিনা তো আরেকবার ভারতকে দায়ি করে। কিন্তু এই বিদ্রোহের মূল কারণ নিয়ে একবারও কথা বলেনা। এই গোষ্ঠীর অভিযোগ, শেখ হাসিনার ভুলের কারণেই এই ৫৭ জন কর্মকর্তাকে নিহত হতে হয়েছে। এমন চিন্তার লোকদের জন্য বলবো, দর্শক গ্যালারী থেকে সেঞ্চুরি করা যায় কিন্তু ব্যাট হাতে মাঠে নামালে শূন্য রানে সাজ ঘরে ফিরতে হবে। শেখ হাসিনা যদি ঐ সময় সামরিক অভিযান চালাতেন তাহলে এই যুদ্ধময় অবস্থায় সেখানে আরো সেনাকর্মকর্তা নিহত হতেন। নিহত হতেন তাদের স্ত্রী ও সন্তানরাও। নিহত হতে পারতেন আশে পাশের আবাসিক মানুষ। তখন হয়তো নিহতের সংখ্যা হতো ১৫৭ কিংবা ২৫৭। এটা কি খুব সুখের হতো। এতে কি দুঃখ কিছুটা কমে আসতো। নাকি ঐ গোষ্ঠীর সুবিধা হতো সরকারকে আরো বেশি বেশি গালি দেবার, মানুষের আবেগকে পুঁজি করে ব্যবসা করার? নাকি তারা ভেবেছিল, এই রক্তপাতের প্রতিক্রিয়াতে পতন হবে সরকারের!