ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সরষের ভেতর ভুত। কথাটা এখন আর শুধু কিতাবের নয়, বাস্তবেরও। আর মিঠা কথা যে বেশি দিন মিঠা থাকে না, সে কথা প্রমাণ করে দিয়েছেন আমাদের সরস রেলমন্ত্রী। মন্ত্রী হবার আগে মিঠা কথার ফোয়ারা ছুটেছে ওনার মুখ দিয়ে। সে কী কথা! নীতি কথা, বাকা কথা, তেতো কথা; মিঠা কথা। সে কী শব্দ চয়ন! সক্রেটিস-ভলতেয়ারকেও হার মানায়। আর এখন! ক্ষমতায় যখন! সব শেয়ালের এক রা। এ দায়িত্ব আমার না; আমার জানার কথা না; এপিএস বাবু টাকা নিয়ে ঘুড়তেই পারে; টাকা নিয়ে ঘুরার অধিকার সবারই আছে।

কিন্তু সুরঞ্জিত বাবু, যে টাকা নিয়ে আপনার এপিএস বাবু গাড়ি হাকাচ্ছিলেন সে টাকা কী তার? কোন আমলের জমিদার তিনি? তার বংশ পরিচয় কী? জমিদার হলে এপিএসগিড়ি করতে এসেছেন কেন? জমিদারি দেখাশুনা করলেই তো পারেন।

দেবতাকে ভোগ না দিয়ে প্রসাদ খাওয়া যায়না। এটা কী আমরা জানিনা! আপনার এপিএসের গাড়িতে বস্তাভর্তি যে টাকা পাওয়া গেল সে টাকা কার কাছে যাচ্ছিল? কার জন্য আনা হয়েছিল? প্রায় সবগুলো সংবাদ মাধ্যমে এই তথ্য স্পষ্ট করে এসেছে। ঐ টাকা আপনার জন্যই আনা হয়েছিল, ওগুলো আপনার ভোগের টাকা।

মাননীয় মন্ত্রী, মন্ত্রী হয়েই ঘোষণা দিয়েছিলেন রেলের কালো বিড়াল ধরবেন। রেলকে বাঁচাবেন। কিন্তু সময়ের কী নিষ্ঠুর পরিহাস! কালো বিড়াল ধরতে গিয়ে আপনি নিজেই কবে কালো বিড়াল হয়ে গেছেন তা টের পাননি। কিন্তু ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। আহাম্মক পাবলিক কিন্তু ঠিকই জেনে গেছে আপনার রঙ বদলাবার গল্পটা। শুরুতে এপিএসকে বাঁচাতে চেষ্টা করেছেন কিন্তু সমালোচনার ভয়ে কিংবা থলের বিড়াল বের হয়ে যাবার শংকায় তাকে বরখাস্ত করেছেন। কিন্তু এতে পাবলিকের মন বদলাবে না। লাজ-লজ্জা বলে কিছু থাকলে পদত্যাগ করুণ। জিয়া পুত্র তারেক-কোকোকে নিয়ে তো মুখে কম ফেনা তুলেননি। কিন্তু সেই ফেনা আজ আপনি নিজেই গিলে ফেলেছেন। এজন্যই বাঙালী অসহায়। এজন্যই বাঙালী ধরা খায়। ধরা আপনিও খেয়েছেন, ধরা আমরাও খেয়েছি। বিশ্বাসের পাত্র বলে এদেশে আর কেউ নেই। আফসোস!

কিন্তু আরো একটা আশংকা আমার মনে দানা বেধে উঠছে। আপনি তো আবার হাওয়া ভবন থিওরি অনুসরণ করছেন না? ভোগ নিতে গিয়ে তো আবার প্রধানমন্ত্রীর নামটা ব্যবহার করছেন না! কেই বা জানে! তলে তলে তো কত কিছুই হয়। তবে মনে রাখবেন, পাবলিকও কিন্তু তলে তলে অনেক কিছু করে। ক্ষণে ক্ষণে তারা কিন্তু কালা বিলাইও পিটাইয়া মারে। তাই সাধু সাবধান!