ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আজকের সারা দিনের একমাত্র আলোচ্য বিষয় বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুম বা নিখোঁজ হবার ঘটনা। দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে কতটা খারাপ পর্যায়ে গেছে ইলিয়াস আলীই তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। কী ভয়াবহ অবস্থা আমাদের দেশের! একটি বড় দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও একটি জেলার সভাপতি কী অনায়াসেই নিখোঁজ হয়ে গেলেন। একজন মানুষকে গুম করে দেওয়া এ দেশে যেন পানিভাত। শুধু নুন হলেই গিলে ফেলা যায়।

বড় আশ্চর্য আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো। ২৪ ঘন্টা পার হয়ে গেল অথচ এই উদ্বেগজনক ঘটনার এক আনা তথ্যও বের করতে পারলো না। ভাগ্য ভাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবার কোন সময় বেধে দেননি। সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেফতারের সেই ৪৮ ঘন্টা এখনো শেষ হয়নি, আর ইলিয়াস আলীরটা তো কেবল শুরু!

আজকের এই আলোচিত বিষয়টি নিয়ে অনেক ধরণের মতামত শুনা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, দলীয় কোন্দলের কারণেই দলের লোকেরা গুম করে দিয়েছে। পদ দখলের রাজনীতিই ইলিয়াস আলীর ভাগ্যকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। আবার কেউ কেউ, বিশেষ করে সাংবাদিক ও বিরোধী রাজনীতিবিদরা বলছেন, সুরঞ্জিত বাবুর অর্থ কেলেংকারী থেকে দৃষ্টি ঘুরাতেই সরকার কিংবা সরকারের একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে ইলিয়াস আলীকে গুম করে রেখেছে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের কেলেংকারী নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা এতোটাই অসহনীয় হয়ে উঠেছিল যে, সরকার বাধ্য হয়েছে এমন একটি ঝুকিপূর্ণ ও নির্দয় সিদ্ধান্ত নিতে। তবে এই মত যারা দিয়েছেন তারা বলছেন, সম্ভবত ইলিয়াস আলী এখনো বেঁচে আছেন। সময় হলেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। তাদের ভাষায় সরকারের এই মহলটি চাইছে, পুরো রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইলিয়াস আলী নির্ভর হয়ে পড়লে রেলমন্ত্রীর অর্থ কেলেংকারীর ঘটনা চাপা পরে যাবে এবং তারপরই আরো একটি নাটকের মধ্যে দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

এই ধরণের বক্তব্যের কোন ভিত্তি নেই জানি কিন্তু বিষয়টা ভেবে দেখার মত। কারণ বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে এই ধারণাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে সত্যিই যদি এমন কিছু ঘটে থাকে তবে এর শেষ কোথায়? এই ঘটনার সমাপ্তি কীভাবে হবে? ইলিয়াস আলী কী ফিরে আসবেন নাকি তাকে আর কখনোই ফিরে পাওয়া যাবে না? ঘটনাটি সাজানোই হোক আর কোন অপরাধীচক্রেরই হোক, এরকম ঘটনার ভবিষ্যত কী আরো ভয়াবহ নয়!