ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

সাদা মনের মানুষ বলে আমাদের দেশে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে। শুরুতে কিছু নিভৃতচারী সৎ মানুষকে এই খেতাবে ভূষিত করা হলেও পরে এর বাণিজ্যিক রূপও দেখা গেছে। যদি ভুল না করি, তবে এই প্রত্যয়টির বাণিজ্যিকীকরণ করেছিল সেনানিয়ন্ত্রিত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। নিজেদের কুকর্মকে জায়েজ করতেই হয়তো তাদের প্রয়োজন হয়েছিল কিছু ভাল কাজের। আর সারা দেশ থেকে সাদা মনের মানুষ খুঁজে বের করা ছিল এই ভাল কাজের অংশ।

শুধু সাদামনের মানুষই নয়, সাদামনের রাজনীতিবিদ নামক একটি ধারণাও মোটামোটি প্রচ্ছন্নভাবে প্রচলিত রয়েছে আমাদের দেশে। রাজনীতি নিয়ে, রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন নিয়ে যে সব রাজনীতিবিদরা ক্ষণে ক্ষণে সাধু কথা বলেন মূলত তাদেরই এই ক্যাটাগরিতে বিবেচনা করা হয়। যদিও এই ক্যাটাগরির অধিকাংশ রাজনীতিবিদই সাদা হয়েছেন বঞ্চিত হবার পর। রাজনীতিতে তাদের সক্রিয় দিনগুলোর কথা এবং নিস্ক্রিয় দিনগুলোর কথার তফাৎ অনেক। এর সাম্প্রতিক নজির সুরঞ্জিত বাবু।

রাজনীতিতে হালে আরো একজন ব্যক্তি সাদামনের রাজনীতিবিদ বলে বেশ খ্যাতি কুড়িয়েছেন। তিনি পদপদবী ও দলীয় প্রধানের আশীর্বাদ বঞ্চিত আওয়ামী লীগ নেতা জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না। সুরঞ্জিত বাবুর সাথে আমি মান্না ভাইকে তুলোনা করতে চাইনা। কিন্তু তার পরও তার বর্তমান রাজনীতি-বিচ্ছিন্নতার ইতিহাস আমাদের সবারই জানা আছে। তাই সে ইতিহাস উল্লেখ না করলেও চলবে। বাংলাদেশের একজন নাগরিক ও ভোটার হিসেবে তার প্রতি আমার বিশেষ সমর্থন আছে। আমি তার রাজনৈতিক কল্যান কামনা করি।

জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না রাজনীতি থেকে অনিচ্ছায় বিচ্ছিন্ন হবার পর মনোযোগী হয়েছিলেন টিভি টক শোতে। টক শোগুলোতে তিনি উপস্থিত হয়েছেন আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এবং যথারীতি সাধু বক্তব্য দিয়ে হয়েছেন আলোচিত ও প্রশংসিত। সম্ভবত একজন নন্দিত আলোচক হবার স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি সুযোগ পেয়েছিলেন আলাদা একটি টক শো উপস্থাপনা করার। তার সেই টক শোটি এখনো চলছে বাংলাভিশন-এ। বলার অপেক্ষা রাখেনা, টক শোটি যথেষ্ট দর্শকপ্রিয় এবং তার উপস্থাপনাও প্রশংসনীয়।

আজকে মান্না ভাই দ্বিধাবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের উত্তর অংশ থেকে মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। তার নির্বাচন করার খবরটি অনেক পুরোনো। আজকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মধ্য দিয়ে সেই পুরোনো খবর নিশ্চিত হলো। অর্থাৎ মান্নাভাই এখন একজন ভোটপ্রার্থী। ভোটের জন্য তিনি এখন থেকে প্রচারণা চালাবেন এবং অন্য প্রার্থীদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে নির্বাচিত হবার চেষ্টা করবেন।

এই অবস্থায় বাংলাভিশনের মত একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে টক শোটি চালিয়ে যাওয়া কতটুকু যুক্তিসংগত হবে, তা নিয়ে ভাববার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি। কারণ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করা এক অর্থে নির্বাচনী প্রচারণা। তাছাড়া ভোটের ময়দানে এই অনুষ্ঠানটি তার জন্য বিশেষ সুবিধাও এনে দেবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। এটা নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করেবে বলেই আমি মনে করি। অর্থাৎ যে কাজটি অন্য প্রার্থীরা করার সুযোগ পাচ্ছেন না সে কাজটি যদি মান্না ভাই এককভাবে করেন তাহলে সেটা কোন ভাবেই ন্যায়সঙ্গত হবে না।

তাই মান্না ভাইয়ের প্রতি আমার আহ্বান, স্বচ্ছতা ও সমতার স্বার্থে সিটি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বাংলাভিশনের টক শো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা থেকে বিরত থাকুন। এতে অন্তত প্রমাণিত হবে আপনার রাজনৈতিক দর্শন সাদা ও ভারসাম্যপূর্ণ।